
আশিক বিশ্বাস, মোংলা প্রতিনিধি
সুন্দরবনের নদী ও খালে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসের জন্য কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। নতুন বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। ফলে সুন্দরবনের দুই বিভাগের নদী-খালে কাঁকড়া প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে গতকাল বৃহস্পতিবার এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। দুই মাস শিলা কাঁকড়াসহ ১৪ প্রজাতির কাঁকড়ার প্রজনন হয় সুন্দরবনে।
বন বিভাগ জানায়, “দেশে কাঁকড়ার চাহিদা না থাকলেও বিদেশে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে জীবন্ত কাঁকড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। নব্বই দশকের মাঝামাঝি প্রচলিত পণ্য হিসেবে সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, চিন, হংকং ও মালয়েশিয়ায় কাঁকড়া রফতানি শুরু হয়। তাই বিশ্বের বাণিজ্যিক বাজারে কাঁকড়া চাহিদা মেটাতে এবং সুন্দরবনে কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উদ্যোগ নেয় বন বিভাগ। প্রতিবছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এ দুমাস সুন্দরবনের নদী ও খালে থাকা কাঁকড়ায় ডিম হয়। সেই ডিম ফুটে বের হয় ছোট কাঁকড়া। এ সময়ে কাঁকড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।”বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার। যা পুরো সুন্দরবনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। সুন্দরবনের জলভাগে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া আছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি এই দুমাস কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম হওয়ায়, ৫৯ দিনের জন্য জেলেদের সুন্দরবনে কাঁকড়া ধরার অনুমতি বন্ধ রাখে বন বিভাগ।তবে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, “প্রজনন মৌসুমে কয়েকটি চক্র নানা কৌশলে সুন্দরবনে ঢুকে কাঁকড়া ধরে। বন বিভাগের একশ্রেণীর অসাধু বনরক্ষী ও কর্মকর্তাদের সহায়তায় ওই সব চক্র কাঁকড়া ধরা অব্যাহত রাখে।
এতে সাধারণ জেলেরা যেমন আর্থিক সংকটে পড়েন, তেমনি কাঁকড়া ধরা বন্ধ রাখার আসল উদ্দেশ্যে ব্যাহত হয়। পাশাপাশি কাঁকড়ার বংশবিস্তার এবং সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা পরিবেশবাদীদের।পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী ও পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, “জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁকড়া ডিম পাড়ে। ডিমওয়ালা কাঁকড়াগুলো ক্ষুধার্ত থাকে, তাই সহজে ধরা যায়। এ সময় স্বীকার না করলে পরের বছর বেশি কাঁকড়া উৎপাদন করা সম্ভব। অসাধু কাঁকড়া শিকারীদের ধরতে আমরা টহল জোরদার করেছি। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে বন আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 





















