
রমজান গুনাহ মাফ ও তাকওয়া অর্জনের মাস ।
আরবি বর্ষপঞ্জিকার নবম মাস রমজান গুনাহ মাফ ও তাকওয়া অর্জনের মাস। মহান রাব্বুল আলামিন মুমিনদের জন্য এ মাসে অফুরন্ত সওয়াব অর্জনের সুযোগ রেখেছেন। অল্প আমলেও রয়েছে অনেক বেশি ফজিলত। মহিমান্বিত এ মাসেই পবিত্র কুরআন নাযিল হয়েছে।
কুরআনের ঘোষণা
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
“রমজান মাস— যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথপ্রদর্শক এবং হেদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা রাখে। আর যে পীড়িত কিংবা সফরে আছে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে।”
— (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
রহমতের দরজা উন্মুক্ত
পবিত্র এ মাসে রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন—
“রমজান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৭৮
জান্নাত লাভের সুবর্ণ সুযোগ
রমজান মাসের রোজা রাখার মাধ্যমে পরকালে জান্নাত লাভের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে—
এক মরুবাসী সাহাবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে এসে বললেন, “আমাকে এমন আমলের পথনির্দেশ করুন, যা আমল করলে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারব।”
নবীজি (সা.) জবাবে বললেন—
আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত আদায় করবে
ফরজ যাকাত আদায় করবে
রমজানের সাওম (রোজা) পালন করবে
পরে ওই সাহাবী বললেন, “আমার প্রাণ যার হাতে তাঁর কসম, আমি এর উপর বৃদ্ধি করব না।”
তিনি চলে গেলে রাসুল (সা.) বললেন—
“কেউ যদি জান্নাতি লোক দেখতে আগ্রহী হয়, সে যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখে।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩১৫
যাদের রোজা কবুল হবে না
তবে দুই শ্রেণির মানুষের রোজা রেখেও কোনো লাভ হবে না। তাদের রোজা মহান রবের দরবারে কবুল হবে না।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—
“যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা ও মূর্খতা পরিত্যাগ করল না, আল্লাহর নিকট তার পানাহার ত্যাগের কোনো প্রয়োজন নেই।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৩১
Reporter Name 



























