Dhaka ০১:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
শিক্ষা, মেধা ও প্রত্যাবর্তনের গল্প: ডা. জোবাইদা রহমানের আলোকিত জীবন মানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে নটরডেমিয়ান্স ফাউন্ডেশন ও সন্দীপ ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনার নেত্রকোনা সদরে জমি নিয়ে মারামারি এক মহিলা আহত থানার অভিযোগ জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর বনানী থেকে আটক নটরডেমিয়ান্স ফাউন্ডেশনের চিকিৎসা সেবা ও খাবার বিতরণে বন্যার্তদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার “ত্রিশালে মৃত্যুর মাঝেও জন্ম, সেই ফাতেমা আজ ৪ বছরে” সুনামগঞ্জে ৩২ লাখ টাকার ভারতীয় কাতান শাড়ির চালান জব্দ রথযাত্রার শুভ লগ্নে-স্বাধীনতা দিবস উৎসব উদযাপন সমিতির ১৩ তম বর্ষ দুর্গোৎসবের খুঁটি পুজোর শুভ সূচনা হলো কক্সবাজারে বিজিবির পৃথক ৪ অভিযানে ২ লাখ ৭ হাজার ৭১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৭ সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর বনানী থেকে আটক

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩১ Time View

 

মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার



সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য মোজাফফর হোসেনকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি বলছে, হামলার সময় মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে জেনারেল মঞ্জুর নিহত হন। এই মামলায় ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে ঘটনার পর পরই মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপনে ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।

আরও পড়ুনঃ  ঝিকরগাছায় আওয়ামীলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার

অবশেষে সাড়ে চার দশক আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো। সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার (কোর্ট মার্শাল) মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

শিক্ষা, মেধা ও প্রত্যাবর্তনের গল্প: ডা. জোবাইদা রহমানের আলোকিত জীবন

জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর বনানী থেকে আটক

সময়: ১০:২৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

 

মো: মারুফ, চট্টগ্রাম সিটি রির্পোটার



সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

পরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য মোজাফফর হোসেনকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও মামলাসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, এই হত্যাযজ্ঞে সরাসরি অংশ নেওয়া সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথি বলছে, হামলার সময় মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে জেনারেল মঞ্জুর নিহত হন। এই মামলায় ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে ঘটনার পর পরই মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে মেজর মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে ছদ্মনামে আত্মগোপনে ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন।

আরও পড়ুনঃ  ইরানের দাবি: মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত

অবশেষে সাড়ে চার দশক আত্মগোপনে থাকার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো। সেনাবাহিনীর নিজস্ব বিচার প্রক্রিয়ার (কোর্ট মার্শাল) মাধ্যমে এখন তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।