Dhaka ০৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
শুটিংয়ে গুরুতর আহত রাশমিকা, ছয় সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ ঢাকার মঞ্চে প্রথমবার পারফর্ম করতে আসছেন পাকিস্তানি র‍্যাপার হাসান রহিম কৃষি উন্নয়ন ও পেশাগত সহযোগিতায় একসঙ্গে কাজের অঙ্গীকার উত্তরা কৃষিবিদদের সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাউজানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন জুলাই হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, অব্যাহতির সুপারিশ ৪৯ জনের রাজধানীর সড়কে ছয় বছরে ঝরেছে ১,৩৮৪ প্রাণ, দুর্ঘটনার হটস্পট ৫ এলাকা রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় তিন হেভিওয়েট নাম দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা উচিত ছিল: নাহিদ ইসলাম মরক্কো-মেলিলা সীমান্তে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আটক ৫০ ধৌবাউড়ায় জমি দখল নিয়ে বিরোধ, আঃ খালেক পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারালেন সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক

  • Reporter Name
  • সময়: ০৭:০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৬ Time View

 

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

 

★ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় এবং নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হয়নি। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়নি।

★ ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার মত সক্ষমতা অর্জন করলে তখন বর্তমান চাকরিচ্যুত কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়েছে মালিকপক্ষ।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ১১টি শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা আজ শনিবার (১ আগস্ট) থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন।

কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক বিভাগের সীমিতসংখ্যক কর্মী ছাড়া অন্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া শুরু হয় এবং শনিবার থেকে তা কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, এস আলম গ্রুপের মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, এস আলম স্টিল, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড এবং একটি পশুখাদ্য কারখানা।

তবে বাঁশখালীতে অবস্থিত এস আলমের মালিকানাধীন ১৩২০ মেঃওঃ এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট (কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) আগের মতোই চালু থাকবে।

ছাঁটাই নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, প্রায় দুই বছর আগে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় আট হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। ধাপে ধাপে জনবল কমিয়ে সর্বশেষ প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মী অবশিষ্ট ছিলেন। তাদের সকলের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আনোয়ারায় এত এত শিল্প-কলকারখানা, তবুও কর্মসংস্থানে কেন পিছিয়ে স্থানীয় মানুষ?

তিনি আরও বলেন, গত দুই বছর ধরে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে না থাকলেও কর্মরতদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় এবং নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হয়নি। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়নি।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার মত সক্ষমতা অর্জন করলে তখন বর্তমান চাকরিচ্যুত কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়েছে মালিকপক্ষ।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

শুটিংয়ে গুরুতর আহত রাশমিকা, ছয় সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ

চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ, চাকরি হারালেন সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক

সময়: ০৭:০৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

 

 

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম:

 

★ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় এবং নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হয়নি। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়নি।

★ ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার মত সক্ষমতা অর্জন করলে তখন বর্তমান চাকরিচ্যুত কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়েছে মালিকপক্ষ।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ১১টি শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা আজ শনিবার (১ আগস্ট) থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে প্রায় সাড়ে চার হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন।

কারখানাগুলোর নিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক বিভাগের সীমিতসংখ্যক কর্মী ছাড়া অন্যদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া শুরু হয় এবং শনিবার থেকে তা কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, এস আলম গ্রুপের মোট ১১টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম ব্যাগ ফ্যাক্টরি, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, এস আলম স্টিল, এস আলম পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড, এস আলম পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড এবং একটি পশুখাদ্য কারখানা।

তবে বাঁশখালীতে অবস্থিত এস আলমের মালিকানাধীন ১৩২০ মেঃওঃ এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট (কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) আগের মতোই চালু থাকবে।

ছাঁটাই নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

প্রকৌশলী হাসমত আলী জানান, প্রায় দুই বছর আগে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় আট হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত ছিলেন। ধাপে ধাপে জনবল কমিয়ে সর্বশেষ প্রায় সাড়ে চার হাজার কর্মী অবশিষ্ট ছিলেন। তাদের সকলের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য পরিশোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আনোয়ারায় এত এত শিল্প-কলকারখানা, তবুও কর্মসংস্থানে কেন পিছিয়ে স্থানীয় মানুষ?

তিনি আরও বলেন, গত দুই বছর ধরে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে না থাকলেও কর্মরতদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় এবং নতুন করে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে না পারায় কাঁচামাল আমদানি সম্ভব হয়নি। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যায়নি।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার মত সক্ষমতা অর্জন করলে তখন বর্তমান চাকরিচ্যুত কর্মীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বহালের আশ্বাস দিয়েছে মালিকপক্ষ।