Dhaka ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
ঝিনাইদহে অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্য গ্রেফতার আদমদীঘিতে নববিবাহিত যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার!! পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাঁশখালীতে ৪২০ পরিবার পেল নগদ সহায়তা বগুড়ায় জাল টিপসই দিয়ে খাদ্যবান্ধবের চাল আত্মসাতের চেষ্টা, ডিলার আটক! নরসিংদীর শিবপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন কুমারখালীতে গড়াই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এক জেলের মৃত্যু কালিয়াকৈর হাইটেক সিটির লাখ টাকা মূল্যের তামার তার ও পাইপ চুরির ঘটনায় ৬ জন আটক কালীগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণচেষ্টা মামলায় ৭০ বছরের আসামি ভাটারা থেকে গ্রেপ্তার বদলগাছীতে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদককে ছুরিকাঘাতে জখমের অভিযোগ, বহিষ্কৃত কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে নড়াইলে ৩টি প্লাস্টিক বোতলে ১ গাছের চারা, পরিবেশ রক্ষায় চলো পাল্টাই বাংলাদেশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ডুমুরিয়ায় দুটি খাল খননে অনিয়ম ঃ ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ফেরত বাধ্য হল প্রশাসন জলাবদ্ধতা নিরসনে খনন করা খালের পাড়ে রোপনকৃত চারা জলমগ্ন

  • Reporter Name
  • সময়: ১০:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৩ Time View

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বিলডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি খাল খননের জন্য বড় অংকের অর্থ ব্যয়ে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প হওয়ায় শুরুতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরকম পরিস্থিতিতে উধর্বতন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শস করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমনকি ৫ থেকে ৭ ফুট গভীরতা সম্পন্ন খাল থেকে ভেক্যু মেশিন দিয়ে পেড়িমাটি তুলে খালের পাড়েই রাখা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও বাস্তবায়নকারী দপ্তরের উদ্সীনতায় যেনতেনভাবে খাল খনন করে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হল ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা।
এদিকে খাতা কলমে সদ্য সমাপ্ত সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিযা বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃ খনন’ প্রকল্পের ভদ্রা নদীর নষ্ট হয়ে যাওয়া স্লুইজ গেটে সামনে মাটির হদিস পাওযা যায়নি। নামমাত্র একটি বেড়ি বাঁধ দেয়া হযেছে । যার দক্ষিন পাশেও পানি। এর মাঝখানের বেড়িতে চারা রোপনকৃত চারা এখন পানির নীচে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, বিলডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দুটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যার মধ্যে সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিযা বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃ খনন’ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। খাতা কলমে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। এছাড়া বিলডাকাতিয়ায় খনন করা খালের পাড়ে দেয়া মাটির অধিকাংশ স্থানে অস্তিস্ত নেই।
অপরদিকে ডুমুরিয়া ফুলতলা এলাকার সবচেযে বড় সমস্যা বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা। বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া ’কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিলডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন’ প্রকল্পে ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিতে হযেছে ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন জানালেন, ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দুটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হযেছে। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার’র নিকট টেলিফোনে জানাতে চাইলে অর্থ ফেরত দেয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি একটি মিটিংয়ে থাকায় এর বেশি বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
খুলনা জেলা ত্রান ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মোঃ আব্দূল করিম বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি খাল খননের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ কাজ হযেছে সেটি সরেজমিনে দেখে সে অনুযায়ি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়্ সে অনুয়ায়ি ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে জমা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চাঁদপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও নাগরিকরা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন- মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোশারফ হোসাইন
Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

ঝিনাইদহে অজ্ঞান পার্টির দুই সদস্য গ্রেফতার

ডুমুরিয়ায় দুটি খাল খননে অনিয়ম ঃ ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ফেরত বাধ্য হল প্রশাসন জলাবদ্ধতা নিরসনে খনন করা খালের পাড়ে রোপনকৃত চারা জলমগ্ন

সময়: ১০:০৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার বিলডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি খাল খননের জন্য বড় অংকের অর্থ ব্যয়ে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প হওয়ায় শুরুতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরকম পরিস্থিতিতে উধর্বতন কর্তৃপক্ষ একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শস করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমনকি ৫ থেকে ৭ ফুট গভীরতা সম্পন্ন খাল থেকে ভেক্যু মেশিন দিয়ে পেড়িমাটি তুলে খালের পাড়েই রাখা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও বাস্তবায়নকারী দপ্তরের উদ্সীনতায় যেনতেনভাবে খাল খনন করে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হল ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা।
এদিকে খাতা কলমে সদ্য সমাপ্ত সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিযা বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃ খনন’ প্রকল্পের ভদ্রা নদীর নষ্ট হয়ে যাওয়া স্লুইজ গেটে সামনে মাটির হদিস পাওযা যায়নি। নামমাত্র একটি বেড়ি বাঁধ দেয়া হযেছে । যার দক্ষিন পাশেও পানি। এর মাঝখানের বেড়িতে চারা রোপনকৃত চারা এখন পানির নীচে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, বিলডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দুটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যার মধ্যে সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিযা বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃ খনন’ প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। খাতা কলমে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা। এছাড়া বিলডাকাতিয়ায় খনন করা খালের পাড়ে দেয়া মাটির অধিকাংশ স্থানে অস্তিস্ত নেই।
অপরদিকে ডুমুরিয়া ফুলতলা এলাকার সবচেযে বড় সমস্যা বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা। বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া ’কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিলডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন’ প্রকল্পে ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিতে হযেছে ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আরিফ হোসেন জানালেন, ডুমুরিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দুটি খাল খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হযেছে। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার’র নিকট টেলিফোনে জানাতে চাইলে অর্থ ফেরত দেয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি একটি মিটিংয়ে থাকায় এর বেশি বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
খুলনা জেলা ত্রান ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মোঃ আব্দূল করিম বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি খাল খননের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ কাজ হযেছে সেটি সরেজমিনে দেখে সে অনুযায়ি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়্ সে অনুয়ায়ি ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে জমা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কালিগঞ্জে জামায়াতের লিডারশিপ প্রশিক্ষণ কর্মশালা