Dhaka ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সেপ্টেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার, নেওয়া হবে ২ লাখ শ্রমিক এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলিতে তথ্য সংশোধনের সুযোগ, নতুন আবেদনের সময় ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ফ্যামিলি কার্ডের পাইলটে ত্রুটি মাত্র ১.২ শতাংশ: আমির খসরু জামায়াতের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের আশঙ্কা, দাবি রাশেদ খাঁনের নেপালে বন্যায় ভয়াবহ বিপর্যয়, মৃত ৭৩৪; নিখোঁজ প্রায় আড়াই হাজার ৬১ দিনের গুমের স্মৃতি, বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুমের বিচার নিশ্চিত করতে বিশ্বসম্প্রদায়ের পাশে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর গুমের স্বজনদের অপেক্ষার অবসান চান শফিকুর রহমান, দাবি নিরপেক্ষ তদন্তের বীরগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘পাতা খেলা’, দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় বুড়িচংয়ে হাজী জসিম উদ্দিন এমপি ডাবল হোন্ডা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

জাফর ইকবালের হাসি, গান, অভিনয় সব কিছুই আমাদের সঙ্গে বেঁচে আছে: ববিতা

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:৫১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২১৯ Time View

 

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ: চিত্রনায়ক জাফর ইকবালকে স্মরণ করতে গেলে আমার সামনে আগে ভেসে ওঠে একজন অসাধারণ মানুষ। নায়ক হিসেবে তিনি যেমন দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন, সহশিল্পী হিসেবেও ছিলেন ভীষণ মানবিক। আমাদের জুটি দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছিল, সেটা আজও মানুষ মনে রেখেছে। একসঙ্গে প্রায় চল্লিশটির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছি দুজন। প্রতিটি কাজের অভিজ্ঞতাই আলাদা, প্রতিটি স্মৃতিই মূল্যবান। জাফর ইকবালের মধ্যে একটা সহজাত সৌন্দর্য ছিল, যা পর্দা ছাড়িয়েও মানুষকে আপন করে নিত।

তিনি হ্যান্ডসাম ছিলেন, গিটার হাতে গান গাইতে পারতেন অসাধারণভাবে। শুটিংয়ের ফাঁকে কখনও ইংরেজি গান, কখনও বাংলা সুরে সেট মাতিয়ে রাখতেন। শরীরটা তখন ভালো থাকত না, নানা অসুখে ভোগতেন, কিন্তু সেটে কখনও তা প্রকাশ করতেন না। হাসিমুখে কাজ করে যেতেন, যেন কিছুই হয়নি। এই জায়গাটায় তিনি সত্যিই ব্যতিক্রমী ছিলেন। আমাদের অভিনীত ‘অবুঝ হৃদয়’ ছিল সুপার হিট একটি সিনেমা। ব্যাংককে শুটিং হয়েছিল, আমাদের সঙ্গে চম্পা ছিল। ত্রিভুজ প্রেমের গল্প, আর শুটিংয়ের ফাঁকে ছিল অজস্র হাসি-ঠাট্টা। সিনেমাটি টেলিভিশনে প্রচার হলে আজও দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখে।

জাফর ইকবালের অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন, চোখের ভাষা– সবকিছু মিলিয়ে আজও মানুষের মনে গেঁথে আছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম ছবি ‘মামা ভাগ্নে’। এরপর ‘হারজিৎ’ দিয়ে আমি দর্শকদের ভালোবাসা পাই। আমাদের জুটির প্রথম দিককার এই ছবিগুলোর গান ছিল অসাধারণ, যা আজও মানুষ গুনগুন করে। জাফর ইকবালকে এখনও সবাই চিরসবুজ নায়ক বলেই ডাকে, এটা তাঁর স্বীকৃতি। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অতিভদ্র, মার্জিত এবং সহানুভূতিশীল।

কারও নামে বদনাম করা কিংবা কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে আমি তাঁকে কখনও দেখিনি। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এই দিনে তাঁকে আরও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর হাসি, গান, অভিনয় আর মানবিকতা আজও আমাদের সঙ্গে বেঁচে আছে। দর্শকের ভালোবাসা তাঁকে যে উচ্চতায় নিয়েছিল, তা খুব কম শিল্পীর ভাগ্যে জোটে। ব্যক্তিগত জীবনে সংযমী এই মানুষটি আলোড়ন পছন্দ করতেন না। কাজই ছিল তাঁর পরিচয়।

আরও পড়ুনঃ  সমালোচনা থামাতে আইনি নোটিশ? ‘টক্সিক’ ঘিরে নতুন বিতর্কে যশ

পর্দায় রোমান্টিক নায়ক, বাস্তবে দায়িত্বশীল সহকর্মী– এই দ্বৈততার সৌন্দর্য আজও আমাকে মুগ্ধ করে। সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, কিন্তু কিছু স্মৃতি অমলিন থাকে। তাঁর নাম উচ্চারিত হলেই সেই স্মৃতিগুলো নতুন করে জেগে ওঠে। তাই তাঁর চলে যাওয়ার দিনটিতে শুধু শোক নয়, কৃতজ্ঞতাও জানাই। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন ভদ্রতা, পেশাদারিত্ব আর শিল্পের প্রতি সততা।

এই শিক্ষা আগামী দিনেও আমাদের পথ দেখাবে, আলো জ্বালিয়ে রাখবে, নিঃশব্দে। এই স্মরণ লেখার মধ্য দিয়ে আমি আবারও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, ভালোবাসা জানাই এবং প্রার্থনা করি তিনি যেন মানুষের হৃদয়ে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকেন। কারণ তিনি আমাদের সিনেমার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই আজও।
অনুলিখন: এমদাদুল হক মিলটন

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সেপ্টেম্বরেই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার, নেওয়া হবে ২ লাখ শ্রমিক

জাফর ইকবালের হাসি, গান, অভিনয় সব কিছুই আমাদের সঙ্গে বেঁচে আছে: ববিতা

সময়: ০৯:৫১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

 

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ: চিত্রনায়ক জাফর ইকবালকে স্মরণ করতে গেলে আমার সামনে আগে ভেসে ওঠে একজন অসাধারণ মানুষ। নায়ক হিসেবে তিনি যেমন দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন, সহশিল্পী হিসেবেও ছিলেন ভীষণ মানবিক। আমাদের জুটি দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছিল, সেটা আজও মানুষ মনে রেখেছে। একসঙ্গে প্রায় চল্লিশটির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছি দুজন। প্রতিটি কাজের অভিজ্ঞতাই আলাদা, প্রতিটি স্মৃতিই মূল্যবান। জাফর ইকবালের মধ্যে একটা সহজাত সৌন্দর্য ছিল, যা পর্দা ছাড়িয়েও মানুষকে আপন করে নিত।

তিনি হ্যান্ডসাম ছিলেন, গিটার হাতে গান গাইতে পারতেন অসাধারণভাবে। শুটিংয়ের ফাঁকে কখনও ইংরেজি গান, কখনও বাংলা সুরে সেট মাতিয়ে রাখতেন। শরীরটা তখন ভালো থাকত না, নানা অসুখে ভোগতেন, কিন্তু সেটে কখনও তা প্রকাশ করতেন না। হাসিমুখে কাজ করে যেতেন, যেন কিছুই হয়নি। এই জায়গাটায় তিনি সত্যিই ব্যতিক্রমী ছিলেন। আমাদের অভিনীত ‘অবুঝ হৃদয়’ ছিল সুপার হিট একটি সিনেমা। ব্যাংককে শুটিং হয়েছিল, আমাদের সঙ্গে চম্পা ছিল। ত্রিভুজ প্রেমের গল্প, আর শুটিংয়ের ফাঁকে ছিল অজস্র হাসি-ঠাট্টা। সিনেমাটি টেলিভিশনে প্রচার হলে আজও দর্শক আগ্রহ নিয়ে দেখে।

জাফর ইকবালের অভিনয়, সংলাপ বলার ধরন, চোখের ভাষা– সবকিছু মিলিয়ে আজও মানুষের মনে গেঁথে আছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম ছবি ‘মামা ভাগ্নে’। এরপর ‘হারজিৎ’ দিয়ে আমি দর্শকদের ভালোবাসা পাই। আমাদের জুটির প্রথম দিককার এই ছবিগুলোর গান ছিল অসাধারণ, যা আজও মানুষ গুনগুন করে। জাফর ইকবালকে এখনও সবাই চিরসবুজ নায়ক বলেই ডাকে, এটা তাঁর স্বীকৃতি। মানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অতিভদ্র, মার্জিত এবং সহানুভূতিশীল।

কারও নামে বদনাম করা কিংবা কারও সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে আমি তাঁকে কখনও দেখিনি। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এই দিনে তাঁকে আরও গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। তিনি নেই, কিন্তু তাঁর হাসি, গান, অভিনয় আর মানবিকতা আজও আমাদের সঙ্গে বেঁচে আছে। দর্শকের ভালোবাসা তাঁকে যে উচ্চতায় নিয়েছিল, তা খুব কম শিল্পীর ভাগ্যে জোটে। ব্যক্তিগত জীবনে সংযমী এই মানুষটি আলোড়ন পছন্দ করতেন না। কাজই ছিল তাঁর পরিচয়।

আরও পড়ুনঃ   অসুস্থতায় চেহারা বদল, কী হয়েছে ‘দুষ্টু কোকিল’ মিমির?

পর্দায় রোমান্টিক নায়ক, বাস্তবে দায়িত্বশীল সহকর্মী– এই দ্বৈততার সৌন্দর্য আজও আমাকে মুগ্ধ করে। সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, কিন্তু কিছু স্মৃতি অমলিন থাকে। তাঁর নাম উচ্চারিত হলেই সেই স্মৃতিগুলো নতুন করে জেগে ওঠে। তাই তাঁর চলে যাওয়ার দিনটিতে শুধু শোক নয়, কৃতজ্ঞতাও জানাই। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন ভদ্রতা, পেশাদারিত্ব আর শিল্পের প্রতি সততা।

এই শিক্ষা আগামী দিনেও আমাদের পথ দেখাবে, আলো জ্বালিয়ে রাখবে, নিঃশব্দে। এই স্মরণ লেখার মধ্য দিয়ে আমি আবারও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, ভালোবাসা জানাই এবং প্রার্থনা করি তিনি যেন মানুষের হৃদয়ে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকেন। কারণ তিনি আমাদের সিনেমার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই আজও।
অনুলিখন: এমদাদুল হক মিলটন