মোঃজোনায়েদ হোসেন জুয়েল,
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
শুধু বই সংরক্ষণ নয়, আধুনিক ও কার্যকর গ্রন্থাগারকে জ্ঞানচর্চা, পাঠাভ্যাস সৃষ্টি এবং সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী গ্রন্থাগারিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। জেলার ৫৫টি বেসরকারি গণগ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক, কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মশালায় আধুনিক গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা, পাঠকসেবা, বই সংরক্ষণ, আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির আয়োজনে এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রশিক্ষণ সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ে বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশন।
সকাল ৯টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশনে গ্রন্থাগার পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম। কর্মশালার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. ইয়াসমীন আহমেদ, সাবেক অধ্যক্ষ, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা এবং মু. আ. লতিফ, সিনিয়র সাংবাদিক ও আঞ্চলিক ইতিহাস-ঐতিহ্য লেখক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির সভাপতি মোঃ রুহুল আমীন। স্বাগত বক্তব্য দেন সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বর্মণ।
প্রশিক্ষণে যেসব বিষয়ে গুরুত্ব
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে আধুনিক গ্রন্থাগার প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা, পাঠকসেবার মানোন্নয়ন, বই সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, ক্যাটালগিং, শ্রেণিবিন্যাস এবং গ্রন্থাগারের নিয়মিত কার্যক্রম পরিকল্পনা বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি গ্রন্থাগারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। হিসাব সংরক্ষণ, ক্যাশ বুক ও ভাউচার ব্যবস্থাপনা, বাজেট প্রণয়ন, অডিট এবং জবাবদিহিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে দেওয়া হয় ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের গ্রন্থাগারের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ আরও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা, বইয়ের তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পাঠকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পাঠক বাড়াতে নতুন উদ্যোগের তাগিদ
কর্মশালায় শুধু গ্রন্থাগারের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নয়, পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি নিয়েও আলোচনা হয়। শিশু-কিশোরদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, তরুণদের গ্রন্থাগারমুখী করা এবং গ্রন্থাগারকে স্থানীয় জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জেলার বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর বর্তমান সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে গ্রন্থাগারের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবভিত্তিক ধারণা দেওয়া হয়।
গ্রন্থাগারকে টেকসই প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার প্রত্যয়
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া গ্রন্থাগারিক ও প্রতিনিধিরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি পাঠকসেবা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। বিশেষ করে হিসাব সংরক্ষণ, অডিট, বই ব্যবস্থাপনা ও পাঠকসেবার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া ধারণা তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগাতে পারবেন বলে জানান।
আয়োজকরা বলেন, বেসরকারি গণগ্রন্থাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ে পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চা বিস্তারে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে সময়ের সঙ্গে গ্রন্থাগারের ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতেও আধুনিকায়ন প্রয়োজন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রন্থাগারিকদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার হবে।
তারা আরও জানান, কিশোরগঞ্জের বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোকে আধুনিক, সুশৃঙ্খল, পাঠকবান্ধব ও টেকসই প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা হিসেবে এ কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা রয়েছে।
আয়োজক: কিশোরগঞ্জ জেলা বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতি
প্রশিক্ষণ সহযোগিতায়: জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র
বাস্তবায়ন সহযোগী: সুফিয়া-মান্নান ফাউন্ডেশন
Reporter Name 
























