
মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উদীয়মান নৃত্যশিল্পী হিসেবে ইতোমধ্যে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তাজিম রহমান। অল্প বয়সেই জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে সে রাঙামাটির নাম উজ্জ্বল করে চলেছে।
তাজিম রহমান বর্তমানে মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী (রোল নম্বর–১০)। তার বাড়ি সাং দক্ষিণ ফরেস্ট কলোনি, কোতোয়ালি থানা, রাঙামাটি জেলায়। তার পিতা মোঃ বদিউল আলম।
শৈশবকাল থেকেই নৃত্যের প্রতি তাজিমের বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। নিয়মিত অনুশীলন, শিক্ষক ও পরিবারের সার্বিক সহযোগিতায় সে আজ জাতীয় পর্যায়ে একজন সম্ভাবনাময় নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
এক নজরে তাজিম রহমানের অর্জন-
শিক্ষা পদক ২০২২ : স্বর্ণপদক (একক অভিনয়)
প্রতিভা অন্বেষণ ২০২৩ : দ্বিতীয় স্থান (নৃত্য পরিবেশনা)
শিক্ষা পদক ২০২৪ : স্বর্ণপদক (নৃত্য পরিবেশনা)
শাপলা কুঁড়ি ২০২৫ : তৃতীয় স্থান (লোকনৃত্য)
ভোরের পাখি ২০২৬ : চ্যাম্পিয়ন (সৃজনশীল নৃত্য)
ভোরের পাখি ২০২৬ : দ্বিতীয় স্থান (লোকনৃত্য)
সাম্প্রতিক সময়ে ভোরের পাখি নৃত্যকলা কেন্দ্র আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সৃজনশীল নৃত্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নতুন করে আলোচনায় আসে তাজিম রহমান। একই আসরে লোকনৃত্য বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তার বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা মনে করেন, ভবিষ্যতে তাজিম রহমান বাংলাদেশের নৃত্যাঙ্গনে একজন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।
মুজাদ্দেদ-ই-আলফেসানী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল কবির বলেন,“তাজিম রহমান আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য গর্বের নাম। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্যের মতো সৃজনশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ক্ষেত্রে তার এই সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয়। অল্প বয়সেই তার নিষ্ঠা ও আত্মবিশ্বাস অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুকরণীয়। আমরা বিশ্বাস করি, সে একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করবে।”
তাজিম রহমান জানায়,“আমি ভবিষ্যতে একজন পেশাদার নৃত্যশিল্পী হয়ে দেশ ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে চাই।”
তার পিতা মোঃ বদিউল আলম বলেন,“একজন বাবা হিসেবে সন্তানের এই সাফল্য আমার জন্য গর্ব ও আনন্দের। ছোটবেলা থেকেই নৃত্যের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। পরিবার হিসেবে আমরা সবসময় তার পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চায় সহযোগিতা করেছি। জাতীয় পর্যায়ে তার এই অর্জন আমাদের পরিশ্রমকে সার্থক করেছে।”
তাজিম রহমানের এই ধারাবাহিক সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠীসহ রাঙামাটিবাসী গর্বিত। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 


























