
মোঃ মোনাহার মিয়া
স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের বেতমারী গ্রামে দশানী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মসজিদ, ফসলি জমি ও জনবসতি হুমকির মুখে পড়েছে। নদী ভাঙন রোধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংরক্ষণ এবং একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) জুমার নামাজের পর নদীভাঙন কবলিত এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দশানী নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতিদিনই সড়কের বিভিন্ন অংশ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে অচিরেই পুরো সড়কটি নদীতে হারিয়ে যাবে। এতে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, নদীর ওপারে হাজার হাজার মানুষের বসবাস। একটি স্থায়ী ব্রিজ না থাকায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় মসজিদ, বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, “দশানী নদীর ভাঙনে আমাদের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। প্রতিদিন নদী ভাঙছে, রাস্তা নদীতে চলে যাচ্ছে। আমরা দ্রুত নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা চাই।”
আসাদুজ্জামান দুদু বলেন, “নদীর ওপারে হাজার হাজার মানুষের বসবাস। একটি ব্রিজের অভাবে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়। সরকার দ্রুত একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে।”
বেতমারী জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রউফ বলেন, “নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই মসজিদসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়বে। মানুষের জানমাল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।”
মোশারফ মুন্সি বলেন, “আজ আমরা মানববন্ধনের মাধ্যমে আমাদের দাবি জানিয়েছি। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে এবং এলাকার বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে নদী ভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংরক্ষণ এবং নদীর দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কেউ আমার কাছে আসেনি। এলাকাবাসী লিখিত আবেদন নিয়ে এলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, “এ বিষয়ে এখনো আমাকে লিখিতভাবে বা ফোনে কেউ অবহিত করেনি। বিষয়টি জানালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে রাস্তা, মসজিদ, কৃষিজমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সম্ভাব্য ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
Reporter Name 
























