
ই হক তৈয়ব:
জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনসহ একাধিকবার সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নিদাউল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা বাংলাদেশের দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার জগতে একটি সুপরিচিত ও আস্থার নাম। কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক আদর্শ শিক্ষার সঙ্গে যুগোপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রজন্ম গড়ে তোলাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্যকে দৃঢ়তার সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নিদাউল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা-প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ক্বারী শহীদুল ইসলাম।

কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা আলোচনায় কম থাকেন কিন্তু কাজের গভীরতায় সমাজকে দীর্ঘদিন প্রভাবিত করেন। হাফেজ মাওলানা ক্বারী শহীদুল ইসলাম তেমনই একজন মানুষ। তিনি নিদাউল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা-প্রিন্সিপাল এবং নিদাউল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। তাঁর জীবনচর্চা ও কর্মভাবনা মূলত একটি বিষয়কেই কেন্দ্র করে— কোরআনের আলোয় যুগোপযোগী মানুষ তৈরি।
হিফজে কোরআনের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাজীবনের যাত্রা শুরু। সেই শুরু কখনো থেমে যায়নি। দ্বীনি শিক্ষার গভীরতার সঙ্গে তিনি সাধারণ ও উচ্চশিক্ষায় নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। বি.এ (অনার্স), এম.এ (কামিল) ও আই.এ.ইউ ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তিনি শিক্ষা ও চিন্তায় এক ধরনের ভারসাম্য তৈরি করেন, যা আজ তাঁর কাজের প্রতিটি স্তরে প্রতিফলিত।
তিনি বিশ্বাস করেন, শিক্ষা মানে কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান নয়। শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন একজন শিক্ষার্থী নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও চিন্তার শুদ্ধতা নিয়ে সমাজে দাঁড়াতে পারে। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নিদাউল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে কওমি, আলিয়া ও ইংলিশ মিডিয়াম— তিন ধারার সমন্বয়ে এমন একটি শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে, যা দ্বীন ও দুনিয়ার মাঝে কোনো দূরত্ব তৈরি করে না।
নিদাউল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কাজ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা বিস্তার, দাওয়াহ কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তার মাধ্যমে সমাজের বৃহত্তর পরিসরে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি। তাঁর কাছে দ্বীনি শিক্ষা মানে বিচ্ছিন্নতা নয়; বরং সমাজের ভেতরে থেকেই গঠনমূলক ভূমিকা রাখা।
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিয়ে তাঁর ভাবনা স্পষ্ট। তিনি এমন মানুষ দেখতে চান, যারা কোরআনে সুদৃঢ়, জ্ঞানে প্রাজ্ঞ এবং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই তিনি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গবেষণামুখী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
হাফেজ মাওলানা ক্বারী শহীদুল ইসলাম আজ একটি নাম নয়, একটি দৃষ্টিভঙ্গি। নীরব সাধনা, সুপরিকল্পিত শিক্ষা দর্শন এবং কোরআনকেন্দ্রিক চিন্তার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির পথে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষা দর্শন বাস্তবায়ন করে আসছে। এখানে শিক্ষাকে শুধু পাঠ্যসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয় না; বরং একজন শিক্ষার্থীর চরিত্র, নৈতিকতা, চিন্তাশক্তি ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।
Three in One শিক্ষা পদ্ধতি: একসাথে তিন ধারার সমন্বয়: নিদাউল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর Three in One শিক্ষা ব্যবস্থা। কওমি, আলিয়া ও ইংলিশ মিডিয়াম— এই তিনটি ধারাকে একই ছাতার নিচে এনে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে দ্বীনি জ্ঞানে সমৃদ্ধ হচ্ছে, অন্যদিকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষায় দক্ষ হয়ে উঠছে।

শিক্ষার মাধ্যম ও পাঠদান পদ্ধতি: প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের মেধা, সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অনুযায়ী তিনটি শিক্ষামাধ্যমে পাঠদান পরিচালিত হয়— এ্যারাবিক, ইংলিশ ভার্সন এবং জেনারেল সেকশন। আধুনিক পাঠ পরিকল্পনা, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলীর তত্ত্বাবধানে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসন সুবিধা: শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিদাউল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় রয়েছে বহুমুখী আবাসন ব্যবস্থা। আবাসিক ও অনাবাসিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ডে-কেয়ার, ভি.আই.পি ও স্পেশাল ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিভাবকদের চাহিদা ও শিক্ষার্থীদের সুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বহুমাত্রিক বিভাগসমূহ: এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক ও সুসংগঠিত শিক্ষার সুযোগ পায়। নূরানী ও নাজেরা বিভাগ দিয়ে যাত্রা শুরু করে হিফজ, রিভিশন এবং ইন্টারন্যাশনাল রিভিশন বিভাগে শিক্ষার্থীদের কোরআনের গভীর দখল তৈরি করা হয়। পাশাপাশি কিতাব বিভাগে মাদানী নেসাব অনুযায়ী প্রথম থেকে চতুর্থ পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। এছাড়া প্লে থেকে একাদশ শ্রেণী এবং এসএসসি, এইচএসসি বা দাখিল–আলিম পর্যায় পর্যন্ত নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
দ্বীনি পরিচয়ের সঙ্গে আধুনিক ভবিষ্যৎ: নিদাউল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষা দর্শন শুধু আলেম বা হাফেজ তৈরি করায় সীমাবদ্ধ নয়। এখানে শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়, যাতে তারা দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, বিদেশে পড়াশোনার জন্য নিজেকে যোগ্য করে তুলতে পারে এবং ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষ নেতৃত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। দ্বীনি মূল্যবোধের সঙ্গে বিজ্ঞান ও বাস্তবমুখী শিক্ষার এই সমন্বয়ই প্রতিষ্ঠানটিকে অনন্য করে তুলেছে।

প্রতিষ্ঠাতার নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা: এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ক্বারী শহীদুল ইসলাম একজন দক্ষ শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং সুপরিচিত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। তিনি বি.এ (অনার্স), এম.এ (কামিল), আই.এ.ইউ ডিগ্রিধারী এবং নিদাউল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দূরদর্শী পরিকল্পনা, শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার্থীবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যের মূল ভিত্তি।
আস্থার ঠিকানা: নিদাউল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসা আজ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য নাম। দ্বীন, দুনিয়া ও আখিরাতের ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তুতির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলাই এই প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার।
ঠিকানা: আশ্রাফবাদ মেইন রোড, কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা। ওয়েবসাইট: ndau.com ,ফেসবুক পেজ: facebook.com/nidaulquranbd, অফিস: ০১৩০১-৯৭২৭৪৭, প্রিন্সিপাল (একান্ত প্রয়োজনে): ০১৮৭৮৫৭৯৪৫১ (কল/হোয়াটসঅ্যাপ)
Reporter Name 


























