Dhaka ০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন দিনাজপুর বীরগঞ্জের কাজল গ্রামে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে আদিবাসী মহিলার মৃত্যু ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে গুমের চেষ্টা, থানার পুলিশ কর্তৃক নির্যাতনের শিকার বুড়িতিস্তা নদীর রিজার্ভার প্রকল্প নিয়ে জনগণের সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় সভা দুই বোনের গোসলের গোপন ভিডিও ধারণ, মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি; যুবক কারাগারে সাচার মডেল স্কুল এর পক্ষ থেকে জসীম উদ্দিন মাস্টারকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। নবীগঞ্জে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত কালিগঞ্জে পেশাজীবী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত ​বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রেরণা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে “শোক সভা ও দোয়া মাহফিল” এবং ঐতিহাসিক ৬ দফাদিবস পালন করছে শেখ হাসিনা পরিষদ জর্জিয়া হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ডুমুরিয়ায় পাটজাত মোড়ক উপেক্ষা করে পলিথিনের ছড়াছড়ি: বিপন্ন পরিবেশ, নির্বিকার প্রশাসন

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা


বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৪
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সর্বত্র নিষিদ্ধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহারে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী চটের বা পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাবে বাজারগুলোতে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এতে উপজেলার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে।
বাজারে সয়লাব নিষিদ্ধ পলিথিন সরেজমিনে ডুমুরিয়া সদর বাজার, শাহপুর বাজার, চুকনগর বাজার ও থুকড়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, সবজি, মাছ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসই দেদারসে পলিথিন ব্যাগে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৭টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করার কথা। কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে পাটজাত ব্যাগের ব্যবহারে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাটের ব্যাগের চেয়ে পলিথিন অনেক সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় ক্রেতারাও এটি বেশি পছন্দ করছেন।
পরিবেশ ও কৃষিতে মারাত্মক বিপর্যয়। স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মতে, পলিথিন অপচনশীল হওয়ায় তা দীর্ঘ সময় মাটিতে আটকে থাকে। ডুমুরিয়ার বিভিন্ন নালা, ড্রেন ও জলাশয় এখন পলিথিনের দখলে, যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া কৃষিজমিতে পলিথিন আটকে থাকায় মাটির পুষ্টি উপাদান ও বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা উপজেলার প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কৃষিখাতের (বিশেষ করে ফসলি জমি ও সবজি চাষে) জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন,
“নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার ও বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। উপজেলার প্রধান প্রধান বাজারগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমরা দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব। আইন অমান্য করে যারা নিষিদ্ধ পলিথিন মজুত ও বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকারের বক্তব্য
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিসস সবিতা সরকার বলেন,
“পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা এবং পাটজাত মোড়কের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন হওয়া জরুরি। আমরা শীঘ্রই বাজার কমিটিগুলোর সাথে বসব এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হবে।”সম্প্রতি ডুমুরিয়া বাজারে ড্রেন নির্মাণ হলেও অতিসত্বর
নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ ট্রেনের মধ্যেই ফেলে দিয়ে ভরাট হয়ে গিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সরকারি চাল না পেয়ে গলাচিপায় জেলেদের মানববন্ধন

 

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

ডুমুরিয়ায় পাটজাত মোড়ক উপেক্ষা করে পলিথিনের ছড়াছড়ি: বিপন্ন পরিবেশ, নির্বিকার প্রশাসন

সময়: ০৩:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা


বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৪
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সর্বত্র নিষিদ্ধ পলিথিনের অবাধ ব্যবহারে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী চটের বা পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাবে বাজারগুলোতে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এতে উপজেলার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে।
বাজারে সয়লাব নিষিদ্ধ পলিথিন সরেজমিনে ডুমুরিয়া সদর বাজার, শাহপুর বাজার, চুকনগর বাজার ও থুকড়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চাল, ডাল, সবজি, মাছ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসই দেদারসে পলিথিন ব্যাগে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৭টি পণ্য মোড়কীকরণে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করার কথা। কাঁচাবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাঝে পাটজাত ব্যাগের ব্যবহারে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পাটের ব্যাগের চেয়ে পলিথিন অনেক সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় ক্রেতারাও এটি বেশি পছন্দ করছেন।
পরিবেশ ও কৃষিতে মারাত্মক বিপর্যয়। স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের মতে, পলিথিন অপচনশীল হওয়ায় তা দীর্ঘ সময় মাটিতে আটকে থাকে। ডুমুরিয়ার বিভিন্ন নালা, ড্রেন ও জলাশয় এখন পলিথিনের দখলে, যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া কৃষিজমিতে পলিথিন আটকে থাকায় মাটির পুষ্টি উপাদান ও বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা উপজেলার প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কৃষিখাতের (বিশেষ করে ফসলি জমি ও সবজি চাষে) জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাসের বক্তব্য। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন,
“নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার ও বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর। উপজেলার প্রধান প্রধান বাজারগুলোতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমরা দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করব। আইন অমান্য করে যারা নিষিদ্ধ পলিথিন মজুত ও বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকারের বক্তব্য
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিসস সবিতা সরকার বলেন,
“পরিবেশ রক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করা এবং পাটজাত মোড়কের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সচেতন হওয়া জরুরি। আমরা শীঘ্রই বাজার কমিটিগুলোর সাথে বসব এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হবে।”সম্প্রতি ডুমুরিয়া বাজারে ড্রেন নির্মাণ হলেও অতিসত্বর
নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ ট্রেনের মধ্যেই ফেলে দিয়ে ভরাট হয়ে গিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  “মাদক কোনো সমাধান নয়; বরং এটি জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ” — এটিএম কামরুল ইসলাম