নিজস্ব প্রতিনিধি
কচুয়ার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের সফিবাদ গ্রামে প্রবাসীর স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার পালাখাল-সিংআড্ডা সড়কের সফিবাদ বাজার এলাকায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সফিবাদ গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান, সাহেদুল ইসলাম হেলাল, মোস্তফা কামাল মুন্সী, জামাল হোসেন মোল্লা ও মুক্তা বেগম।
বক্তারা বলেন, মিজানুর রহমান সৌদি আরব থেকে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর কচুয়ার চার হাজী সামছুল হক, আ. হক, বিবি আয়েশা ও নুরজাহানের মাধ্যমে ৪ শত গ্রাম স্বর্ণ বাংলাদেশে পাঠান। চার হাজী বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন অতিক্রম করলে সফিবাদ গ্রামের সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য জানেবুল হাসান মানিক, মামুন, রুবেল মিয়া ও কাউছার—এই চারজন মিলে মিজানুর রহমানের স্বর্ণ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

প্রবাস থেকে ফেরত এসে মিজানুর রহমান স্বর্ণ উদ্ধারের জন্য প্রথমে বিমানবন্দর থানায় এবং পরে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় কয়েক দফা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত এক সালিশ বৈঠকে মানিকগং মিজানুর রহমানকে ৩৫ লাখ টাকা প্রদান করার সিদ্ধান্ত হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লিখিত স্ট্যাম্পে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জানেবুল হাসান মানিকগং ৩৫ লাখ টাকার মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করেন। বাকি টাকা কিছুদিনের মধ্যে পরিশোধ করার কথা থাকলেও সালিশ বৈঠকের পর থেকে তারা টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া টাকা চাইতে গেলে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও সাংবাদিকদের জানান অভিযোগকারীরা।
স্থানীয়রা জানান, জানেবুল হাসান মানিক ও কাউছার মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করে গ্রামে সরকারি জায়গা দখল করে অত্যাধুনিক ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করেছেন এবং বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়া বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জানেবুল হাসান মানিক তৎকালীন এক জনপ্রতিনিধির অস্ত্র ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হুমকি প্রদর্শন করতেন এবং জনগণের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় জানেবুল হাসান মানিকসহ সিন্ডিকেট চক্রের চার সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এ ব্যাপারে জানেবুল হাসান মানিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
Reporter Name 




















