Dhaka ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ছাত্রকে মারধর করলো জুয়াড়ি খুলনায় কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ সদস্যকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন পুলিশ সুপার মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার মাহমুদা এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জাবেদ কাউছার সবুজের ৫৩তম জন্মদিন উদযাপন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি উপস্থিতিতে খুলনা জেলার শিরোমণি পুলিশ লাইন্স এ “বিশেষ কল্যাণ সভা” অনুষ্ঠিত  কালীগঞ্জে ধুলিয়াপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সততা স্টোর উদ্বোধন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব সম্পন্ন নীলফামারী আদালতে এসিতে শর্টসার্কিট, অল্পের জন্য রক্ষা পেল বড় অগ্নিকাণ্ড শারীরিক শিক্ষা কলেজে তিনদিনব্যাপী ভলিবল রেফারিজ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ সম্পন্ন সিএমপির ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে সেবাবান্ধব পুলিশ গঠনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন নরসিংদীর শিবপুরে তিনটি গরুকে বিষ খাইয়ে হত্যা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

গোদাগাড়ীর প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান সোহেলের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি

  • Reporter Name
  • সময়: ১১:০৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ২৬ Time View

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল,
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি:


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদক কারবার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে বাসের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সোহেল রানা বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে তিনি রাজশাহী শহর ও গোদাগাড়ীতে জমি, ফ্ল্যাট, মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন যানবাহনের মালিক হয়েছেন।

গোদাগাড়ী থানা ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে নাটোর সদর থানায় হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের মামলা, ২০১৩ সালে মারামারির মামলা এবং ২০১৭ সালে নাশকতার মামলা রয়েছে। ২০১৭ সালের মামলায় তিনি ৩৪ দিন কারাভোগও করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় তিনি আত্মগোপনে যান। পরে ফিরে এসে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে তিনি এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তার স্বজনদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, টেকনাফ থেকে রাজশাহী হয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক প্রভাব ও শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। তারা দ্রুত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সরকার জনগণের সঙ্গে ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে: মাওলানা এটিএম মাছুম

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, গোদাগাড়ী সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক নেটওয়ার্কের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান চলমান রয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, উত্তরবঙ্গকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা উচিত, যাতে সংবাদটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে প্রকাশিত হয়।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ছাত্রকে মারধর করলো জুয়াড়ি

গোদাগাড়ীর প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যান সোহেলের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের দাবি

সময়: ১১:০৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল,
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি:


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদক কারবার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে বাসের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সোহেল রানা বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত অর্থে তিনি রাজশাহী শহর ও গোদাগাড়ীতে জমি, ফ্ল্যাট, মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন যানবাহনের মালিক হয়েছেন।

গোদাগাড়ী থানা ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে নাটোর সদর থানায় হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের মামলা, ২০১৩ সালে মারামারির মামলা এবং ২০১৭ সালে নাশকতার মামলা রয়েছে। ২০১৭ সালের মামলায় তিনি ৩৪ দিন কারাভোগও করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় তিনি আত্মগোপনে যান। পরে ফিরে এসে ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও স্থানীয় বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে তিনি এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তার স্বজনদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, টেকনাফ থেকে রাজশাহী হয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সরবরাহে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক প্রভাব ও শক্তিশালী নেটওয়ার্কের কারণে সাধারণ মানুষ ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। তারা দ্রুত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমদ: বর্ণাঢ্য জীবনের এক অনন্য অধ্যায়

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, গোদাগাড়ী সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক নেটওয়ার্কের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান চলমান রয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, উত্তরবঙ্গকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযুক্ত করা উচিত, যাতে সংবাদটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসারে প্রকাশিত হয়।