Dhaka ১১:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
সাতক্ষীরায় জামায়াতের ইউনিয়ন দায়িত্বশীল সমাবেশ ও শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত চরভদ্রাসনে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৫৩টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও বিনষ্ট থানায় আপস, তবুও জমি দখলের তাণ্ডব! ফরিদগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমিতে ইট ফেলার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ৭৪ বছরের বৃদ্ধ সান্তাহারে তিন শতাধিক বিএনপির কারা নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বিশাল সংবর্ধনা প্রদান কালিয়াকৈরে ওষুধ কারখানায় আগুন, আহত ১ কালীগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ৬০ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা ডিমলায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুরু বালিয়াকান্দিতে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত প্রবাসী সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থার বর্ষপূর্তি উদযাপন, সহায়তা পেয়েছেন ৯৪৬ জন অসহায় মানুষ তেঁতুলিয়ায় বাংলাদেশ-৮৮’র বর্ণিল মিলনমেলা, বন্ধুত্বের উৎসবে মুখরিত ডাকবাংলো
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

টেকনাফে ইউএনওর অনুমতিপত্র জালিয়াতি করে মিয়ানমারে পণ্য পাচার

  • Reporter Name
  • সময়: ০৯:২০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫
  • ৩৩৯ Time View

জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে নেওয়ার কথা বলে সরকারি বরাদ্দের সিমেন্ট, বালু ও টিনভর্তি একটি ট্রলার মিয়ানমারে নিয়ে গেছে বাংলাদেশি কয়েকজন পাচারকারী।

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে নেওয়ার কথা বলে সরকারি বরাদ্দের সিমেন্ট, বালু ও টিনভর্তি একটি ট্রলার মিয়ানমারে নিয়ে গেছে বাংলাদেশি কয়েকজন পাচারকারী। ওই ট্রলারে তিন জন মাঝিমাল্লাও রয়েছেন।

বুধবার বিকালে উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে টিআর প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দের এসব সিমেন্ট, বালু ও টিন ছাড় নেওয়া হয়। ওই দিন বিকালে এগুলো ট্রলারে তুলে সেন্টমার্টিনে নেওয়ার কথা বললেও বৃহস্পতিবার (০১ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পৌঁছায়নি বলে জানায় ট্রলার মালিক সমিতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেন্টমার্টিন বিচ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আশিকুর রহমান(৩০), সেন্টমার্টিনের সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার কামাল(৪০) এবং তার মামা মুক্তার আহমদ(৪৫), নুরুল ইসলাম(৫০), আবদুল মুনাফ(৫০)সহ একটি চোরাকারবারি চক্র মিলে সরকারি কাজের কথা বলে এসব মালামাল মিয়ানমারে পাচার করে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সেন্টমার্টিনের পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য টিআর প্রকল্পের আওতায় আশিকুর রহমানকে গত ২৮ এপ্রিল উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে ৯ বান্ডিল টিন, ৭০ ফুট কাঠ, ৩০ কার্টন টাইলস, ৩০০ ফুট বালু ও ২০ ব্যাগ সিমেন্ট বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রশাসন। মূলত পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য এগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দের অনুমতিপত্র জালিয়াতি করে ২০ ব্যাগের স্থলে ৪০০ ব্যাগ সিমেন্ট উল্লেখ করে নিয়ে যান আশিকুর। সেগুলো আবার সেন্টমার্টিন না নিয়ে মিয়ানমারে পাচার করে দিয়েছেন। যা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রতারণা এবং অপরাধ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন  বলেন, সেন্টমার্টিনের পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য বিচ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আশিকুর রহমানকে ২০ বস্তা সিমেন্টসহ কিছু মালামাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালামালের অনুমতিপত্র তিনি জালিয়াতি করে ৪০০ বস্তা সিমেন্ট মিয়ানমারে পাচার করেছেন বলে খবর পেয়েছি। এ ঘটনা তদন্ত করে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  নাগেশ্বরী অ্যাপোলো ক্লিনিকে সিজারের পর চিকিৎসায় অবহেলার মৃত্যুর অভিযোগ

অভিযোগের বিষয়ে আশিকুর রহমান বলেন, পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য টিআর প্রকল্পের বরাদ্দের অনুমতিপত্র আমার নামে দেওয়া হলেও সেন্টমার্টিনের ইউপি সদস্য মাহফুজা আক্তার তা রিসিভ করেন। পরে শুনেছি সরকারি বরাদ্দের মালামাল মিয়ানমারে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ঘটনায় আমি জড়িত নই। একটি চক্র আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

ইউপি সদস্য মাহফুজা আক্তার বলেন, ‌‘টিআর প্রকল্পের বরাদ্দের অনুমতিপত্র হাতে পেলেও আমরা মালামাল বুঝে নেইনি। একটি চক্র অনুমতিপত্র জালিয়াতি করে বরাদ্দকৃত মালামাল তুলে মিয়ানমারে পাচার করেছেন।

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির এক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার বিকালে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্র দেখিয়ে মো. সারোয়ার হোসেনসহ তিন জন মাঝিমাল্লা ৪০০ বস্তা সিমেন্ট, ৯ বান্ডিল টিনসহ বরাদ্দের মালামাল ট্রলারে তোলেন। এসব মালামাল বুঝে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা কেফায়েত উল্লাহ। কেফায়েত সেন্টমার্টিনের চোরাকারবারি আক্তার কামালের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

কেফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার কামাল উপজেলা প্রশাসনের বরাদ্দের একটি অনুমতিপত্র আমাকে দিয়েছেন। সেটির বরাদ্দের মালামাল বুধবার বিকালে ট্রলারে তোলা হয়। আজ বিকালে জানতে পেরেছি, মালামালগুলো মিয়ানমারে পাচার করা হয়েছে। এতে আমি জড়িত নই।’

এ ব্যাপারে জানতে ইউপি সদস্য আক্তার কামালকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে জানা যায়, আক্তার কামালের আপন ছোট মামা মোক্তার আহমদ অবৈধ পাচার চক্রের মুল হোতা। মামা-ভাগিনার সিন্ডিকেট টিম অনেক বছর ধরে রড, সিমেন্ট, বালি, টিন, তৈলসহ অবৈধ পণ্যসামগ্রী মায়ানমারে পাচার করে  রাতারাতি বিত্তশালী হয়ে উঠেন। মোক্তার আহমদ সকল প্রকার আর্থিক যোগান দিয়ে নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাহিরে রেখে ঠান্ডা মাথায় সবকিছু হ্যান্ডেলিং করে এমনটাই জানা যায়।

কায়ুকখালী ঘাটের মাঝি আবদুল আলীম ওরফে আলম বলেন, ‘বুধবার বিকালে আক্তার কামালের নামে একটি অনুমতি দেখিয়ে ৪০০ ব্যাগ সিমেন্ট, বালু ও টিন ট্রলারে তোলা হয়। ট্রলারটি পরে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। আজ জেনেছি, ভুয়া কাগজ দেখিয়ে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচার করা হয়েছে। কামাল সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে মালামাল পাচার করে আসছে। তাদের আইনের আওতায় আনলে পাচার বন্ধ হবে।

আরও পড়ুনঃ  শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু নির্মাণে ব্যয় হবে ২৫০–৩০০ কোটি টাকা: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ বাংলা বলেন, টেকনাফ থেকে সিমেন্ট, বালু ও টিনবোঝাই একটি ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করলেও সেটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দ্বীপে পৌঁছেনি। ট্রলারটি মিয়ানমারে ঢুকে গেছে বলে জেনেছি।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

সাতক্ষীরায় জামায়াতের ইউনিয়ন দায়িত্বশীল সমাবেশ ও শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত

টেকনাফে ইউএনওর অনুমতিপত্র জালিয়াতি করে মিয়ানমারে পণ্য পাচার

সময়: ০৯:২০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ মে ২০২৫

জামাল উদ্দীন, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে নেওয়ার কথা বলে সরকারি বরাদ্দের সিমেন্ট, বালু ও টিনভর্তি একটি ট্রলার মিয়ানমারে নিয়ে গেছে বাংলাদেশি কয়েকজন পাচারকারী।

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে নেওয়ার কথা বলে সরকারি বরাদ্দের সিমেন্ট, বালু ও টিনভর্তি একটি ট্রলার মিয়ানমারে নিয়ে গেছে বাংলাদেশি কয়েকজন পাচারকারী। ওই ট্রলারে তিন জন মাঝিমাল্লাও রয়েছেন।

বুধবার বিকালে উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে টিআর প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দের এসব সিমেন্ট, বালু ও টিন ছাড় নেওয়া হয়। ওই দিন বিকালে এগুলো ট্রলারে তুলে সেন্টমার্টিনে নেওয়ার কথা বললেও বৃহস্পতিবার (০১ মে) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পৌঁছায়নি বলে জানায় ট্রলার মালিক সমিতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেন্টমার্টিন বিচ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আশিকুর রহমান(৩০), সেন্টমার্টিনের সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার কামাল(৪০) এবং তার মামা মুক্তার আহমদ(৪৫), নুরুল ইসলাম(৫০), আবদুল মুনাফ(৫০)সহ একটি চোরাকারবারি চক্র মিলে সরকারি কাজের কথা বলে এসব মালামাল মিয়ানমারে পাচার করে দিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সেন্টমার্টিনের পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য টিআর প্রকল্পের আওতায় আশিকুর রহমানকে গত ২৮ এপ্রিল উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখা থেকে ৯ বান্ডিল টিন, ৭০ ফুট কাঠ, ৩০ কার্টন টাইলস, ৩০০ ফুট বালু ও ২০ ব্যাগ সিমেন্ট বরাদ্দ দেয় উপজেলা প্রশাসন। মূলত পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য এগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বরাদ্দের অনুমতিপত্র জালিয়াতি করে ২০ ব্যাগের স্থলে ৪০০ ব্যাগ সিমেন্ট উল্লেখ করে নিয়ে যান আশিকুর। সেগুলো আবার সেন্টমার্টিন না নিয়ে মিয়ানমারে পাচার করে দিয়েছেন। যা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে প্রতারণা এবং অপরাধ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন  বলেন, সেন্টমার্টিনের পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য বিচ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আশিকুর রহমানকে ২০ বস্তা সিমেন্টসহ কিছু মালামাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালামালের অনুমতিপত্র তিনি জালিয়াতি করে ৪০০ বস্তা সিমেন্ট মিয়ানমারে পাচার করেছেন বলে খবর পেয়েছি। এ ঘটনা তদন্ত করে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  আত্রাইয়ে মাদকদ্রব্যসহ ছাত্রদল নেতাকে এক দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

অভিযোগের বিষয়ে আশিকুর রহমান বলেন, পর্যটন তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্র সংস্কারের জন্য টিআর প্রকল্পের বরাদ্দের অনুমতিপত্র আমার নামে দেওয়া হলেও সেন্টমার্টিনের ইউপি সদস্য মাহফুজা আক্তার তা রিসিভ করেন। পরে শুনেছি সরকারি বরাদ্দের মালামাল মিয়ানমারে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ঘটনায় আমি জড়িত নই। একটি চক্র আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

ইউপি সদস্য মাহফুজা আক্তার বলেন, ‌‘টিআর প্রকল্পের বরাদ্দের অনুমতিপত্র হাতে পেলেও আমরা মালামাল বুঝে নেইনি। একটি চক্র অনুমতিপত্র জালিয়াতি করে বরাদ্দকৃত মালামাল তুলে মিয়ানমারে পাচার করেছেন।

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির এক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার বিকালে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতিপত্র দেখিয়ে মো. সারোয়ার হোসেনসহ তিন জন মাঝিমাল্লা ৪০০ বস্তা সিমেন্ট, ৯ বান্ডিল টিনসহ বরাদ্দের মালামাল ট্রলারে তোলেন। এসব মালামাল বুঝে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা কেফায়েত উল্লাহ। কেফায়েত সেন্টমার্টিনের চোরাকারবারি আক্তার কামালের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

কেফায়েত উল্লাহ বলেন, ‘সেন্টমার্টিনের সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার কামাল উপজেলা প্রশাসনের বরাদ্দের একটি অনুমতিপত্র আমাকে দিয়েছেন। সেটির বরাদ্দের মালামাল বুধবার বিকালে ট্রলারে তোলা হয়। আজ বিকালে জানতে পেরেছি, মালামালগুলো মিয়ানমারে পাচার করা হয়েছে। এতে আমি জড়িত নই।’

এ ব্যাপারে জানতে ইউপি সদস্য আক্তার কামালকে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে জানা যায়, আক্তার কামালের আপন ছোট মামা মোক্তার আহমদ অবৈধ পাচার চক্রের মুল হোতা। মামা-ভাগিনার সিন্ডিকেট টিম অনেক বছর ধরে রড, সিমেন্ট, বালি, টিন, তৈলসহ অবৈধ পণ্যসামগ্রী মায়ানমারে পাচার করে  রাতারাতি বিত্তশালী হয়ে উঠেন। মোক্তার আহমদ সকল প্রকার আর্থিক যোগান দিয়ে নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাহিরে রেখে ঠান্ডা মাথায় সবকিছু হ্যান্ডেলিং করে এমনটাই জানা যায়।

কায়ুকখালী ঘাটের মাঝি আবদুল আলীম ওরফে আলম বলেন, ‘বুধবার বিকালে আক্তার কামালের নামে একটি অনুমতি দেখিয়ে ৪০০ ব্যাগ সিমেন্ট, বালু ও টিন ট্রলারে তোলা হয়। ট্রলারটি পরে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। আজ জেনেছি, ভুয়া কাগজ দেখিয়ে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচার করা হয়েছে। কামাল সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে মালামাল পাচার করে আসছে। তাদের আইনের আওতায় আনলে পাচার বন্ধ হবে।

আরও পড়ুনঃ  দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভায় মোটরসাইকেল চুরি, থানায় অভিযোগ

টেকনাফ-সেন্টমার্টিন সার্ভিস ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রশিদ বাংলা বলেন, টেকনাফ থেকে সিমেন্ট, বালু ও টিনবোঝাই একটি ট্রলার সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করলেও সেটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দ্বীপে পৌঁছেনি। ট্রলারটি মিয়ানমারে ঢুকে গেছে বলে জেনেছি।