
মোঃ বাদশা সেকেন্দার ভুট্টো
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন মহলের দাবি, সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বেকার যুবক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এর ফলে অনেক পরিবার আর্থিক সংকট, পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অস্থিরতার মুখোমুখি হচ্ছে। ১৯ জুলাই (রবিবার)
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বাজার, চায়ের দোকান, আড্ডাস্থল এমনকি নিজ নিজ বাসা থেকেও স্মার্টফোন ব্যবহার করে অনলাইন বেটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন অনেকে। শুরুতে সামান্য লাভের আশায় যুক্ত হলেও পরবর্তীতে বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহা, পারিবারিক অশান্তি এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
ডিমলা বাজারের এক ব্যবসায়ী, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, বলেন, অনলাইন জুয়া আমাকে প্রায় নিঃস্ব করে দিয়েছিল। অনেক কষ্ট ও পরিবারের সহযোগিতায় সেই আসক্তি থেকে ফিরে এসেছি। এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছি। যারা এখনও এই পথে আছেন, তাদের বলব এখনই ফিরে আসুন। না হলে একদিন সবকিছু হারাতে হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের ভাষ্য, অনলাইন জুয়া বর্তমানে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে এবং এটি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারা নিয়মিত অভিযান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং হাট-বাজারসহ জনসমাগমস্থলে প্রচারণা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
একাধিক অভিভাবক বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ-সংক্রান্ত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং নতুন জুয়া আইন-২০২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিট পুলিশিং, হাট-বাজারে প্রচারণা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে এ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি তরুণদের নৈতিক অবক্ষয়, আর্থিক ক্ষতি এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও বাড়তে পারে। তাই অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ও ওয়েবসাইট শনাক্ত করে বন্ধ করা, সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা দরকার।
Reporter Name 


























