Dhaka ০৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
নরসিংদীতে মু’ক্তিপ’ণ আদায় চ’ক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার” নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ যে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা পাওয়া যায়নি: মিয়া গোলাম পরওয়ার সেপ্টেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার, নেওয়া হবে ২ লাখ শ্রমিক এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে তথ্য সংশোধনের সুযোগ, নতুন আবেদনের সময় ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটে ত্রুটি মাত্র ১.২ শতাংশ: আমির খসরু জামায়াতের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের আশঙ্কা, দাবি রাশেদ খাঁনের নেপালে বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয়, মৃত ৭৩৪; নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার ৬১ দিনের গুমের স্মৃতি, বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুমের বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্বসম্প্রদায়ের পাশে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর গুমের স্বজনদের অপেক্ষার অবসান চান শফিকুর রহমান, দাবি নিরপেক্ষ তদন্তের
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

কলেরা ঠেকাতে ১৪ এলাকায় ৫১ লাখ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে টিকা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৪:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৭ Time View

পানিবাহিত রোগ কলেরা প্রতিরোধে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে দুই ধাপে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ ও অভিভাবকরা।

‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় গর্ভবতী নারী ছাড়া এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে ‘ইউরিকল প্লাস’ নামের এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।

আইসিডিডিআর,বি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ সহযোগিতায় গত ২২ আগস্ট থেকে প্রথম ধাপের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ডোজ ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় ডোজ ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেওয়া হবে।

১৪ এলাকায় চলছে প্রথম ধাপ

কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় টিকাদান শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও, মুন্সিগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল, নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগরেও টিকাদান কার্যক্রম চলছে।

গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, কলেরার টিকা দেওয়ার জন্য এলাকা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

টিকা নিয়ে স্বস্তি অভিভাবকদের

রাজধানীর লালবাগ দোতলা মসজিদ এলাকা থেকে চার বছরের মেয়ে নওরিন আক্তার জুঁইকে টিকা খাওয়াতে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন তার মা ফাতেমা আক্তার।

তিনি জানান, তার মেয়ের মাঝে মাঝে পেটের সমস্যা হতো। নিরাপদ পানি ব্যবহার, পানি ফুটিয়ে খাওয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ অনুসরণ করলেও সমস্যা পুরোপুরি কমেনি। সরকার বিনামূল্যে কলেরার টিকা দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজারে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠিত

আজিমপুর সরকারি কলোনি থেকে দুই বছরের ছেলে অর্ণব সরকারকে টিকা খাওয়াতে আসেন পলি সরকার। তিনি জানান, তার ছেলে প্রায় সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভোগে, যার মধ্যে পেটের সমস্যাও রয়েছে।

প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজের জন্য আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সময়মতো এমন উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।

কেন্দ্রে বাড়ছে উপস্থিতি

আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের টিকাকেন্দ্রে বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়ম মেনে কলেরার টিকা নিতে দেখা গেছে।

টিকাদানকর্মী তাহমিনা আক্তার বলেন, সকাল থেকেই টিকাদান কার্যক্রম চলছে। এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে নিবন্ধন করে টিকা নিচ্ছেন। প্রথম ডোজ নেওয়ার এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার বিষয়টি তাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং টিকা কার্ডেও তা উল্লেখ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা যায়, একজন কর্মী নাম নথিভুক্ত করছেন, আরেকজন অনলাইনে নিবন্ধন করছেন। নিবন্ধন শেষে অন্য একজন টিকা খাওয়াচ্ছেন। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মী আশপাশের এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করে মানুষকে টিকা নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তেজগাঁও এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে দুই সন্তানকে নিয়ে আসেন আজিজুর রহমান। তার এক সন্তানের বয়স সাত বছর এবং অন্যজনের সাড়ে তিন বছর।

টিকা দেওয়ার পর তিনি বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু ও হাম নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। দুই সন্তানকে কলেরার প্রথম ডোজ দিতে পেরে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ধাপে ধাপে ১৪৪ উপজেলায় কর্মসূচি

অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ বলেন, বর্তমানে প্রথম ধাপে ১৪টি এলাকায় টিকাদান চলছে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে উচ্চঝুঁকিতে থাকা মোট ১৪৪টি উপজেলায় এই টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সংসদে উঠল তিন বিল, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কমিটিতে

তিনি জানান, দুই ধাপে দেওয়া এই টিকা তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।

বিশ্বজুড়ে কলেরার ঝুঁকি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ২৯ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করেন।

আইসিডিডিআর,বি ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় নথিভুক্ত কলেরা রোগীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৪১ জন।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় কলেরায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। পরবর্তী সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আবার তা বাড়তে শুরু করে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সময়মতো টিকার আওতায় আনা গেলে কলেরার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

নরসিংদীতে মু’ক্তিপ’ণ আদায় চ’ক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার”

কলেরা ঠেকাতে ১৪ এলাকায় ৫১ লাখ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে টিকা

সময়: ০৪:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

পানিবাহিত রোগ কলেরা প্রতিরোধে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে দুই ধাপে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা দেওয়া হচ্ছে। কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকা পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ ও অভিভাবকরা।

‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় গর্ভবতী নারী ছাড়া এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে ‘ইউরিকল প্লাস’ নামের এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।

আইসিডিডিআর,বি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির যৌথ সহযোগিতায় গত ২২ আগস্ট থেকে প্রথম ধাপের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ডোজ ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় ডোজ ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেওয়া হবে।

১৪ এলাকায় চলছে প্রথম ধাপ

কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় টিকাদান শুরু হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও, মুন্সিগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল, নারায়ণগঞ্জ সদর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগরেও টিকাদান কার্যক্রম চলছে।

গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, কলেরার টিকা দেওয়ার জন্য এলাকা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

টিকা নিয়ে স্বস্তি অভিভাবকদের

রাজধানীর লালবাগ দোতলা মসজিদ এলাকা থেকে চার বছরের মেয়ে নওরিন আক্তার জুঁইকে টিকা খাওয়াতে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন তার মা ফাতেমা আক্তার।

তিনি জানান, তার মেয়ের মাঝে মাঝে পেটের সমস্যা হতো। নিরাপদ পানি ব্যবহার, পানি ফুটিয়ে খাওয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ অনুসরণ করলেও সমস্যা পুরোপুরি কমেনি। সরকার বিনামূল্যে কলেরার টিকা দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজারে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠিত

আজিমপুর সরকারি কলোনি থেকে দুই বছরের ছেলে অর্ণব সরকারকে টিকা খাওয়াতে আসেন পলি সরকার। তিনি জানান, তার ছেলে প্রায় সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভোগে, যার মধ্যে পেটের সমস্যাও রয়েছে।

প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজের জন্য আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সময়মতো এমন উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।

কেন্দ্রে বাড়ছে উপস্থিতি

আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের টিকাকেন্দ্রে বিভিন্ন বয়সী মানুষকে নিয়ম মেনে কলেরার টিকা নিতে দেখা গেছে।

টিকাদানকর্মী তাহমিনা আক্তার বলেন, সকাল থেকেই টিকাদান কার্যক্রম চলছে। এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে নিবন্ধন করে টিকা নিচ্ছেন। প্রথম ডোজ নেওয়ার এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার বিষয়টি তাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং টিকা কার্ডেও তা উল্লেখ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা যায়, একজন কর্মী নাম নথিভুক্ত করছেন, আরেকজন অনলাইনে নিবন্ধন করছেন। নিবন্ধন শেষে অন্য একজন টিকা খাওয়াচ্ছেন। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মী আশপাশের এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করে মানুষকে টিকা নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তেজগাঁও এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে দুই সন্তানকে নিয়ে আসেন আজিজুর রহমান। তার এক সন্তানের বয়স সাত বছর এবং অন্যজনের সাড়ে তিন বছর।

টিকা দেওয়ার পর তিনি বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু ও হাম নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে ডায়রিয়ার সমস্যা দেখা দিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। দুই সন্তানকে কলেরার প্রথম ডোজ দিতে পেরে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ধাপে ধাপে ১৪৪ উপজেলায় কর্মসূচি

অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ বলেন, বর্তমানে প্রথম ধাপে ১৪টি এলাকায় টিকাদান চলছে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে উচ্চঝুঁকিতে থাকা মোট ১৪৪টি উপজেলায় এই টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্বম্ভরপুরে ৩৮৫০ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ: ডিবি পুলিশের হাতে কাভার্ডভ্যানসহ ২ চোরাকারবারি আটক

তিনি জানান, দুই ধাপে দেওয়া এই টিকা তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে।

বিশ্বজুড়ে কলেরার ঝুঁকি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ২৯ লাখ মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৯৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করেন।

আইসিডিডিআর,বি ও কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকায় নথিভুক্ত কলেরা রোগীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ১৪১ জন।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ঢাকায় কলেরায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। পরবর্তী সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আবার তা বাড়তে শুরু করে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সময়মতো টিকার আওতায় আনা গেলে কলেরার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।