Dhaka ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
শরিফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসায় অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গ্রীন রোড শো মানুষকে পরিবেশ সচেতন করে তুলবে ভালো বেতনের চাকুরির দেওয়ার প্রলোভন দেকিয়ে নোয়াখালীর যুবক কে কালীগঞ্জে ডেকে এনে অপহরণ করে মুক্তি পনের জন্য নির্যাতন চার যুবক আটক বুড়িচংয়ে ৩ হাজার ৩৩০ কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন মরিচ ক্ষেতে ১০ ফুট লম্বা গাঁজা গাছ উদ্ধার, কৃষকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি জামালপুর বিএনপির উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত- জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে জুলাই যোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন। আদর্শিক ও সাংগঠনিক উন্নয়নে মণিরামপুরে ইসলামী আন্দোলনের তালিম কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ‎সুপার ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করে পুরাইকলা সবুজ বাংলা একাডেমির মুখ উজ্জ্বল করল সিদরাতুল মুনতাহা লামিয়া আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে কাজের প্রত্যয় কালিগঞ্জ থানায় নতুন ওসি শহিদুল ইসলাম
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

এতেকাফের ফজিলত!

  • Reporter Name
  • সময়: ০৫:১৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
  • ১২০ Time View

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী,


আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিন বান্দার প্রতি অমূল্য তোহফা হল পবিত্র মাহে রমজান।অনাবিল শান্তি আর নিরবচ্ছিন্ন পুণ্যে বর্ষণের মাস। সৎ ও মুমিন বান্দাদের জন্য নেকি অর্জনের মাহেন্দ্রক্ষণ। এককথায়, আল্লাহর নৈকট্য হাসিল ও তাঁর ইবাদত করার বসন্তকাল পবিত্র মাহে রমজান। আমাদের মধ্য থেকে এ মহামূল্যবান মাস বিদায় নিতে চললো।

তবে শেষ দশকেও আল্লাহ তায়ালার পছন্দনীয় এমন কিছু আমল রয়েছে, যার মাধ্যমে বান্দা তাঁর অতি নিকটে পৌঁছুতে পারে। এরমধ্যে একটি হলো এতেকাফ। রাসুলুল্লাহ সা. এ আমলকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। মসজিদে নববিতে নিজে এতেকাফ করতেন এবং অন্যকেও এতেকাফ করতে উৎসাহিত করতেন।

হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল্লাহ সা. আমৃত্যু রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করেছেন। তাঁর পরে উম্মাহাতুল মুসলিমিন তা আদায় করতে থাকেন’। (বুখারি: ২/৭১৩) পুরো বৎসর দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার কারণে আল্লাহর ইবাদত করতে বান্দার তেমন ফুরসত মিলে না।

তাই আল্লাহ তায়ালা এতেকাফের বিধান রেখেছেন, যেনো এক’টা দিন অন্যান্য কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে একনিষ্ঠভাবে তাঁরই ইবাদতে বান্দা লিপ্ত থাকতে পারে। শুধু এ দশদিন গুরুত্বের সঙ্গে ইবাদত করাটাও অনেক লাভজনক। এতেকাফকারী এতেকাফরত অবস্থায় কোনো আমল না করতে পারলেও সর্বদা ইবাদতকারীর মধ্যে শামিল থাকে। তাই নিঃসন্দেহে শবে কদরের ফজিলতও অর্জিত হয় তার।

রাসুলুল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন এতেকাফ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার ও জাহান্নামের মধ্যে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন। এক খন্দকের পরিমাণ পূর্ব থেকে পশ্চিমের দূরত্বের সমান। (বায়হাকি: ৪২৪) | এতেকাফকারী বাইরের অন্যান্য আমল যেমন জানাজা, রোগী দেখতে যাওয়া ও সামাজিক অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে শরিক হতে না পারলেও, মসজিদে বসেই সে সওয়াব তার অর্জিত হয়ে যায়।

এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ স.বলেন, ‘এতেকাফকারী সমস্ত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। সে বাইরের অন্যান্য আমল না করতে পারলেও আমলকারীর সমন সওয়াব লাভ করে। (ইবনে মাজাহ: ৫৬৭) রাসুলুল্লাহ স. সাহাবায়ে কেরাম রা. কে এতেকাফের প্রতি উৎসাহিত করতে এর অনেক ফজিলতের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন ‘যে ব্যক্তি রমজানের দশদিন এতেকাফ করবে, তার এ আমল দুইটি হজ ও দুইটি ওমরার সমান হবে। (বায়হাকি: ৪২৫)

আরও পড়ুনঃ  গোদাগাড়ীতে অভিনব কায়দায় রাখা ১৮৮ গ্রাম হেরোইনসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার

রমজানে কম আমল করলেও অনেক বেশি নেকি হাসিল হয়। আর এতেকাফ অবস্থায় তো হয় আরো বেশি। এটি আমাদের ওপর আল্লাহর অনেক বড় ইহসান। তাই প্রত্যেকের উচিৎ, দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততাকে পেছন রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এতেকাফ করা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে এতেকাফ করার তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন।

লেখক:– বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট, হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী ছাহেব। সাবেকঃ- ইমাম ও খতিব কদমতলী মাজার জামে মসজিদ সিলেট।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

শরিফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসায় অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

এতেকাফের ফজিলত!

সময়: ০৫:১৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী,


আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিন বান্দার প্রতি অমূল্য তোহফা হল পবিত্র মাহে রমজান।অনাবিল শান্তি আর নিরবচ্ছিন্ন পুণ্যে বর্ষণের মাস। সৎ ও মুমিন বান্দাদের জন্য নেকি অর্জনের মাহেন্দ্রক্ষণ। এককথায়, আল্লাহর নৈকট্য হাসিল ও তাঁর ইবাদত করার বসন্তকাল পবিত্র মাহে রমজান। আমাদের মধ্য থেকে এ মহামূল্যবান মাস বিদায় নিতে চললো।

তবে শেষ দশকেও আল্লাহ তায়ালার পছন্দনীয় এমন কিছু আমল রয়েছে, যার মাধ্যমে বান্দা তাঁর অতি নিকটে পৌঁছুতে পারে। এরমধ্যে একটি হলো এতেকাফ। রাসুলুল্লাহ সা. এ আমলকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। মসজিদে নববিতে নিজে এতেকাফ করতেন এবং অন্যকেও এতেকাফ করতে উৎসাহিত করতেন।

হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল্লাহ সা. আমৃত্যু রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করেছেন। তাঁর পরে উম্মাহাতুল মুসলিমিন তা আদায় করতে থাকেন’। (বুখারি: ২/৭১৩) পুরো বৎসর দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার কারণে আল্লাহর ইবাদত করতে বান্দার তেমন ফুরসত মিলে না।

তাই আল্লাহ তায়ালা এতেকাফের বিধান রেখেছেন, যেনো এক’টা দিন অন্যান্য কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে একনিষ্ঠভাবে তাঁরই ইবাদতে বান্দা লিপ্ত থাকতে পারে। শুধু এ দশদিন গুরুত্বের সঙ্গে ইবাদত করাটাও অনেক লাভজনক। এতেকাফকারী এতেকাফরত অবস্থায় কোনো আমল না করতে পারলেও সর্বদা ইবাদতকারীর মধ্যে শামিল থাকে। তাই নিঃসন্দেহে শবে কদরের ফজিলতও অর্জিত হয় তার।

রাসুলুল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিন এতেকাফ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার ও জাহান্নামের মধ্যে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন। এক খন্দকের পরিমাণ পূর্ব থেকে পশ্চিমের দূরত্বের সমান। (বায়হাকি: ৪২৪) | এতেকাফকারী বাইরের অন্যান্য আমল যেমন জানাজা, রোগী দেখতে যাওয়া ও সামাজিক অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজে শরিক হতে না পারলেও, মসজিদে বসেই সে সওয়াব তার অর্জিত হয়ে যায়।

এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ স.বলেন, ‘এতেকাফকারী সমস্ত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে। সে বাইরের অন্যান্য আমল না করতে পারলেও আমলকারীর সমন সওয়াব লাভ করে। (ইবনে মাজাহ: ৫৬৭) রাসুলুল্লাহ স. সাহাবায়ে কেরাম রা. কে এতেকাফের প্রতি উৎসাহিত করতে এর অনেক ফজিলতের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন ‘যে ব্যক্তি রমজানের দশদিন এতেকাফ করবে, তার এ আমল দুইটি হজ ও দুইটি ওমরার সমান হবে। (বায়হাকি: ৪২৫)

আরও পড়ুনঃ  পবিপ্রবিতে হিট প্রজেক্টের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রমজানে কম আমল করলেও অনেক বেশি নেকি হাসিল হয়। আর এতেকাফ অবস্থায় তো হয় আরো বেশি। এটি আমাদের ওপর আল্লাহর অনেক বড় ইহসান। তাই প্রত্যেকের উচিৎ, দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততাকে পেছন রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এতেকাফ করা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে এতেকাফ করার তাওফিক দান করুন আল্লাহুম্মা আমিন।

লেখক:– বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট, হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী ছাহেব। সাবেকঃ- ইমাম ও খতিব কদমতলী মাজার জামে মসজিদ সিলেট।