Dhaka ০৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কর্মজীবনে চাকরি নয়, আত্মউন্নয়নই হোক লক্ষ্য নরসিংদীতে মু’ক্তিপ’ণ আদায় চ’ক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার” নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ যে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা পাওয়া যায়নি: মিয়া গোলাম পরওয়ার সেপ্টেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার, নেওয়া হবে ২ লাখ শ্রমিক এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে তথ্য সংশোধনের সুযোগ, নতুন আবেদনের সময় ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটে ত্রুটি মাত্র ১.২ শতাংশ: আমির খসরু জামায়াতের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের আশঙ্কা, দাবি রাশেদ খাঁনের নেপালে বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয়, মৃত ৭৩৪; নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার ৬১ দিনের গুমের স্মৃতি, বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুমের বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্বসম্প্রদায়ের পাশে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

স্বপ্নজয়ী সংগঠনের উদ্যোগে বিধবা মা পেলেন ঘর

  • Reporter Name
  • সময়: ০২:১৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ৪৬ Time View

 

সঞ্জয় শীল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামগ্রাম পুর্ব উওরপাড়া নাগবাড়ি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত সুবল সাহার স্ত্রী অঞ্জলী সাহা। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি কাটিয়েছেন চরম কষ্ট আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে তিন মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত, আর রাত কাটাতে হতো পলিথিন টাঙিয়ে। অসহায় এই মায়ের দুঃখ-দুর্দশা দেখেও সমাজের অনেক বিত্তবান মানুষ ছিলেন নীরব।
কয়েক বছর আগে অঞ্জলী সাহার স্বামী অসুস্থ অবস্থায় হুইলচেয়ারের অভাবে চলাফেরা করতে না পারার বিষয়টি সিটিভি অনলাইনে প্রকাশিত হলে কিছু মানবিক মানুষ এগিয়ে এসে একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামীকে হারিয়ে আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন অঞ্জলী সাহা।
এমন সময় তার জীবনে আশার আলো হয়ে আসে শ্যামগ্রাম স্বপ্নজয়ী সংগঠন। অসহায় এই বিধবা মায়ের দুর্দশার কথা জানতে পেরে সংগঠনের সদস্যরা এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভাইদের সহযোগিতায় একটি নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ভালোবাসা, মানবতা ও সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তারা অঞ্জলী সাহার মাথার ওপর একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে দেন।
১৮ জুন বৃহস্পতিবার সকালে ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে অঞ্জলী সাহার চোখে দেখা যায় আনন্দ আর কৃতজ্ঞতার অশ্রু। বহুদিনের কষ্টের জীবন পেরিয়ে নিজের একটি নিরাপদ ঘর পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি আমার জন্য কেউ এভাবে এগিয়ে আসবে। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন।”

এ সময় বক্তব্য রাখেন স্বপ্নজয়ী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জিহাদ, ইউপি সদস্য রঞ্জন মেম্বার, রাজন সূত্রধর, বাপন নাগ ও নিলয় সাহা।
সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিয়াস, নাফিজ, সাকিব, আরিফ, রায়হান, বাপ্পি, রাহুল, তৌকিরসহ আরও অনেকে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাজহারুল ইসলাম বাদল, কামরুল ইসলাম নিপু, শেখ ফরিদ, আনোয়ার হোসেন, মিঠু, দুর্জয়, ফাহিম, রায়হান, জুনায়েদ, মাহিন, আশরাফুল, প্রসেনজিৎ, প্রভাত, জয়ন্ত, তুলসী কর, দীপক কর, রামু কর, মনু কর, পলাশ কর, বাপন নাগ, রঞ্জন নাগ, পাপন সরকার, প্রবণ কর, নয়ন সাহা, সৌরভ কর, জিহাদ সরকার, প্রকাশ, অনন্ত, নিলয় হালদার, নিলয় শীল, পলক সাহা, আকাশ কর, নিলয় নাগ ও সূর্য কর প্রমুখ।
স্থানীয়রা মনে করেন, সমাজের বিত্তবানদের নীরবতার মধ্যে স্বপ্নজয়ী সংগঠনের এই উদ্যোগ মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একটি ঘর শুধু ইট-টিনের কাঠামো নয়; এটি একজন অসহায় মায়ের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। অঞ্জলী সাহার মুখের হাসিই আজ প্রমাণ করে—মানুষ মানুষের জন্য, আর মানবতার জয় সবসময়ই হয়।
“একটি ঘর পেলেন অঞ্জলী সাহা, কিন্তু প্রকৃত অর্থে জয় হলো মানবতার।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কর্মজীবনে চাকরি নয়, আত্মউন্নয়নই হোক লক্ষ্য

স্বপ্নজয়ী সংগঠনের উদ্যোগে বিধবা মা পেলেন ঘর

সময়: ০২:১৬:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

 

সঞ্জয় শীল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শ্যামগ্রাম পুর্ব উওরপাড়া নাগবাড়ি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত সুবল সাহার স্ত্রী অঞ্জলী সাহা। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি কাটিয়েছেন চরম কষ্ট আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। একটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে তিন মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ত, আর রাত কাটাতে হতো পলিথিন টাঙিয়ে। অসহায় এই মায়ের দুঃখ-দুর্দশা দেখেও সমাজের অনেক বিত্তবান মানুষ ছিলেন নীরব।
কয়েক বছর আগে অঞ্জলী সাহার স্বামী অসুস্থ অবস্থায় হুইলচেয়ারের অভাবে চলাফেরা করতে না পারার বিষয়টি সিটিভি অনলাইনে প্রকাশিত হলে কিছু মানবিক মানুষ এগিয়ে এসে একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামীকে হারিয়ে আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন অঞ্জলী সাহা।
এমন সময় তার জীবনে আশার আলো হয়ে আসে শ্যামগ্রাম স্বপ্নজয়ী সংগঠন। অসহায় এই বিধবা মায়ের দুর্দশার কথা জানতে পেরে সংগঠনের সদস্যরা এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভাইদের সহযোগিতায় একটি নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ভালোবাসা, মানবতা ও সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তারা অঞ্জলী সাহার মাথার ওপর একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে দেন।
১৮ জুন বৃহস্পতিবার সকালে ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে অঞ্জলী সাহার চোখে দেখা যায় আনন্দ আর কৃতজ্ঞতার অশ্রু। বহুদিনের কষ্টের জীবন পেরিয়ে নিজের একটি নিরাপদ ঘর পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি আমার জন্য কেউ এভাবে এগিয়ে আসবে। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন।”

এ সময় বক্তব্য রাখেন স্বপ্নজয়ী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জিহাদ, ইউপি সদস্য রঞ্জন মেম্বার, রাজন সূত্রধর, বাপন নাগ ও নিলয় সাহা।
সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিয়াস, নাফিজ, সাকিব, আরিফ, রায়হান, বাপ্পি, রাহুল, তৌকিরসহ আরও অনেকে। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাজহারুল ইসলাম বাদল, কামরুল ইসলাম নিপু, শেখ ফরিদ, আনোয়ার হোসেন, মিঠু, দুর্জয়, ফাহিম, রায়হান, জুনায়েদ, মাহিন, আশরাফুল, প্রসেনজিৎ, প্রভাত, জয়ন্ত, তুলসী কর, দীপক কর, রামু কর, মনু কর, পলাশ কর, বাপন নাগ, রঞ্জন নাগ, পাপন সরকার, প্রবণ কর, নয়ন সাহা, সৌরভ কর, জিহাদ সরকার, প্রকাশ, অনন্ত, নিলয় হালদার, নিলয় শীল, পলক সাহা, আকাশ কর, নিলয় নাগ ও সূর্য কর প্রমুখ।
স্থানীয়রা মনে করেন, সমাজের বিত্তবানদের নীরবতার মধ্যে স্বপ্নজয়ী সংগঠনের এই উদ্যোগ মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একটি ঘর শুধু ইট-টিনের কাঠামো নয়; এটি একজন অসহায় মায়ের নিরাপত্তা, স্বস্তি ও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। অঞ্জলী সাহার মুখের হাসিই আজ প্রমাণ করে—মানুষ মানুষের জন্য, আর মানবতার জয় সবসময়ই হয়।
“একটি ঘর পেলেন অঞ্জলী সাহা, কিন্তু প্রকৃত অর্থে জয় হলো মানবতার।