বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত হিফজুল কোরআন বিভাগে তিন জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী মোসাম্মৎ ফাতেমা (১৪)।
তিনি উপজেলার নিমসার মোকাম ইউনিয়নের পাঁচকিত্তা (হক মেম্বার বাড়ি) এলাকার মো. শহীদুল ইসলাম ও পারভীন আক্তারের বড় মেয়ে। চান্দিনার উম্মে হানি (রাঃ) মহিলা মাদরাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি এ কৃতিত্ব অর্জন করেন। তার এ সাফল্যে শিক্ষক, অভিভাবক, আলেম সমাজ ও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিনন্দন জানিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০২৬ সালে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে সারা দেশ থেকে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে তাহফিজুল কোরআন স্তরে চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার হাজারো শিক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন হাফেজা মোসা. ফাতেমা।
তার রোল নম্বর ছিল ২৬৬০ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১০৩০৪৬। কওমী শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা যায়, হিফজ (ইয়াদ), তাজভীদ ও দীনিয়াত (মৌখিক) বিষয়ে মোট ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় তিনি ১৯৮ নম্বর পেয়ে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন।
মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, “ফাতেমা অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মেধাবী ছাত্রী। নিয়মিত অধ্যয়ন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব এবং আত্মনিবেদনই তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে। আল্লাহ যেন তাকে দ্বীনের প্রকৃত খাদেম হিসেবে কবুল করেন।”
স্থানীয় আলেম ও ময়নামতি দারুসসুন্নাত আলিম মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী মাওলানা ফারুক আহমেদ বলেন, “এ ধরনের অর্জন একটি এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। আমরা তার ভবিষ্যৎ জীবনের আরও সাফল্য কামনা করছি।”
ফাতেমার বাবা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “ছোটবেলা থেকেই সে পড়াশোনায় মনোযোগী। তাকে খুব বেশি শাসন করতে হয়নি। সে সবসময় বড়দের কথা শুনতো এবং নিয়ম মেনে চলতো।”
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ফাতেমা বলেন, “আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি এই ফলাফল অর্জন করেছি। বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ ও প্রকৃত আলেম হতে চাই। ইসলাম ও মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। সবার কাছে দোয়া কামনা করছি।”
Reporter Name 




























