
হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ:
রজার খলিলকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এখন কেবল কাগজে-কলমে টিকে আছে। একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে দেশের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া মানে হচ্ছে ওয়াশিংটনের হাতে সরাসরি চাবি তুলে দেওয়া। বিএনপি যে মানুষটির পদত্যাগ চেয়ে একসময় রাজপথে মিছিল করেছিল, তাকেই এখন তারা মন্ত্রিসভায় বসাচ্ছে। এই পট পরিবর্তনের কারণ একটাই, তারেক রহমানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা রজার খলিল করে দিয়েছেন।খবর আইবিএননিউজ।
তারেক রহমান যিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অবাঞ্ছিত ছিলেন, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি আর সন্ত্রাসের অভিযোগ এফবিআই পর্যন্ত তদন্ত করেছে, সেই তারেক রহমান হঠাৎ করে কীভাবে পরিচ্ছন্ন হয়ে গেলেন? এর উত্তর চোখের সামনেই রয়েছে। ওয়াশিংটনের স্বার্থ যখন তারেক রহমানকে ক্ষমতায় আনার সাথে মিলে গেছে, তখন তার সব অপরাধ মুছে ফেলা হয়েছে। রজার খলিল এই ডিলের মধ্যস্থতাকারী। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে বাংলাদেশ থেকে বোয়িং বিমান কেনা হবে, মিয়ানমারের সাথে করিডোর চুক্তি বাস্তবায়িত হবে, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থ প্রতিষ্ঠিত হবে। দুদিন আগে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের যা কিছু দেওয়ার ছিল সব দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এগুলো নিশ্চিত করতে রজার খলিলকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বানানো ছিল শেষ ধাপ।
‘২৪ এর জুলাই মাসে যে দাঙ্গা হয়েছিল, তাকে গণঅভ্যুত্থান বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সেটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত অভ্যুত্থান যেখানে বিদেশি অর্থায়ন, জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ আর সামরিক বাহিনীর নীরব সমর্থন ছিল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। ইউনূস যে মাইক্রোক্রেডিটের নামে দেশের দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে সুদ আদায় করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, সেই ব্যক্তিকে দেশরক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
বিএনপি যে দল ফৌজি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেনানিবাসে বসে তৈরি করেছিলেন, যে দলের ইতিহাস দুর্নীতি আর সন্ত্রাসে ভরা, সেই দলই এখন আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার পথে। তারেক রহমান যিনি দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি, যার আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তিনিই এখন দেশের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে প্রস্তুত হচ্ছেন। রজার খলিল তার জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছেন।
ডিপ স্টেটের এই খেলা বাংলাদেশকে সিরিয়া আর লিবিয়ার পথে নিয়ে যাচ্ছে। সেসব দেশে রেজিম চেঞ্জের পর কী হয়েছিল সবাই জানে। গৃহযুদ্ধ, অরাজকতা, দেশের ভাঙন। বাংলাদেশেও একই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। এখানে কেবল সরকার পরিবর্তন করেই ক্ষান্ত হওয়া হয়নি। এখন দেশের সম্পদ, ভূখণ্ড, নীতি সবকিছু বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। রজার খলিল পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলে ইউনূসকে প্রেসিডেন্ট বানাতেও আর কোনো বাধা নেই। কারণ খেলার নিয়মকানুন এখন ওয়াশিংটন থেকে নির্ধারিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষ যারা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন দেশ পেয়েছিল, তাদের সেই স্বাধীনতা এখন কেবল পতাকায় সীমাবদ্ধ। আসল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা চলে গেছে বিদেশি রাষ্ট্রদূত আর তাদের স্থানীয় দালালদের হাতে। সবার আগে বাংলাদেশ এই শ্লোগান এখন কেবল মুখের কথা, বাস্তবে সবার আগে আমেরিকার স্বার্থ ।
Reporter Name 


























