এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম
কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসার পথে এক পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে জব্দ করা এক লাখ ইয়াবা গায়েবের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক জায়েদ নূরকে কোতোয়ালি থানার নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
সিএমপি কমিশনার জানান, ইয়াবা সরিয়ে ফেলার ঘটনায় প্রকাশিত পুলিশ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওসি আফতাব উদ্দিনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তর তদন্ত করছে।
তিনি আরও জানান, একই ঘটনায় বাকলিয়া থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর হোসেনকে এর আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কাজের গতি বাড়াতে কিছু নতুন পদায়নও করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর রাতে নগরীর বাকলিয়া নতুন ব্রিজ এলাকায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের কনস্টেবল ইমতিয়াজ হোসেন সৌরভকে একটি বাস থেকে নামিয়ে তল্লাশি চালায় বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি দল।
পরে অভিযোগ ওঠে, অভিযানের সময় কনস্টেবলের কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে ৯০ হাজার থেকে এক লাখ ইয়াবা জব্দ করা হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং পরে ওই মাদকদ্রব্য গায়েবের অভিযোগ উঠে।
ঘটনার সময় আফতাব উদ্দিন বাকলিয়া থানার ওসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কোতোয়ালি থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পান।
ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ সামনে আসার পর সিএমপি গঠিত একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি বাকলিয়া থানায় কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তবে পরে আদালতের নির্দেশে পরিচালিত পৃথক তদন্তে সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাগ তল্লাশির ঘটনা ঘটলেও সেখান থেকে ইয়াবা জব্দের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও পেশাগত অদক্ষতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
Reporter Name 



























