Dhaka ১২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কাজ না পেয়ে উত্তেজিত ঠিকাদার, বিএমডিএ কার্যালয়ে হট্টগোল

 

মো: গোলাম কিবরিয়া,
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:


টাকা দিয়েও কাজ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রধান কার্যালয়ে হট্টগোল ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর বিএমডিএ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ঠিকাদারের নাম কোরবান আলী। তিনি নগরীর আমবাগান এলাকার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে কোরবান আলী প্রথমে ‘ডাবল লিফটিং পদ্ধতিতে পদ্মা নদীর পানি বরেন্দ্র এলাকায় সরবরাহ ও সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর পরিচালক (পিডি) শিবির আহমেদের কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠানকে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠান তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অপেক্ষা করিয়েও কোনো কাজ দেননি।

পরে তিনি বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামানের দপ্তরের সামনে গিয়ে উত্তেজিত আচরণ করেন। ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে দায়িত্বরত আনসার সদস্য বাধা দিলে তাকেও গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একপর্যায়ে কোরবান আলী দাবি করেন, নির্বাহী পরিচালকের নাম ব্যবহার করেও তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি সরাসরি নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে চান। এ সময় বিএমডিএর ভারপ্রাপ্ত সচিব এনামুল কাদির এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তাকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার কোরবান আলী এর আগেও একাধিকবার কার্যালয়ে গিয়ে একই ধরনের অভিযোগ তুলে হট্টগোল করেছেন। প্রায় এক মাস আগেও তিনি কাজ না পাওয়ার অভিযোগে অফিসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার কোরবান আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আর প্রকল্প পরিচালক শিবির আহমেদ ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে ৩০টি বেসরকারি এতিমখানার মাঝে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুদানের চেক বিতরণ

অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠান বলেন, “ঘটনার সময় আমি ও প্রকল্প পরিচালক সাইট পরিদর্শনে ছিলাম। পরে বিষয়টি শুনেছি।”

বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, “ঘটনার সময় ওই ঠিকাদার মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তিনি আমার দপ্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে ফোনে কথা হলে কোরবান আলী জানান, সাবেক সরকারের এক কৃষিমন্ত্রীর ভাতিজাকে তিনি টাকা দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “মদ্যপ অবস্থায় তিনি বিভিন্ন কটূক্তি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

 “বৃষ্টিতে সুখ–দুঃখ”

কাজ না পেয়ে উত্তেজিত ঠিকাদার, বিএমডিএ কার্যালয়ে হট্টগোল

সময়: ১০:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

 

মো: গোলাম কিবরিয়া,
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:


টাকা দিয়েও কাজ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রধান কার্যালয়ে হট্টগোল ও কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর বিএমডিএ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ঠিকাদারের নাম কোরবান আলী। তিনি নগরীর আমবাগান এলাকার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে কোরবান আলী প্রথমে ‘ডাবল লিফটিং পদ্ধতিতে পদ্মা নদীর পানি বরেন্দ্র এলাকায় সরবরাহ ও সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর পরিচালক (পিডি) শিবির আহমেদের কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠানকে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠান তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অপেক্ষা করিয়েও কোনো কাজ দেননি।

পরে তিনি বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামানের দপ্তরের সামনে গিয়ে উত্তেজিত আচরণ করেন। ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে দায়িত্বরত আনসার সদস্য বাধা দিলে তাকেও গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একপর্যায়ে কোরবান আলী দাবি করেন, নির্বাহী পরিচালকের নাম ব্যবহার করেও তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি সরাসরি নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে চান। এ সময় বিএমডিএর ভারপ্রাপ্ত সচিব এনামুল কাদির এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে তাকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার কোরবান আলী এর আগেও একাধিকবার কার্যালয়ে গিয়ে একই ধরনের অভিযোগ তুলে হট্টগোল করেছেন। প্রায় এক মাস আগেও তিনি কাজ না পাওয়ার অভিযোগে অফিসে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ঠিকাদার কোরবান আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আর প্রকল্প পরিচালক শিবির আহমেদ ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুনঃ  মাদকমুক্ত মুসলিমাবাদ: এলাকাবাসীর প্রতিরোধে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা এলাকা ছাড়ল

অভিযোগ অস্বীকার করে উপসহকারী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন পাঠান বলেন, “ঘটনার সময় আমি ও প্রকল্প পরিচালক সাইট পরিদর্শনে ছিলাম। পরে বিষয়টি শুনেছি।”

বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. কামরুজ্জামান বলেন, “ঘটনার সময় ওই ঠিকাদার মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তিনি আমার দপ্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে ফোনে কথা হলে কোরবান আলী জানান, সাবেক সরকারের এক কৃষিমন্ত্রীর ভাতিজাকে তিনি টাকা দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “মদ্যপ অবস্থায় তিনি বিভিন্ন কটূক্তি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”