Dhaka ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কালীগঞ্জে নগর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের পরামর্শকরণ সভা অনুষ্ঠিত ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ মধ্যনগরের আমানিপুরে ৮ বছরের শিশু নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে এলএসপি সদস্যদের টানা ১০ দিনের অবস্থান কর্মসূচি নওগাঁর বদলগাছীতে এনসিপির জনসভা, গণভোট, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবি সুনামগঞ্জে সামাজিক নিরীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সাভারে ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আনোয়ার হোসেনের বহরে হামলার অভিযোগ, আহত ৪ বন্যাদুর্গতদের পাশে কক্সবাজার জেলা পুলিশ, চকরিয়া-পেকুয়ায় ত্রাণ বিতরণ ভাঙ্গুড়ার খানমরিচ ইউনিয়নে এডিপির অর্থায়নে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ কসবায় ব্যাংকার হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে নবীনগরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

পণ্য পরিবহন ও রাজস্বে ইতিহাস গড়ল চট্টগ্রাম বন্দর

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:০২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ২৬ Time View

 

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর পণ্য পরিবহন ও রাজস্ব আদায়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিদায়ী অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে প্রায় সোয়া ১১ কোটি টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে, যার সম্মিলিত শুল্কায়িত মূল্য ১১ লাখ কোটি টাকারও বেশি। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও শুল্কায়ন কার্যক্রম থেকে সরকারি কোষাগার এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস করা হয়েছে। এসব পণ্যের শুল্কায়িত মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এই আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা

তুলনামূলক হিসেবে দেখা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তুলনায় আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ ৬ শতাংশ এবং রাজস্ব আদায় প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাত থেকে সরকারের আয় ছিল ৭৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা

রপ্তানি বাণিজ্যেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৪৯ লাখ টন পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে, যার শুল্কায়িত মূল্য প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ ৪ শতাংশ বাড়লেও শুল্কায়িত মূল্যের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ শতাংশের নিচে। যদিও অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যে সরাসরি শুল্ক আরোপ করা হয় না, তবুও বৈদেশিক বাণিজ্যের এই সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু রাজস্ব নয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয়েও এসেছে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বন্দরের পরিচালন আয় ছিল ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কনটেইনার ও বাল্ক কার্গো পরিবহন বৃদ্ধি এবং ট্যারিফ সমন্বয়ের কারণে এই রেকর্ড আয় সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বন্যার্তদের পাশে কক্সবাজার জেলা পুলিশ, চকরিয়া-পেকুয়ার দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে সরকারি আয়ের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং পরিবহন খাতের হাজারো প্রতিষ্ঠান সরাসরি এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এসব খাতের সম্মিলিত আর্থিক লেনদেনের কোনো কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান নেই, সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী সরকারি রাজস্বের বাইরে প্রতিবছর আরও কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কালীগঞ্জে নগর মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রকল্পের পরামর্শকরণ সভা অনুষ্ঠিত

পণ্য পরিবহন ও রাজস্বে ইতিহাস গড়ল চট্টগ্রাম বন্দর

সময়: ০৯:০২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

 

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর পণ্য পরিবহন ও রাজস্ব আদায়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিদায়ী অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে প্রায় সোয়া ১১ কোটি টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়েছে, যার সম্মিলিত শুল্কায়িত মূল্য ১১ লাখ কোটি টাকারও বেশি। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও শুল্কায়ন কার্যক্রম থেকে সরকারি কোষাগার এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস করা হয়েছে। এসব পণ্যের শুল্কায়িত মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এই আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ভিত্তি করে চট্টগ্রাম কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলোর মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা

তুলনামূলক হিসেবে দেখা যায়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের তুলনায় আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ ৬ শতাংশ এবং রাজস্ব আদায় প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের অর্থবছরে এই খাত থেকে সরকারের আয় ছিল ৭৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা

রপ্তানি বাণিজ্যেও ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৪৯ লাখ টন পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে, যার শুল্কায়িত মূল্য প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ ৪ শতাংশ বাড়লেও শুল্কায়িত মূল্যের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ শতাংশের নিচে। যদিও অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যে সরাসরি শুল্ক আরোপ করা হয় না, তবুও বৈদেশিক বাণিজ্যের এই সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু রাজস্ব নয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব আয়েও এসেছে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বন্দরের পরিচালন আয় ছিল ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কনটেইনার ও বাল্ক কার্গো পরিবহন বৃদ্ধি এবং ট্যারিফ সমন্বয়ের কারণে এই রেকর্ড আয় সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ   "বৃষ্টিতে সুখ–দুঃখ"

চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে সরকারি আয়ের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং পরিবহন খাতের হাজারো প্রতিষ্ঠান সরাসরি এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এসব খাতের সম্মিলিত আর্থিক লেনদেনের কোনো কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান নেই, সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী সরকারি রাজস্বের বাইরে প্রতিবছর আরও কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।