
নিহারেন্দু চক্রবর্তী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ধরমন্ডল ইউনিয়নের দৌলতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের নারীরা এক আতঙ্কের নাম ‘ভানু মিয়া’র কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। ভানুর অত্যাচারে ইতোমধ্যে অনেক পরিবার আশ্রয়ন ছেড়ে গেছে, অনেক সংসার ভেঙে গেছে। প্রতিবাদ করলেই তাকে দেওয়া হয় হত্যার হুমকি। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনের সতর্কবার্তার পরও ভানু তার বর্বরোচিত কার্যকলাপে থামছে না।
নিজের স্ত্রী সন্তান থাকা সত্ত্বেও অন্য নারীদের প্রতি ভানুর লিপ্সু প্রবণতার কারণে আশ্রয়ণের অন্য পরিবারগুলোতে এখন ভীতির পরিবেশ বিরাজ করছে। আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গত সরকারের সময় দৌলতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পেয়েও ভানু তার আসক্তির কারণে আশ্রয়ণে দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। আশ্রয়ণের বাসিন্দা হাসিমের স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটানোর পর হাসিম তার পরিবার নিয়ে আশ্রয়ন ছেড়ে চলে যায়। রাতের বেলায় নারীদের ঘরে ঢোকার চেষ্টা, গোসলের সময় বিরক্ত করার অভিযোগ ভানুর বিরুদ্ধে থাকলেও কেউ প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।আশ্রয়ণের বাসিন্দা মাখন মিয়া বলেন, “আমার স্ত্রীর কাছে আমার সকল টাকা-পয়সা জমা আছে। ভানু আমার স্ত্রীকে দিয়ে আমাকে তালাক দিয়েছে। আমার টাকা নেওয়ার জন্যই সে এমন করেছে।”
অন্য বাসিন্দা সাহেনা ও তালেব আলী বলেন, “ভানুর অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। সে কিছু হলে আমাদের মারধর করে, দা-ছুড়ি দিয়ে ভয় দেখায়। আশ্রয়ণের নারীরা এখন তার জিম্মি। এখানে ইতোমধ্যে তিন-চারজন নারী তার হাতে নষ্ট হয়েছে।”অভিযুক্ত ভানুর স্ত্রী শিউলি আক্তার বলেন, “আমার স্বামীকে আশ্রয় দিয়েছে বলেই সে সেখানে গিয়েছে। একজনের সম্মতিতে সব কিছু হয় না।”
অভিযুক্ত ভানু মিয়া অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বলেন, “তার অত্যাচারে আশ্রয়ণের বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। তাকে আমরা অনেকবার সতর্ক করেছি। অনেক পরিবার তার কারণে চলে গেছে। ভানুকে উচ্ছেদ না করলে এখানে কেউ বসবাস করতে পারবে না।”ধরমন্ডল ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, “ভানুর ঘর থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বাসিন্দারা তার অত্যাচারের অভিযোগ জানিয়েছে। বিষয়টি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
নিহারেন্দু চক্রবর্তী 
























