মো. সারোয়ার হোসেন অপু, নওগাঁ:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিলে ‘চায়না দুয়ারী’ বা রিং জালের ছড়াছড়িতে হুমকির মুখে পড়েছে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব। নির্বিচারে মাছ শিকারের কাজে ব্যবহৃত এসব অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫-৩০টি জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে উপজেলা মৎস্য অফিস।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরেজমিনে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফতেজঙ্গপুর ও আবাদপুর বিল এলাকায় দেখা যায়, ছোট খালগুলোতে চায়না দুয়ারী বা রিং জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এসব জালে ছোট-বড় সব ধরনের দেশীয় মাছ ধরা পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্ষা মৌসুমে মাছের প্রজনন বেশি হওয়ায় এ সময় চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহারও বেড়ে যায়। সহজে বেশি মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত এ ধরনের জালে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ছে। ফলে ধীরে ধীরে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, চায়না দুয়ারী জালে খালের প্রায় সব ধরনের মাছ একসঙ্গে উঠে আসে। এ ধরনের জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে স্থানীয় জলাশয়গুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ার পাশাপাশি জেলেদের জীবিকাও সংকটে পড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার (১৯ আগস্ট) উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে আবাদপুর বিল ও ফতেজঙ্গপুরের বিভিন্ন মাঠে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রায় ২৫-৩০টি চায়না দুয়ারী বা রিং জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায়, মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা, থানা পুলিশের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
বদলগাছী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায় বলেন, “মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় চায়না দুয়ারী জাল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ জাল আমাদের জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
তিনি আরও বলেন, এর আগে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। চায়না দুয়ারী জালের ব্যবহার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি বলেন, “চায়না দুয়ারী জাল বন্ধে আমরা একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছি। এ জালের ব্যবহার বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
Reporter Name 






















