Dhaka ০২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কৃষকের স্বার্থে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, মণিরামপুরে এসিল্যান্ডের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:১৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ৯৭ Time View

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল, স্টাফ রিপোর্টার:


যশোরের মনিরামপুর উপজেলা ১৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত শালিখার বিলে কৃষিজমি নষ্ট করে সরকারি নীতিমালা অমান্যনকরে মৎস্য ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ধান চাষাবাদ ব্যাহত হবে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শালিখার বিল এলাকায় রাস্তার পূর্ব পাশে ০২টি পুরাতন ঘের এবং পশ্চিম পাশে আরও ০২টি নতুন ঘের খনন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে,পানি নিষ্কাশনের জন্য নামমাত্র একটি ক্যানেল রাখা হলেও ক্যানেলের মুখ সংকুচিত ও উঁচু করে বাঁধ দেওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ফলে আশেপাশের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ধান চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই বিলে ধান চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নিজেদের জমি মাছের ঘেরের জন্য লিজ দিতে বাধ্য হয়েছেন,এলাকাবাসীর অভিযোগ ঘের ব্যবসায়ী এম. এ. হালিম বিভিন্ন কৃষকের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণামূলক ভাবে ঘের দখলের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২০২৭ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কিছু কৃষিজমি আপোষ ও চুক্তিনামার ভিত্তিতে লিজ দেওয়া হয়েছিল। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, জমির মালিক ছাড়া অন্য কেউ ঘেরের মালিক হতে পারবে না এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হলে ঘের বিলুপ্ত করে পুনরায় ধান চাষাবাদ করা হবে।

তবে অভিযোগ উঠেছে,পরবর্তীতে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ করে নতুন শর্ত সংযোজন করা হয়েছে, যেখানে মাছ চাষের সুবিধার্থে কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় গর্ত করার অনুমতি রাখা হয়েছে,এলাকাবাসীর দাবি এ ধরনের শর্ত কৃষিজমি সংরক্ষণ সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী।

এছাড়া নতুন ঘের নির্মিত হলে বসতবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিতে আরও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা তাদের মতে, এ অবস্থার অব্যাহত থাকলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বালিয়াকান্দিতে আয়বর্ধক কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ

ইতোমধ্যে গোপালপুর,বাগডাঙ্গা এবং পাড়িয়ালি গ্রামের কয়েকজন জমির মালিকও একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে।যাহা বিভিন্ন পত্র পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিলো।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও জমির মালিকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত, অবৈধ ঘের নির্মাণ বন্ধ এবং কৃষিজমি রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে দাবি জানিয়েছেন।বিষয়টি জানতে পেরে সহকারি কমিশনার ভূমি মাহির দায়ান আমিন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে কৃষি জমিতে মাছের ঘের খনন বন্ধ করে স্থানীয় কৃষকদের নিকট প্রশংসায় ভাসছেন।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

 “বৃষ্টিতে সুখ–দুঃখ”

কৃষকের স্বার্থে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, মণিরামপুরে এসিল্যান্ডের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ

সময়: ১১:১৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

 

মোঃ মাসুম বিল্লাল, স্টাফ রিপোর্টার:


যশোরের মনিরামপুর উপজেলা ১৩ নম্বর খানপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত শালিখার বিলে কৃষিজমি নষ্ট করে সরকারি নীতিমালা অমান্যনকরে মৎস্য ঘের নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ধান চাষাবাদ ব্যাহত হবে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,শালিখার বিল এলাকায় রাস্তার পূর্ব পাশে ০২টি পুরাতন ঘের এবং পশ্চিম পাশে আরও ০২টি নতুন ঘের খনন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে,পানি নিষ্কাশনের জন্য নামমাত্র একটি ক্যানেল রাখা হলেও ক্যানেলের মুখ সংকুচিত ও উঁচু করে বাঁধ দেওয়ায় পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ফলে আশেপাশের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ধান চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই বিলে ধান চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নিজেদের জমি মাছের ঘেরের জন্য লিজ দিতে বাধ্য হয়েছেন,এলাকাবাসীর অভিযোগ ঘের ব্যবসায়ী এম. এ. হালিম বিভিন্ন কৃষকের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণামূলক ভাবে ঘের দখলের চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়রা জানান, ২০২২ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২০২৭ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য কিছু কৃষিজমি আপোষ ও চুক্তিনামার ভিত্তিতে লিজ দেওয়া হয়েছিল। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, জমির মালিক ছাড়া অন্য কেউ ঘেরের মালিক হতে পারবে না এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হলে ঘের বিলুপ্ত করে পুনরায় ধান চাষাবাদ করা হবে।

তবে অভিযোগ উঠেছে,পরবর্তীতে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ করে নতুন শর্ত সংযোজন করা হয়েছে, যেখানে মাছ চাষের সুবিধার্থে কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় গর্ত করার অনুমতি রাখা হয়েছে,এলাকাবাসীর দাবি এ ধরনের শর্ত কৃষিজমি সংরক্ষণ সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী।

এছাড়া নতুন ঘের নির্মিত হলে বসতবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী কৃষিজমিতে আরও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা তাদের মতে, এ অবস্থার অব্যাহত থাকলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বীরগঞ্জে ৩০টি বেসরকারি এতিমখানার মাঝে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনুদানের চেক বিতরণ

ইতোমধ্যে গোপালপুর,বাগডাঙ্গা এবং পাড়িয়ালি গ্রামের কয়েকজন জমির মালিকও একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে।যাহা বিভিন্ন পত্র পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিলো।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও জমির মালিকরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত, অবৈধ ঘের নির্মাণ বন্ধ এবং কৃষিজমি রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে দাবি জানিয়েছেন।বিষয়টি জানতে পেরে সহকারি কমিশনার ভূমি মাহির দায়ান আমিন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে কৃষি জমিতে মাছের ঘের খনন বন্ধ করে স্থানীয় কৃষকদের নিকট প্রশংসায় ভাসছেন।