Dhaka ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রংপুরে স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে টেনে নামাবেন, আর রাজনীতি করব না” ‎— কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান কালিয়াকৈরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল শাহজীবাজার–গ্যাসফিল্ড সড়কে স্বস্তি, বাদশা কোম্পানির উদ্যোগে ভাঙা সড়কের গর্ত ভরাট, নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা উচ্ছেদের পরও থামেনি জুয়ার কারবার, আমবাগানে ওসমানের নতুন আস্তানা—গ্রেপ্তার ৬ রামুতে ট্রাকের চেসিসের গোপন গাদামে মিলল ১ লাখ ৩৮ হাজার ইয়াবা, আটক ১ টেকনাফে কোস্ট গার্ডের পৃথক ৩ অভিযানে ১৪ কেজি আইস, বিদেশি মদ ও ৫ হাজার ইয়াবা জব্দ কালিয়াকৈরে কুকুরের কামড়ে অতিষ্ঠ পথচারী ও শিক্ষার্থীরা কালীগঞ্জের মথুরেশপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বিটিভির লোগো পরিবর্তন নয়; দরকার দায়িত্বশীল গণমাধ্যমে রূপান্তর
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

নদী ভাঙন : প্রকৃতির খেলা নাকি পরিকল্পিত প্রজেক্ট রাজনীতি

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও : পীরগঞ্জ উপজেলার হৃদয় জুড়ে সর্পিলাকারে বয়ে গেছে টাঙ্গন নদী একসময় যার নীল জলে প্রতিফলিত হতো গ্রামের শান্ত মুখ, এখন সেই নদী হয়ে উঠেছে ভয় ও অনিশ্চয়তার প্রতীক। প্রতি বর্ষায় টাঙ্গনের পানি বাড়লে তার পাড়ে দেখা দেয় ভাঙন। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ—সবকিছু হারিয়ে যায় জলের গ্রাসে। অথচ প্রশ্ন জাগে, এই ভাঙন কি শুধুই প্রাকৃতিক? নাকি কেউ এটি “পুষে রাখছে” কোনো বড় প্রকল্পের আশায়?

 

 

পীরগঞ্জ উপজেলার একাধিক এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ভাঙন এখন একধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক হাতিয়ার। যখন নদী ভাঙে, তখন শুরু হয় প্রজেক্ট তোলার আলোচনা।প্রতিরোধ বাঁধ, নদী সংস্কার, স্লুইসগেট, বাঁধন প্রকল্প ইত্যাদি নামে কোটি টাকার কাজ। এই কাজের দরপত্রে নাম আসে সেই পরিচিত কয়েকজন ঠিকাদারের, যাদের সঙ্গে থাকে রাজনৈতিক দলের সমর্থন এবং প্রশাসনের নীরব সহযোগিতা। ফলে নদীর ভাঙন প্রতিবারই “দুর্ভাগ্য নয়, সুযোগ” হয়ে দাঁড়ায় এক শ্রেণির মানুষের কাছে।

 

 

টাঙ্গনের বাঁকে বাঁকে দেখা যায় একই চিত্র। বছরের পর বছর ধরে একই জায়গায় ভাঙন, অথচ কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। বরং প্রকল্পের নামে বালু ফেলা, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, এবং বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি হয়ে গেছে কাগজেই। ফলাফল,পরের বছর আবার ভাঙন, আবার নতুন প্রজেক্ট। এ যেন নদীর নয়, বরং প্রজেক্টের পুনর্জন্মচক্র।

 

 

নদী ভাঙনের এই কৃত্রিম স্থায়িত্ব গ্রামীণ সমাজের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো দুটোই ধ্বংস করছে। মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে জলছাড়া বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, কিন্তু যাদের দায়িত্ব রক্ষা করার, তারা ব্যস্ত হিসাব মিলাতে। প্রশাসন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং ঠিকাদারদের এই গোপন যোগসাজশই নদী ভাঙনকে প্রশ্নাতীত নয়, বরং প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

 

 

নদী ভাঙন প্রকৃতির একটি বাস্তবতা কিন্তু এর স্থায়িত্ব ও ভয়াবহতা এখন মানবসৃষ্ট। টাঙ্গন নদী আজ এক আয়নার মতো, যেখানে দেখা যায় স্থানীয় দুর্নীতি, প্রজেক্ট রাজনীতি ও প্রশাসনিক উদাসীনতার বিকৃত প্রতিবিম্ব। প্রশ্ন শুধু একটাই,আমরা কি নদী বাঁচাতে চাই, নাকি নদীকে ভাঙতে দিয়ে নিজেদের প্রজেক্ট সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে চাই

আরও পড়ুনঃ  বিকেলেই তীব্র হতে পারে লোডশেডিং, বিদ্যুতের ঘাটতি ২৮৯৪ মেগাওয়াটের শঙ্কা
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রংপুরে স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

নদী ভাঙন : প্রকৃতির খেলা নাকি পরিকল্পিত প্রজেক্ট রাজনীতি

সময়: ১০:২৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও : পীরগঞ্জ উপজেলার হৃদয় জুড়ে সর্পিলাকারে বয়ে গেছে টাঙ্গন নদী একসময় যার নীল জলে প্রতিফলিত হতো গ্রামের শান্ত মুখ, এখন সেই নদী হয়ে উঠেছে ভয় ও অনিশ্চয়তার প্রতীক। প্রতি বর্ষায় টাঙ্গনের পানি বাড়লে তার পাড়ে দেখা দেয় ভাঙন। ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ—সবকিছু হারিয়ে যায় জলের গ্রাসে। অথচ প্রশ্ন জাগে, এই ভাঙন কি শুধুই প্রাকৃতিক? নাকি কেউ এটি “পুষে রাখছে” কোনো বড় প্রকল্পের আশায়?

 

 

পীরগঞ্জ উপজেলার একাধিক এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ভাঙন এখন একধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক হাতিয়ার। যখন নদী ভাঙে, তখন শুরু হয় প্রজেক্ট তোলার আলোচনা।প্রতিরোধ বাঁধ, নদী সংস্কার, স্লুইসগেট, বাঁধন প্রকল্প ইত্যাদি নামে কোটি টাকার কাজ। এই কাজের দরপত্রে নাম আসে সেই পরিচিত কয়েকজন ঠিকাদারের, যাদের সঙ্গে থাকে রাজনৈতিক দলের সমর্থন এবং প্রশাসনের নীরব সহযোগিতা। ফলে নদীর ভাঙন প্রতিবারই “দুর্ভাগ্য নয়, সুযোগ” হয়ে দাঁড়ায় এক শ্রেণির মানুষের কাছে।

 

 

টাঙ্গনের বাঁকে বাঁকে দেখা যায় একই চিত্র। বছরের পর বছর ধরে একই জায়গায় ভাঙন, অথচ কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। বরং প্রকল্পের নামে বালু ফেলা, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, এবং বরাদ্দের টাকা ভাগাভাগি হয়ে গেছে কাগজেই। ফলাফল,পরের বছর আবার ভাঙন, আবার নতুন প্রজেক্ট। এ যেন নদীর নয়, বরং প্রজেক্টের পুনর্জন্মচক্র।

 

 

নদী ভাঙনের এই কৃত্রিম স্থায়িত্ব গ্রামীণ সমাজের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো দুটোই ধ্বংস করছে। মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে জলছাড়া বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, কিন্তু যাদের দায়িত্ব রক্ষা করার, তারা ব্যস্ত হিসাব মিলাতে। প্রশাসন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী এবং ঠিকাদারদের এই গোপন যোগসাজশই নদী ভাঙনকে প্রশ্নাতীত নয়, বরং প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

 

 

নদী ভাঙন প্রকৃতির একটি বাস্তবতা কিন্তু এর স্থায়িত্ব ও ভয়াবহতা এখন মানবসৃষ্ট। টাঙ্গন নদী আজ এক আয়নার মতো, যেখানে দেখা যায় স্থানীয় দুর্নীতি, প্রজেক্ট রাজনীতি ও প্রশাসনিক উদাসীনতার বিকৃত প্রতিবিম্ব। প্রশ্ন শুধু একটাই,আমরা কি নদী বাঁচাতে চাই, নাকি নদীকে ভাঙতে দিয়ে নিজেদের প্রজেক্ট সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে চাই

আরও পড়ুনঃ  হরমুজ সংকটে ফের অনিশ্চিত কাতারের এলএনজি, অক্টোবরেও সরবরাহ বন্ধের শঙ্কা