Dhaka ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযান, ৬৬৪ বোতল মাদকসহ যুবক গ্রেফতার হামলার ক্ষতিপূরণ চায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল রাঙ্গামাটির ফারুয়া বাজার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ পপি ও বিষ্ণুপুর থানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী বৃন্দের সাথে মতবিনিময় করলেন নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম চরভদ্রাসনে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার তিন যুবকের তিন মাসের কারাদণ্ড ময়মনসিংহ নান্দাইলের আবু তাহের এর দায়েল কৃত মামলা হাত থেকে রেহাই পেতে চায় দুলাল পরিবার বর্গ বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা ঢাকাগামী বাসে ৯২ হাজার ইয়াবা, আটক হেল্পার রাউজানে বিভিন্ন ইউনিয়ন এর পানিবন্দী মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে উপজেলা যুবদল
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

প্রতিদিন রাত আসে

প্রতিদিন রাত আসে

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

মহা বিশ্বের সব দেশে প্রতিদিন রাত আসে, মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাত আসে, আল্লাহ এই রাত কে মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ বলেন,

আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত- ৩৩) মানুষের মধ্যে কেউ এই রাতে ঘুমিয়ে পড়ে, কেই এই রাতে সিনেমা দেখে কাটিয়ে দেয়, কেউ এই রাতে নারীর সাথে অবৈধ মেলা মেশা করে, কেউ এই রাতে নাইট ক্লাবে আনন্দ উপভোগ ও নাস গান করে, কেউ এই রাতে জুয়া খেলে কাটিয়ে দেয়, কেউ এই রাতে মাদক গাঁজা ইয়াবা পান করে, কেউ এই রাতে চুরি ডাকাতি খুন খারাপি ও চিনতাই করে, অর্থাৎ বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা এই রাতে বিভিন্ন রকমের অপরাধ করে থাকে। আর যারা মানুষের মধ্যে আল্লাহর অলি, ঈমানদার মুমিন মুত্তাকী, তাঁরা এই রাতে আল্লাহ জিকির করে ও আল্লাহ কে ডেকে ও নামাজ পড়ে এই রাত কাটিয়ে দেয়। পূর্বে নবী রাসূলগণ সারা রাত না ঘুমিয়ে আল্লাহর জিকির করে রাত কাটিয়ে দিতো, সাহাবীরা ইসলাম প্রচার করার জন্য আফ্রিকাতে যেতেন, আফ্রিকা জঙ্গলে রাতের বেলা মাটির নিচ থেকে কুরআনের তেলোয়াতের আওয়াজ আসতো, সাহাবীরা কুরআন তেলোয়াতের আওয়াজ শুনে রাত কাটিয়ে দিতো। ভারত বর্ষে ইসলাম প্রচার করার জন্য লাখো লাখো অলি আউলিয়া ও সূফি দরবেশ গণ এসেছেন, তাঁরা জঙ্গলে ও বনে থাকতেন, তাঁরা সেখানে সারা রাত জিকির ও সাধনা করতেন। কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে কেকৈয়া গ্রামে একটি বাঁশের মুড়া ছিল, অর্থাৎ পাগল মুড়া নামে পরিচিতি ছিলেন, এইখানে এক আল্লাহর অলি হযরত শাহ গাজী রহ. এই বাঁশ মুড়ার মধ্যে সারা রাত জিকির করে কাটিয়ে দিতেন, তিনি ছিলেন হযরত শাহ জালাল ইয়ামেনী রহ. এর সাথী। হযরত শাহ গাজী রহ. এর বংশধর অলিয়ে কামেল হযরত নজির আহমেদ রহ. সারা রাত বাহিরে বসে বসে জিকির করতেন, সারা কেকৈয়া গ্রামে তাঁর জিকিরের আওয়াজ শুনা যেত। এভাবে অলি আউলিয়ারা জিকির ও সাধনা করে রাত কাটিয়ে দিতেন। আল্লাহ বলেন,

আরও পড়ুনঃ  বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি, বাঁশখালীতে আমীরে জামায়াত

আর যারা তাদের রবের জন্য সিজদারত ও ‎‎দণ্ডায়মান হয়ে রাত্রি যাপন করে। (সূরা ফুরকান, আয়াত- ৬৪) আল্লাহ বলেন,

সেই ব্যক্তি ভালো, নাকি যে রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে এবং দাঁড়িয়ে ইবাদতে মশগুল থাকে ও পরকালের ভয় করে এবং তার পালনকর্তার রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী? (হে রাসূল আপনি) বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান। (সূরা যুমার, আয়াত- ৯) আল্লাহ বলেন, তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত, রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত। (সূরা যারিয়াত, আয়াত- ১৭, ১৮)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ রাতে জেগে আল্লাহর কাছে দোয়া করে, আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করেন। আর যদি ওই ব্যক্তি ওজু করে এবং নামাজ আদায় করে তবে সে নামাজও কবুল করা হয়। (বুখারি, মিশককাত)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি দুইটি কাজ নিয়মিত করতে পারে তাহলে জান্নাতে প্রবেশ করবে। কাজ দুইটি খুবই সহজ কিন্তু করার মানুষ খুব কম। প্রথমত, প্রত্যেক সালাতের পরে ১০ বার সুবহানাল্লাহ’ ১০ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ ‘ ও ১০ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। এতে ১৫০ বার জিহ্বার জিকর হবে এবং আল্লাহর কাছে আমলনামায় বা মিজানে ১৫০০ সাওয়াব হবে। দ্বিতীয়ত, বিছানায় শয়ন করার পরে ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’, ৩৩ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ ও ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। এতে মুখে ১০০ বার ও মিজানে ১ হাজার বার হবে। রাসুল (সা.) আঙুলে গুনে গুনে তা দেখান। সাহাবিরা প্রশ্ন করেন, ‘এই দুইটি কর্ম সহজ হওয়া সত্ত্বেও পালনকারী কম কেন?’ তিনি উত্তরে বলেন, ‘কেউ শুয়ে পড়লে শয়তান এসে এগুলো বলার আগেই ঘুম পাড়িয়ে দেয়। সালাতের পরে এগুলো বলার আগেই তাকে তার বিভিন্ন কথা মনে করিয়ে দেয়।’ (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান, তারগিব) আয়াতুল কুরসি বোখারি বর্ণিত হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে, কেউ রাতে বিছানায় শয়ন করার পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে সারা রাত আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে হেফাজত করা হবে এবং কোনো শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না। আসুন আমরা সারা রাত জেগে আমল করে আল্লাহর অলি ও ঈমানদার হয়ে জান্নাতে যাবো, আমিন।

আরও পড়ুনঃ  মিশরের বিপক্ষে ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কাতার বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি

লেখক: আলেম,গবেষক।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযান, ৬৬৪ বোতল মাদকসহ যুবক গ্রেফতার

প্রতিদিন রাত আসে

সময়: ১০:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

প্রতিদিন রাত আসে

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

মহা বিশ্বের সব দেশে প্রতিদিন রাত আসে, মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত রাত আসে, আল্লাহ এই রাত কে মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ বলেন,

আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত- ৩৩) মানুষের মধ্যে কেউ এই রাতে ঘুমিয়ে পড়ে, কেই এই রাতে সিনেমা দেখে কাটিয়ে দেয়, কেউ এই রাতে নারীর সাথে অবৈধ মেলা মেশা করে, কেউ এই রাতে নাইট ক্লাবে আনন্দ উপভোগ ও নাস গান করে, কেউ এই রাতে জুয়া খেলে কাটিয়ে দেয়, কেউ এই রাতে মাদক গাঁজা ইয়াবা পান করে, কেউ এই রাতে চুরি ডাকাতি খুন খারাপি ও চিনতাই করে, অর্থাৎ বিভিন্ন বয়সের মানুষেরা এই রাতে বিভিন্ন রকমের অপরাধ করে থাকে। আর যারা মানুষের মধ্যে আল্লাহর অলি, ঈমানদার মুমিন মুত্তাকী, তাঁরা এই রাতে আল্লাহ জিকির করে ও আল্লাহ কে ডেকে ও নামাজ পড়ে এই রাত কাটিয়ে দেয়। পূর্বে নবী রাসূলগণ সারা রাত না ঘুমিয়ে আল্লাহর জিকির করে রাত কাটিয়ে দিতো, সাহাবীরা ইসলাম প্রচার করার জন্য আফ্রিকাতে যেতেন, আফ্রিকা জঙ্গলে রাতের বেলা মাটির নিচ থেকে কুরআনের তেলোয়াতের আওয়াজ আসতো, সাহাবীরা কুরআন তেলোয়াতের আওয়াজ শুনে রাত কাটিয়ে দিতো। ভারত বর্ষে ইসলাম প্রচার করার জন্য লাখো লাখো অলি আউলিয়া ও সূফি দরবেশ গণ এসেছেন, তাঁরা জঙ্গলে ও বনে থাকতেন, তাঁরা সেখানে সারা রাত জিকির ও সাধনা করতেন। কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে কেকৈয়া গ্রামে একটি বাঁশের মুড়া ছিল, অর্থাৎ পাগল মুড়া নামে পরিচিতি ছিলেন, এইখানে এক আল্লাহর অলি হযরত শাহ গাজী রহ. এই বাঁশ মুড়ার মধ্যে সারা রাত জিকির করে কাটিয়ে দিতেন, তিনি ছিলেন হযরত শাহ জালাল ইয়ামেনী রহ. এর সাথী। হযরত শাহ গাজী রহ. এর বংশধর অলিয়ে কামেল হযরত নজির আহমেদ রহ. সারা রাত বাহিরে বসে বসে জিকির করতেন, সারা কেকৈয়া গ্রামে তাঁর জিকিরের আওয়াজ শুনা যেত। এভাবে অলি আউলিয়ারা জিকির ও সাধনা করে রাত কাটিয়ে দিতেন। আল্লাহ বলেন,

আরও পড়ুনঃ  উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বৃদ্ধি, স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

আর যারা তাদের রবের জন্য সিজদারত ও ‎‎দণ্ডায়মান হয়ে রাত্রি যাপন করে। (সূরা ফুরকান, আয়াত- ৬৪) আল্লাহ বলেন,

সেই ব্যক্তি ভালো, নাকি যে রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে এবং দাঁড়িয়ে ইবাদতে মশগুল থাকে ও পরকালের ভয় করে এবং তার পালনকর্তার রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী? (হে রাসূল আপনি) বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান। (সূরা যুমার, আয়াত- ৯) আল্লাহ বলেন, তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত, রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত। (সূরা যারিয়াত, আয়াত- ১৭, ১৮)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ রাতে জেগে আল্লাহর কাছে দোয়া করে, আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করেন। আর যদি ওই ব্যক্তি ওজু করে এবং নামাজ আদায় করে তবে সে নামাজও কবুল করা হয়। (বুখারি, মিশককাত)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি দুইটি কাজ নিয়মিত করতে পারে তাহলে জান্নাতে প্রবেশ করবে। কাজ দুইটি খুবই সহজ কিন্তু করার মানুষ খুব কম। প্রথমত, প্রত্যেক সালাতের পরে ১০ বার সুবহানাল্লাহ’ ১০ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ ‘ ও ১০ বার ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। এতে ১৫০ বার জিহ্বার জিকর হবে এবং আল্লাহর কাছে আমলনামায় বা মিজানে ১৫০০ সাওয়াব হবে। দ্বিতীয়ত, বিছানায় শয়ন করার পরে ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’, ৩৩ বার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ ও ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। এতে মুখে ১০০ বার ও মিজানে ১ হাজার বার হবে। রাসুল (সা.) আঙুলে গুনে গুনে তা দেখান। সাহাবিরা প্রশ্ন করেন, ‘এই দুইটি কর্ম সহজ হওয়া সত্ত্বেও পালনকারী কম কেন?’ তিনি উত্তরে বলেন, ‘কেউ শুয়ে পড়লে শয়তান এসে এগুলো বলার আগেই ঘুম পাড়িয়ে দেয়। সালাতের পরে এগুলো বলার আগেই তাকে তার বিভিন্ন কথা মনে করিয়ে দেয়।’ (আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান, তারগিব) আয়াতুল কুরসি বোখারি বর্ণিত হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি যে, কেউ রাতে বিছানায় শয়ন করার পরে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে সারা রাত আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে হেফাজত করা হবে এবং কোনো শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না। আসুন আমরা সারা রাত জেগে আমল করে আল্লাহর অলি ও ঈমানদার হয়ে জান্নাতে যাবো, আমিন।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি হ্রাসে প্রয়োজন পূর্ব সতর্কীকরণ ও প্রাথমিক ব্যবস্থার উন্নয়ন

লেখক: আলেম,গবেষক।