Dhaka ১১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ছয় বছর ধরে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ই-মেল, পরিচিতদের কাছে নানা অভিযোগ ও টাকা চাওয়ার বার্তা সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার আহ্বান, হামলার ছবি-ভিডিও ধারণ ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশে নিষেধ পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন আসছে রোববার, জানা গেল বিলম্বের কারণ দুবাইয়ে ৭৩ বাংলাদেশির সম্পদের তথ্য চাবে দুদক ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮১.৯২ শতাংশ শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের ঢাকা-মস্কো সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে নতুন উদ্যোগ, রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মৈত্রী গ্রুপের বৈঠক কক্সবাজারে দীঘির নতুন লুক, ছবি প্রকাশের পর ভক্তদের প্রশংসা সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালচক্র নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী কালীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ২০ নিজ বাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, ৩ বছরের কন্যাসহ জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী খুন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

বন্যায় নেপালের জলবিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৬:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২১ Time View

 

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ খাত। ভোতেকোশি নদীর বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

নেপালের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত চিলিমে ও ত্রিশূলী প্রকল্প

গত ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত চিলিমে ও ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলিমে এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলী—দুটি প্রকল্পেই বন্যার পর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি পেতে ভারতের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে।

নেপালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ৩৫০ মেগাওয়াট

বর্ষাকালে নেপালের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণত এ সময়ে দেশটির জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। গত কয়েক বছরে বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।

এবারের বন্যায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। বন্যার পর নেপালের মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থা ব্যবহার করে এসব বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমোদনও ছিল প্রকল্প দুটির।

৪০ মেগাওয়াট দিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি, ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়।

আরও পড়ুনঃ  এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ট্যাব দেওয়ার পরিকল্পনা

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করার কথা নেপালের।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয় বাংলাদেশ ও নেপাল। তবে ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের অনুমোদন না পাওয়ায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো শুরু হয়নি।

বন্যার বাইরেও রয়েছে রপ্তানি নিয়ে জটিলতা

নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি শুধু বন্যার কারণেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। দেশটির আরও তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ভারতে ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

৩৮ দশমিক ৮ মেগাওয়াটের আপার চামেলিয়া প্রকল্পের অনুমোদনের মেয়াদ জুনে এবং ২৪ দশমিক ২৫ মেগাওয়াটের সেটি রিভার ও ১০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াটের আপার তাদি খোলা প্রকল্পের অনুমোদনের মেয়াদ জুলাইয়ে শেষ হয়। এসব অনুমোদন প্রতিবছর নবায়ন করতে হয়।

এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সম্মিলিত সক্ষমতার ৩৭টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতের অনুমোদন পেয়েছে নেপাল।

বিদ্যুৎ বাণিজ্যেও চাপ

বন্যার কারণে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতে ২ হাজার ৯৩২ কোটি নেপালি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করে দেশটি।

একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপির বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। এরপরও নিট বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে কাজ করছে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি। পাশাপাশি সচল অন্য কোনো প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য ভারতের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল

গত ২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল স্রোতের সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীতীরবর্তী জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

আরও পড়ুনঃ  ১৫ ঘণ্টা পর জামালপুরে দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক

বন্যার স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যায়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।

‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জনে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে এখনো ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ভয়াবহ দুর্যোগের প্রভাব নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যবস্থাতেও পড়েছে। ফলে আপাতত বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ছয় বছর ধরে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির ই-মেল, পরিচিতদের কাছে নানা অভিযোগ ও টাকা চাওয়ার বার্তা

বন্যায় নেপালের জলবিদ্যুৎ খাত বিপর্যস্ত, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ

সময়: ০৬:৩৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ খাত। ভোতেকোশি নদীর বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

নেপালের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত চিলিমে ও ত্রিশূলী প্রকল্প

গত ২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত চিলিমে ও ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলিমে এবং ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলী—দুটি প্রকল্পেই বন্যার পর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি পেতে ভারতের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে।

নেপালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ৩৫০ মেগাওয়াট

বর্ষাকালে নেপালের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সাধারণত এ সময়ে দেশটির জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। গত কয়েক বছরে বর্ষা মৌসুমে নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।

এবারের বন্যায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। বন্যার পর নেপালের মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থা ব্যবহার করে এসব বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমোদনও ছিল প্রকল্প দুটির।

৪০ মেগাওয়াট দিয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি শুরু

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি, ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়।

আরও পড়ুনঃ  ১৫ ঘণ্টা পর জামালপুরে দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক

চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করার কথা নেপালের।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয় বাংলাদেশ ও নেপাল। তবে ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের অনুমোদন না পাওয়ায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো শুরু হয়নি।

বন্যার বাইরেও রয়েছে রপ্তানি নিয়ে জটিলতা

নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি শুধু বন্যার কারণেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। দেশটির আরও তিনটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ভারতে ৭৩ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

৩৮ দশমিক ৮ মেগাওয়াটের আপার চামেলিয়া প্রকল্পের অনুমোদনের মেয়াদ জুনে এবং ২৪ দশমিক ২৫ মেগাওয়াটের সেটি রিভার ও ১০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াটের আপার তাদি খোলা প্রকল্পের অনুমোদনের মেয়াদ জুলাইয়ে শেষ হয়। এসব অনুমোদন প্রতিবছর নবায়ন করতে হয়।

এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সম্মিলিত সক্ষমতার ৩৭টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতের অনুমোদন পেয়েছে নেপাল।

বিদ্যুৎ বাণিজ্যেও চাপ

বন্যার কারণে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতে ২ হাজার ৯৩২ কোটি নেপালি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করে দেশটি।

একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপির বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। এরপরও নিট বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে কাজ করছে নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি। পাশাপাশি সচল অন্য কোনো প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য ভারতের অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল

গত ২৬ আগস্ট তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল স্রোতের সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীতীরবর্তী জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

আরও পড়ুনঃ  মহাখালীতে অলস পড়ে থাকা বাস সরানো শুরু, পূর্বাচলে হবে ৬০০ বাসের ডিপো

বন্যার স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যায়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।

‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জনে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে এখনো ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ভয়াবহ দুর্যোগের প্রভাব নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যবস্থাতেও পড়েছে। ফলে আপাতত বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।