
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নবীগঞ্জ উপজেলার ৬নং কুর্শী ইউনিয়নের এনাতাবাদ গ্রামে দুলাল মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যা দাবি করা হলেও অভিযুক্ত কাউকেই বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবার জানায়, গত সোমবার দুলাল মিয়ার স্ত্রী এক আত্মীয়ের বাড়িতে সাহায্যের জন্য গেলে তা নিয়ে পরিবারে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় দুলাল মিয়া তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী তসিবা বেগমের কাছে স্ত্রীর অবস্থান জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, ওই ঘটনার জেরে রাতেই তসিবা বেগমের স্বামী ও সন্তানরা ঘুমন্ত অবস্থায় দুলাল মিয়াকে বেধড়ক মারধর করেন। পরদিন মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে দুলাল মিয়ার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে আত্মীয়স্বজনরা ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে ঘরের পেছনের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান ভাতিজারা।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঝুলন্ত অবস্থা থেকে মরদেহ নামিয়ে ফেলা হয়, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রশাসনের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিহত দুলাল মিয়ার স্ত্রী তসিবা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামীকে তাঁর ভাই ও ভাতিজারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। ঘটনার পর থেকে আমি সন্তানদের নিয়ে প্রাণভয়ে আত্মগোপনে রয়েছি।” তবে তিনি ঝগড়া বা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নিহত দুলাল মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শী ইউনিয়নের এনাতাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন এবং তিন সন্তানের জনক।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোনায়েম মিয়ার নির্দেশে এসআই এ.কে.এম মনজুরুলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে এসআই মনজুরুল জানান, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
বুলবুল আহমেদ‚ নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 






















