কালিগঞ্জ ব্যুরোঃ সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মহেশ্বরপুর খাল অবশেষে স্থানীয় জনসাধারণের উদ্যোগে উন্মুক্ত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটায় স্বস্তি ফিরে এসেছে অন্তত ১০ গ্রামের কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে।
রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টার দিকে এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়ে খালের ওপর নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কৃত্রিম বাঁধ দিয়ে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ করে রাখার ফলে মহেশ্বরপুরসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে প্রায় ২০০ পরিবার দীর্ঘদিন পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মহেশ্বরপুর খালের ওপর অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যাহত হয়। এর ফলে শত শত বিঘা জমির আমন ধান, শীতকালীন সবজি ও অন্যান্য ফসল ক্ষতির মুখে পড়ে। পাশাপাশি মাছের ঘের ও পুকুর প্লাবিত হয়ে অসংখ্য মৎস্যচাষি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতির চরম অবনতি হলে স্থানীয় জনগণ নিজেরাই উদ্যোগ নেন। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুস সাত্তারের উপস্থিতি ও নেতৃত্বে এলাকাবাসী বাঁধ কেটে খালের পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করেন।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী কৃষকসহ দুই শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মো. গোলাম মোস্তফা, নুর ইসলাম গাজী, সিরাজুল ইসলাম, আয়ুব আলী, জাহাঙ্গীর সরদার, হামিদ সরদার, শেখ আকবর, আব্দুল কুদ্দুস, শওকত আলী গাজী ও মোজাফফর গাজী প্রমুখ।
খালের বাঁধ অপসারণে অংশ নেওয়া কয়েকজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্বার্থান্বেষী একটি মহল পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের ফসল মাঠেই নষ্ট হচ্ছিল। মাছের ঘের ও পুকুর ডুবে গিয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বহুবার বলেও কোনো সমাধান পাইনি। অবশেষে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছি। এখন পানি নামতে শুরু করায় স্বস্তি ফিরেছে।”
মহেশ্বরপুর খাল পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সচেতন মহল ভবিষ্যতে যাতে কেউ পুনরায় খালে অবৈধ বাঁধ দিতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও স্থায়ী পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
Reporter Name 





















