নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা:
কুমিল্লার হোমনায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে মো. আবু রায়হান নামের এক স্থানীয় সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর, মুঠোফোন ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
গত ১২ জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মদিনা চক্ষু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ভবনে অবস্থিত সাংবাদিকের নিজস্ব কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক হোমনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওইদিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪১ মিনিটে সাংবাদিক আবু রায়হান তাঁর কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সংবাদ প্রকাশ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্ত সেলিম মাস্টার, রনি মিয়া ও তাঁদের সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সাংবাদিক আবু রায়হানকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করেন। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও ভাঙচুর করা হয়। পরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংবাদ প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. আবু রায়হান বলেন, জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করা তাঁর পেশাগত দায়িত্ব ও সাংবিধানিক অধিকার। কারও আপত্তি থাকলে আইনি পথে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু অফিসে এসে হামলা, ভাঙচুর ও হুমকি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সেলিম মাস্টার ও রনি মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন, কোনো মারধর বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
হোমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, লিখিত অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Reporter Name 



























