Dhaka ০২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
৬ ঘণ্টায় ঢাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি বেড়ে ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় নদী খননের বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত: পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসনীয় উপজেলা প্রশাসন ঝিনাইদহের মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযান, ৬৬৪ বোতল মাদকসহ যুবক গ্রেফতার হামলার ক্ষতিপূরণ চায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল রাঙ্গামাটির ফারুয়া বাজার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ পপি ও বিষ্ণুপুর থানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী বৃন্দের সাথে মতবিনিময় করলেন নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম চরভদ্রাসনে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার তিন যুবকের তিন মাসের কারাদণ্ড ময়মনসিংহ নান্দাইলের আবু তাহের এর দায়েল কৃত মামলা হাত থেকে রেহাই পেতে চায় দুলাল পরিবার বর্গ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

পীরগঞ্জে বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটা, শিক্ষা ও পরিবেশে নীরব হুমকি

  • Reporter Name
  • সময়: ০৫:২৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ১২০ Time View

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও:


ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা-এর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একেবারে পাশে গড়ে উঠেছে একটি ইটভাটা,( DR bricks) । স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটাটির ধোঁয়া, ধুলা ও শব্দ দূষণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এ ধরনের শিল্প স্থাপন কেবল নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, এটি সরাসরি একাধিক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য আইনেরও লঙ্ঘন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ফটকের কাছেই দূর থেকে দৃশ্যমান একটি উঁচু চিমনি থেকে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ ;ইটভাটার ধোঁয়া ও ছাই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষের জানালা বন্ধ করে পাঠদান করতে হয়, যা শিক্ষার পরিবেশকে আরও সংকুচিত করে দেয়।

বাংলাদেশে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার বিষয়ে স্পষ্ট আইন রয়েছে। Brick Manufacturing and Brick Kilns Establishment (Control) Act 2013 অনুযায়ী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা জনবসতির নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংরক্ষিত এলাকা ও জনবসতির নিকটবর্তী স্থানে ইটভাটা স্থাপন করলে তা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একই আইনের ধারা ১৫ অনুযায়ী এই বিধান লঙ্ঘন করলে জরিমানা, এমনকি কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে।

এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিও আইনে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। Environment Conservation Act 1995 এর ধারা ৬ ও ৭ অনুযায়ী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর শিল্প স্থাপনের আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র (Environmental Clearance) নেওয়া বাধ্যতামূলক। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি করে, তবে পরিবেশ অধিদপ্তর সেটি বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।পরিবেশবিদদের মতে, ইটভাটার ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও ক্ষতিকর ধূলিকণা থাকে, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক। শিশুদের ফুসফুস এখনো পূর্ণ বিকশিত না হওয়ায় এসব দূষণের প্রভাব তাদের উপর বেশি পড়ে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হাঁপানি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় মহিলা ফাজিল মাদরাসা অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত

স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করতে আসে, কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়ায় তাদের কষ্ট হয়। অনেক সময় কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগে। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক।”বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, “শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বাতাসে ধুলা ও ধোঁয়া থাকলে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশ থাকে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে এমন শিল্প থাকা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।”বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা থাকলে সেটি বন্ধ করা অথবা স্থানান্তর করা বাধ্যতামূলক।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার কেন্দ্র। সেই প্রতিষ্ঠানের পাশে যদি দূষণকারী শিল্প গড়ে ওঠে, তবে তা কেবল পরিবেশ নয়, পুরো প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের জোর দাবি,ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পায়। কারণ শিক্ষা ও পরিবেশ—দুটিই একটি জাতির টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

৬ ঘণ্টায় ঢাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি

পীরগঞ্জে বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটা, শিক্ষা ও পরিবেশে নীরব হুমকি

সময়: ০৫:২৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও:


ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা-এর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একেবারে পাশে গড়ে উঠেছে একটি ইটভাটা,( DR bricks) । স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটাটির ধোঁয়া, ধুলা ও শব্দ দূষণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এ ধরনের শিল্প স্থাপন কেবল নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, এটি সরাসরি একাধিক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য আইনেরও লঙ্ঘন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ফটকের কাছেই দূর থেকে দৃশ্যমান একটি উঁচু চিমনি থেকে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ ;ইটভাটার ধোঁয়া ও ছাই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষের জানালা বন্ধ করে পাঠদান করতে হয়, যা শিক্ষার পরিবেশকে আরও সংকুচিত করে দেয়।

বাংলাদেশে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার বিষয়ে স্পষ্ট আইন রয়েছে। Brick Manufacturing and Brick Kilns Establishment (Control) Act 2013 অনুযায়ী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা জনবসতির নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংরক্ষিত এলাকা ও জনবসতির নিকটবর্তী স্থানে ইটভাটা স্থাপন করলে তা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। একই আইনের ধারা ১৫ অনুযায়ী এই বিধান লঙ্ঘন করলে জরিমানা, এমনকি কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে।

এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিও আইনে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। Environment Conservation Act 1995 এর ধারা ৬ ও ৭ অনুযায়ী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর শিল্প স্থাপনের আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র (Environmental Clearance) নেওয়া বাধ্যতামূলক। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি করে, তবে পরিবেশ অধিদপ্তর সেটি বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।পরিবেশবিদদের মতে, ইটভাটার ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও ক্ষতিকর ধূলিকণা থাকে, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক। শিশুদের ফুসফুস এখনো পূর্ণ বিকশিত না হওয়ায় এসব দূষণের প্রভাব তাদের উপর বেশি পড়ে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হাঁপানি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গুড়ায় মহিলা ফাজিল মাদরাসা অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন অনুষ্ঠিত

স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা পড়াশোনা করতে আসে, কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়ায় তাদের কষ্ট হয়। অনেক সময় কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভোগে। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক।”বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, “শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বাতাসে ধুলা ও ধোঁয়া থাকলে শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক পরিবেশ থাকে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে এমন শিল্প থাকা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।”বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা থাকলে সেটি বন্ধ করা অথবা স্থানান্তর করা বাধ্যতামূলক।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার কেন্দ্র। সেই প্রতিষ্ঠানের পাশে যদি দূষণকারী শিল্প গড়ে ওঠে, তবে তা কেবল পরিবেশ নয়, পুরো প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি স্থানীয়দের জোর দাবি,ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে পড়াশোনা করার সুযোগ পায়। কারণ শিক্ষা ও পরিবেশ—দুটিই একটি জাতির টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি।