
স্টাফ রিপোর্টার
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে সরকারি হালট দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২০ জুলাই) এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বহিরাগত লোকজন দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তাইনুস শাহী।সরকারি হালট উদ্ধারের নামে পরিচালিত অভিযানে প্রশাসনের নির্ধারিত কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে বহিরাগত লোকজনের অংশগ্রহণে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উচ্ছেদ অভিযানের বৈধতা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।সোমবার সকাল ১১টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে প্রায় এক শতক সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, রায়পুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৬৬৯ নম্বর দাগে অবস্থিত সরকারি হালট অবৈধ দখলের অভিযোগে গত ২৮ জুন আবেদন করেন শরিফ হাসান ভূঁইয়া। পরবর্তীতে পরিমাপ ও তদন্তে হালটের একটি অংশ দখলের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে প্রশাসন। এ ছাড়া হালটের ওপর দিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করেও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।ভুক্তভোগী তাইনুস শাহী বলেন, ‘আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জায়গা পরিমাপ সঠিক হয়নি জানিয়ে আপত্তি করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। আমার দখলীয় জমির প্রায় এক হাত ভেতর পর্যন্ত মাপ নেওয়া হয়েছে। বাড়ি উচ্ছেদের আগে আমাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি বাড়ি ভাঙার সময়ও জানানো হয়নি। আমি পুনরায় পরিমাপের জন্য আবেদন করব।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের সময় তাঁর বাড়িঘরে ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে।অন্যদিকে, গ্রামবাসীর পক্ষে আবেদনকারী শরিফ হাসান ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিনের দখল থেকে সরকারি হালট উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসী উপকৃত হয়েছেন। তিনি এ উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।এ বিষয়ে এসিল্যান্ড মো. নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী লুটপাট ভাংচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ আমি সকাল ১১টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত উচ্ছেদ স্থলে নিজে উপস্থিত ছিলাম। আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় লুটপাটের কোন অভিযোগ পাইনি এবং আমি নিজেও এমন কিছু দেখিনি। তবে এমন কিছু যদি হয়ে থাকে তাহলে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ থানায় ফৌজদারি মামলা দায়ের করতে পারেন। সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। তদন্ত ও পরিমাপের মাধ্যমে সরকারি হালটের অবৈধ দখল চিহ্নিত করে আইনানুগভাবে তা উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
সরকারি উচ্ছেদ অভিযানে বহিরাগত লোকজনের অংশগ্রহণের অনুমতি ছিল কি না এবং লুটপাটের অভিযোগ সত্য হলে এর দায় কার এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।
Reporter Name 
























