Dhaka ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ঝিনাইদহের মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযান, ৬৬৪ বোতল মাদকসহ যুবক গ্রেফতার হামলার ক্ষতিপূরণ চায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল রাঙ্গামাটির ফারুয়া বাজার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ পপি ও বিষ্ণুপুর থানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী বৃন্দের সাথে মতবিনিময় করলেন নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম চরভদ্রাসনে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার তিন যুবকের তিন মাসের কারাদণ্ড ময়মনসিংহ নান্দাইলের আবু তাহের এর দায়েল কৃত মামলা হাত থেকে রেহাই পেতে চায় দুলাল পরিবার বর্গ বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা ঢাকাগামী বাসে ৯২ হাজার ইয়াবা, আটক হেল্পার রাউজানে বিভিন্ন ইউনিয়ন এর পানিবন্দী মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে উপজেলা যুবদল
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“ব্যবসায় জালিয়াতি করার কারণে ধ্বংস হয়েছিল মাদইয়ান জাতি”

ব্যবসায় জালিয়াতি করার কারণে ধ্বংস হয়েছিল মাদইয়ান জাতি

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

পারস্যের অন্তর্গত মাদইয়ান শহর অবস্থিত। এক সময় এই শহরে বহু মানুষের বসাবস ছিল, এই শহরের মানুষ খু্ব খারাপ ও অত্যাচারী ছিল। তাদের প্রধান অপরাধ ছিল ওজনে কম দেওয়া, তারা জিনিসের পুরা মূল্য আদায় করতো কিন্তু ওজনে কম দিতো। তাছাড়া মাদইয়ান জাতির আরো বহু অপরাধ ছিল, তারা জাল নোট তৈরী করে সমস্যা সৃষ্টি করতো। তারা চুরি ডাকাতি ও লুটপাট করতো। তারা দেব দেবি ও মুক্তির পূজা করতো।

মাদইয়ান জাতিকে হেদায়াত করার জন্য আল্লাহ তায়ালা একজন নবী পাঠিয়েছেন, তিনি হযরত শোয়ায়েব (আ:)। তিনি হযরত হুদ (আ:) এর বংশধর, কেউ বলেছেন হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ (আ:)-এর পুত্র মাদইয়ান এর বংশধর। হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর ভাষা ছিল খুব সুন্দর ও বহু ভাষা তিনি কথা বলতেন, তার কণ্ঠ ছিল উচ্চ আওয়াজ, তিনি বিশ্বের সেরা বক্তা ছিলেন।

বিভিন্ন অপরাধী ও অত্যাচারী মাদইয়ান জাতিকে নবী হযরত শোয়াইব (আ:) আল্লাহর ধর্ম প্রচার করতে থাকেন এবং অনেক উপদেশ দিতে থাকেন। নবী হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাদের বিভিন্ন অপরাধ দেখলেন। তখন মাদইয়ান জাতিকে নবী শোয়ায়েব (আ:) বললেন, “তোমরা জিনিসের যে পরিমাণ মূল্য আদায় কর সেই পরিমাণ জিনিস দিবে, তোমরা যদি ওজনে কম দাও তাহলে তোমাদের উপর আল্লাহর গজব আসবে।”

এই উপদেশ শুনে কিছু লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন, আর বাকীরা ঈমান আনয়ন করেন নাই, তারা পথভ্রষ্ট ও খারাপ পথে রয়েছেন। মহা গ্রন্থ আল কুরআনে এসেছে—

“তোমরা মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিবে; যারা মাপে কমতি করে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়োনা। এবং তোমরা ওজন করবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়। লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবেনা এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে ফিরনা। এবং তোমরা ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।”
(সূরা আশ-শুআরা, আয়াত ১৮১-১৮৪)

নবী হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর উপদেশ তারা কোন ভাবে শুনতে চায় না ও মানতে চায় না, তারা বলেন—“হে শোয়ায়েব! তোমার কথা কেন আমরা শুনবো? তুমি আমাদের রাজা বাদশা নাকি?”

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামন কামরুল অধিবেশনে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন

তখন অবাধ্য মাদইয়ান জাতিকে নবী হযরত শোয়ায়েব (আ:) বলেন, “নূহ (আ:) এর জাতি, কওমে লুত, আদ জাতি ও সামুদ জাতির ঘটনা গুলো তোমরা স্মরণ কর। অন্যায় অপরাধ করার কারণে আল্লাহ তাদেরকে ভয়াবহ গজব দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। তোমরা যত অন্যায় অপরাধ করেছো এখনো সময় আছে, তোমরা তওবা করে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে খাঁটি ধর্ম গ্রহণ করো।”

হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর কথাগুলো শুনে তারা তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলতে লাগলেন—“তোমাকে আমরা বার বার নিষেধ করেছি, এ ধরনের বাজে কথাগুলো আমাদের কাছে বলতে আসবে না। কিন্তু তুমি কিছুতেই বিরত হচ্ছো না। আবার তোমাকে সাবধান করে দিলাম, এই রকম কথা বললে তোমার অকালে মৃত্যু হতে পারে।”

তাদের এ ধরনের কথা শুনে হযরত শোয়ায়েব (আ:) নিরাশ হয়ে পড়লেন। এমন সময় ফেরেশতা জিব্রাইল তাশরীফ এনে বললেন, “হে আল্লাহর নবী! আপনার অবাধ্য কওমের প্রতি আল্লাহ তায়ালা অচিরেই গজব নাযিল করবেন। আপনি আপনার অনুসারী ও মুমিন লোকজনদের নিয়ে এদেশ হতে অন্যদেশে চলে যান, যেহেতু আর অল্প সময় আছে।”

জিব্রাইলের পরামর্শ শুনে হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাঁর পরিবার ও এক হাজার সাতশত মুমিন বান্দা নিয়ে দেশ ত্যাগ করলেন। মাদইয়ান জাতিরা নবীকে বললেন, “তোমরা আমাদের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছো?” জবাবে হযরত শোয়ায়েব (আ:) বললেন, “আমরা পালাচ্ছি না, বরং আল্লাহর নির্দেশেই দেশত্যাগ করছি, কেননা এদেশে আল্লাহর গজব আসবে।”

এই কথা শুনে তারা হাসাহাসি ও বলাবলি করতে লাগল—“দেখ! সে এখনও আমাদেরকে ফাঁকা গজবের ভয় দেখাচ্ছে।” হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাদের কথার কোন জবাব না দিয়ে তাদেরকে ছেড়ে চলে গেলেন মাদইয়ান শহর থেকে অনেক দূরবর্তী একটি দেশে।

হযরত শোয়ায়েব (আ:) যেদিন দেশত্যাগ করলেন, সেদিন দিনের শেষে রাত কেটে যাওয়ার পরে ভোরেই আল্লাহর গজব এসে উপস্থিত হল। দোযখ হতে আগুনের কিছু উত্তাপ ফেরেশতাগণ ঐ মাদইয়ান শহরের উপরে পৌঁছে দিলেন। তাতে সারাদেশ আগুনের মত উষ্ণ হয়ে গেল। ঘর-বাড়ী, পথ-ঘাট—সব কিছু আগুনের উত্তাপে মানুষ দাঁড়ানোর অযোগ্য হয়ে পড়ল। লোকজন ঘরে টিকতে না পেরে দৌড়ে মাঠে গেল।

আরও পড়ুনঃ  সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬’ উত্থাপন, তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

তখন আসমান থেকে অগ্নি বৃষ্টি আরম্ভ হল। এমন অবস্থা যে ফেরেশতা জিব্রাঈল এসে এত জোরে হাঁক দিলেন, সে হাঁকের গর্জনে লোকজন কেঁপে উঠে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল এবং সঙ্গে সঙ্গে মারা গেল।

বর্তমানে আমাদের দেশের এবং বিদেশের মানুষেরা অবৈধ ও হারাম ব্যবসা করতেছে। ব্যবসায়ীরা ওজনে কম দিচ্ছে ও বহু রকমের ঠকাচ্ছে। সিন্ডিকেট আর নকল মাল দিচ্ছেন কাস্টমারকে। বাজারে গেলে দেখা যায় মাছ ও গোস্ত ব্যবসায়ী ওজনে কম দিচ্ছে। অনেক দোকানদার মানুষদেরকে নকল মাল দিচ্ছে ও মাপে কম দিচ্ছে, বহু রকমের জালিয়াতী তারা করতেছে, কোন জবাবদিহিতা নাই।

এই সব হারাম ব্যবসায়ীরা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে ও তাদের অবস্থা খুব ভয়াবহ হবে। আল্লাহ বলেন—

“মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট হতে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে, এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। তারা কি চিন্তা করেনা যে, তারা পুনরুত্থিত হবে সেই মহান দিনে? যে দিন দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ জগতসমূহের রবের সম্মুখে।”
(সূরা আত-মুত্বাফ্ফিফীন, আয়াত ১–৬)

আসলে আমাদেরকে এই মাদইয়ান জাতির ধ্বংস হওয়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আসুন আমরা আল্লাহকে ভয় করবো ও ওজনে কম দিবো না।

লেখকঃ আলেম, গবেষক

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযান, ৬৬৪ বোতল মাদকসহ যুবক গ্রেফতার

“ব্যবসায় জালিয়াতি করার কারণে ধ্বংস হয়েছিল মাদইয়ান জাতি”

সময়: ১০:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

ব্যবসায় জালিয়াতি করার কারণে ধ্বংস হয়েছিল মাদইয়ান জাতি

মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী

পারস্যের অন্তর্গত মাদইয়ান শহর অবস্থিত। এক সময় এই শহরে বহু মানুষের বসাবস ছিল, এই শহরের মানুষ খু্ব খারাপ ও অত্যাচারী ছিল। তাদের প্রধান অপরাধ ছিল ওজনে কম দেওয়া, তারা জিনিসের পুরা মূল্য আদায় করতো কিন্তু ওজনে কম দিতো। তাছাড়া মাদইয়ান জাতির আরো বহু অপরাধ ছিল, তারা জাল নোট তৈরী করে সমস্যা সৃষ্টি করতো। তারা চুরি ডাকাতি ও লুটপাট করতো। তারা দেব দেবি ও মুক্তির পূজা করতো।

মাদইয়ান জাতিকে হেদায়াত করার জন্য আল্লাহ তায়ালা একজন নবী পাঠিয়েছেন, তিনি হযরত শোয়ায়েব (আ:)। তিনি হযরত হুদ (আ:) এর বংশধর, কেউ বলেছেন হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ (আ:)-এর পুত্র মাদইয়ান এর বংশধর। হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর ভাষা ছিল খুব সুন্দর ও বহু ভাষা তিনি কথা বলতেন, তার কণ্ঠ ছিল উচ্চ আওয়াজ, তিনি বিশ্বের সেরা বক্তা ছিলেন।

বিভিন্ন অপরাধী ও অত্যাচারী মাদইয়ান জাতিকে নবী হযরত শোয়াইব (আ:) আল্লাহর ধর্ম প্রচার করতে থাকেন এবং অনেক উপদেশ দিতে থাকেন। নবী হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাদের বিভিন্ন অপরাধ দেখলেন। তখন মাদইয়ান জাতিকে নবী শোয়ায়েব (আ:) বললেন, “তোমরা জিনিসের যে পরিমাণ মূল্য আদায় কর সেই পরিমাণ জিনিস দিবে, তোমরা যদি ওজনে কম দাও তাহলে তোমাদের উপর আল্লাহর গজব আসবে।”

এই উপদেশ শুনে কিছু লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছেন, আর বাকীরা ঈমান আনয়ন করেন নাই, তারা পথভ্রষ্ট ও খারাপ পথে রয়েছেন। মহা গ্রন্থ আল কুরআনে এসেছে—

“তোমরা মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিবে; যারা মাপে কমতি করে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়োনা। এবং তোমরা ওজন করবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়। লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবেনা এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে ফিরনা। এবং তোমরা ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।”
(সূরা আশ-শুআরা, আয়াত ১৮১-১৮৪)

নবী হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর উপদেশ তারা কোন ভাবে শুনতে চায় না ও মানতে চায় না, তারা বলেন—“হে শোয়ায়েব! তোমার কথা কেন আমরা শুনবো? তুমি আমাদের রাজা বাদশা নাকি?”

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামন কামরুল অধিবেশনে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন

তখন অবাধ্য মাদইয়ান জাতিকে নবী হযরত শোয়ায়েব (আ:) বলেন, “নূহ (আ:) এর জাতি, কওমে লুত, আদ জাতি ও সামুদ জাতির ঘটনা গুলো তোমরা স্মরণ কর। অন্যায় অপরাধ করার কারণে আল্লাহ তাদেরকে ভয়াবহ গজব দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। তোমরা যত অন্যায় অপরাধ করেছো এখনো সময় আছে, তোমরা তওবা করে আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে খাঁটি ধর্ম গ্রহণ করো।”

হযরত শোয়ায়েব (আ:) এর কথাগুলো শুনে তারা তাঁকে ভয় দেখিয়ে বলতে লাগলেন—“তোমাকে আমরা বার বার নিষেধ করেছি, এ ধরনের বাজে কথাগুলো আমাদের কাছে বলতে আসবে না। কিন্তু তুমি কিছুতেই বিরত হচ্ছো না। আবার তোমাকে সাবধান করে দিলাম, এই রকম কথা বললে তোমার অকালে মৃত্যু হতে পারে।”

তাদের এ ধরনের কথা শুনে হযরত শোয়ায়েব (আ:) নিরাশ হয়ে পড়লেন। এমন সময় ফেরেশতা জিব্রাইল তাশরীফ এনে বললেন, “হে আল্লাহর নবী! আপনার অবাধ্য কওমের প্রতি আল্লাহ তায়ালা অচিরেই গজব নাযিল করবেন। আপনি আপনার অনুসারী ও মুমিন লোকজনদের নিয়ে এদেশ হতে অন্যদেশে চলে যান, যেহেতু আর অল্প সময় আছে।”

জিব্রাইলের পরামর্শ শুনে হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাঁর পরিবার ও এক হাজার সাতশত মুমিন বান্দা নিয়ে দেশ ত্যাগ করলেন। মাদইয়ান জাতিরা নবীকে বললেন, “তোমরা আমাদের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছো?” জবাবে হযরত শোয়ায়েব (আ:) বললেন, “আমরা পালাচ্ছি না, বরং আল্লাহর নির্দেশেই দেশত্যাগ করছি, কেননা এদেশে আল্লাহর গজব আসবে।”

এই কথা শুনে তারা হাসাহাসি ও বলাবলি করতে লাগল—“দেখ! সে এখনও আমাদেরকে ফাঁকা গজবের ভয় দেখাচ্ছে।” হযরত শোয়ায়েব (আ:) তাদের কথার কোন জবাব না দিয়ে তাদেরকে ছেড়ে চলে গেলেন মাদইয়ান শহর থেকে অনেক দূরবর্তী একটি দেশে।

হযরত শোয়ায়েব (আ:) যেদিন দেশত্যাগ করলেন, সেদিন দিনের শেষে রাত কেটে যাওয়ার পরে ভোরেই আল্লাহর গজব এসে উপস্থিত হল। দোযখ হতে আগুনের কিছু উত্তাপ ফেরেশতাগণ ঐ মাদইয়ান শহরের উপরে পৌঁছে দিলেন। তাতে সারাদেশ আগুনের মত উষ্ণ হয়ে গেল। ঘর-বাড়ী, পথ-ঘাট—সব কিছু আগুনের উত্তাপে মানুষ দাঁড়ানোর অযোগ্য হয়ে পড়ল। লোকজন ঘরে টিকতে না পেরে দৌড়ে মাঠে গেল।

আরও পড়ুনঃ  উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বৃদ্ধি, স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা

তখন আসমান থেকে অগ্নি বৃষ্টি আরম্ভ হল। এমন অবস্থা যে ফেরেশতা জিব্রাঈল এসে এত জোরে হাঁক দিলেন, সে হাঁকের গর্জনে লোকজন কেঁপে উঠে জ্ঞান হারিয়ে ফেলল এবং সঙ্গে সঙ্গে মারা গেল।

বর্তমানে আমাদের দেশের এবং বিদেশের মানুষেরা অবৈধ ও হারাম ব্যবসা করতেছে। ব্যবসায়ীরা ওজনে কম দিচ্ছে ও বহু রকমের ঠকাচ্ছে। সিন্ডিকেট আর নকল মাল দিচ্ছেন কাস্টমারকে। বাজারে গেলে দেখা যায় মাছ ও গোস্ত ব্যবসায়ী ওজনে কম দিচ্ছে। অনেক দোকানদার মানুষদেরকে নকল মাল দিচ্ছে ও মাপে কম দিচ্ছে, বহু রকমের জালিয়াতী তারা করতেছে, কোন জবাবদিহিতা নাই।

এই সব হারাম ব্যবসায়ীরা জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে ও তাদের অবস্থা খুব ভয়াবহ হবে। আল্লাহ বলেন—

“মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট হতে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে, এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। তারা কি চিন্তা করেনা যে, তারা পুনরুত্থিত হবে সেই মহান দিনে? যে দিন দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ জগতসমূহের রবের সম্মুখে।”
(সূরা আত-মুত্বাফ্ফিফীন, আয়াত ১–৬)

আসলে আমাদেরকে এই মাদইয়ান জাতির ধ্বংস হওয়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। আসুন আমরা আল্লাহকে ভয় করবো ও ওজনে কম দিবো না।

লেখকঃ আলেম, গবেষক