
পরিবারের প্রথম আলো ত্রিশ বছর পার হলো।
ত্রিশ বছর শুধু একটা সময় নয়—
ত্রিশ বছর জনাথানের বয়স।
সাত বছর বয়সে যে ছোট্ট দুটি হাতে
টেনিস র্যাকেট ধরেছিল—
সেই হাত আজও ধরে রেখেছে স্বপ্ন,
ধরে রেখেছে যুদ্ধ।
সে খেলেছে—না, শুধু কোর্টে নয়,
খেলেছে জীবনের প্রতিটি লড়াইয়ে।
ইনজুরি?
তা ছিল যেন তার ছায়ার মতো—
বারবার এসে ধরেছে, ভেঙেছে,
তবু সে ভেঙে পড়েনি।
সে বুঝেছে—
জয় মানে কেবল ট্রফি নয়,
জয় মানে আবার উঠে দাঁড়ানো।
যখন শরীর বলে, ‘আর পারি না’,
মন তখন বলে, ‘চেষ্টা কর, থেমো না।’
আর পরাজয়?
সেই পরাজয় তাকে শিখিয়েছে—
জয় একদিন আসবেই,
শুধু কোর্টে নয়, জীবনের প্রতিটি যুদ্ধেও।
আজ তার জন্মদিনে,
আমরা সবাই দাঁড়িয়ে আছি তার পাশে—
নীরবে, শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়।
তার প্রতিটি ধৈর্য, প্রতিটি ঘাম,
তার প্রতিটি জয়-পরাজয়ের গল্প
আমাদের শিখিয়েছে বেঁচে থাকার মানে।
সে কেবল আমাদের ছেলে নয়—
সে এক প্রতিচ্ছবি,
জীবনের কাছে মাথা না নোয়ানোর কাব্য।
যখন চারপাশ থেমে যায়,
তখনও সে ছুটেছে,
যেন এক দীপ্ত আঁধারের বিরুদ্ধে জন্মানো আলো।
এ ত্রিশ বছর শুধু সংখ্যা নয়—
এ এক শপথ, এক যাত্রা, এক জেগে থাকা বিস্ময়।
আর এই গল্পের শেষ কোথায়?
শেষ নেই—এই তো শুরু,
এই জীবন যাবে শত বছর পর্যন্ত—
ভালোবাসায়, সাহসে, দৃঢ়তায় বাঁধা
এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়ে।
একদিন, আমরা সবাই বলব—
এই জীবন কেটেছে গর্বে, সুখে, শান্তিতে।
কারণ জনাথান ছিল, আছে, থাকবে—
যে শিখিয়েছে,
বেঁচে থাকা মানেই তো জয়—
যেখানে শত বছরের সুখ-গন্ধ মিশে থাকে
একটি সাহসী হৃদয়ের স্পন্দনে।
একদিন, গোধূলির নরম আলোয় আমরা সবাই বলব—
এই জীবন ছিল এক বিস্ময়কর গান,
যেখানে ক্লান্তি ছিল, কিন্তু থেমে যাওয়া ছিল না,
যেখানে কান্না ছিল, কিন্তু হেরে যাওয়া ছিল না।
কারণ জনাথান ছিল, আছে, থাকবে—
যে আমাদের শিখিয়েছে,
জীবন মানে শুধু টিকে থাকা নয়,
জীবন মানে প্রতিদিন জেগে ওঠা,
নিজের আলোয় আশপাশকে আলোকিত করা।
বেঁচে থাকা মানেই তো জয়—
যেখানে শত বছরের সুখ-গন্ধ মিশে থাকে
একটি সাহসী হৃদয়ের স্পন্দনে।
আর সেই স্পন্দনেই বাজে—
আমাদের ভালোবাসার সবচেয়ে সত্যি,
সবচেয়ে সুন্দর চিরস্থায়ী স্মৃতিচারণ।
রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক
(সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন)
Rahman.Mridha@gmail.com
রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক,সুইডেন 



























