Dhaka ০২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
তাহিরপুরে জমি বিরোধে নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে আহত, চিকিৎসাধীন ১২ দিন পর মধু মিয়ার মৃত্যু জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বরিশাল ও পিরোজপুর জেলা কমিটি অনুমোদন গ্যাস,বিদ্যুৎ সংকটসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে নরসিংদীতে ১১ দলের স্বারকলিপি প্রদান খুলনায় পথের বাজার চেকপোস্টে রাইফেলের গুলিসহ যুবক আটক বুড়িচংয়ে নিখোঁজের ৩ দিন পর ফিশারির পুকুরে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রামে ৬ দিনে ১৭৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ভাঙ্গুড়ায় অসুস্থ যুবদল নেতাকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াতের এমপি আলী আছগার চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ্যালামনাই এসোসিয়েশন কতৃক গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম ১০ সংসদীয় আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব সাঈদ আল নোমান নিউইয়র্কের কিংবদন্তি সংবাদ উপস্থাপক কাইটি টং অবসরের ঘোষণা দিলেন রামপালে স্কুল ছাত্রী ও তার বাবাকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

তাহিরপুরে জমি বিরোধে নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে আহত, চিকিৎসাধীন ১২ দিন পর মধু মিয়ার মৃত্যু

  • Reporter Name
  • সময়: ০১:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ Time View

আমির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে মধু মিয়াসহ ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়া (৫৫) মারা গেছেন।

গত ২৬ জুলাই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলা করার কারণে উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল হাই ও তার লোকজন প্রতিবেশী মধু মিয়ার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মধু মিয়াসহ ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মধু মিয়া মারা যান। এ ঘটনায় মধু মিয়ার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ ঘটনায় সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে মধু মিয়া (৪৮), আবুল কাশেম (৪২), আব্দুস ছালাম (৩৭), মধু মিয়ার স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৪০), মেয়ে শের আলী (২৮), কাশেম মিয়ার স্ত্রী জেসমিন বেগম (৩৫) ও ছেলে বিপ্লব (২০) আহত হন।

পরদিন রাতেই নিহত মধু মিয়ার ছোট ভাই আহত আব্দুল ছালাম বাদী হয়ে একই গ্রামের তরমুজ আলীর ছেলে আব্দুল হাই (৬৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে উজ্জল মিয়া (২৫), মাসুক মিয়া (২৯), রহিম মিয়া (৩৩), নয়ন মিয়া (২৭), জাকির মিয়া (২০), ফরিদ মিয়া (৩১) ও মেয়ে শেফালী বেগম (২২)-এর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল ছালামের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের পরিবারের জমিজমা সংক্রান্ত ও মামলা নিয়ে বিরোধ চলছিল। জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কালীগঞ্জে বাবা-মায়ের সঙ্গে মৃত বাড়ি যাচ্ছিল শিশুটি, ট্রাকের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে মৃত্যু

এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২৬ জুলাই রোববার ভোর সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ আব্দুল হাই ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ বাদী আব্দুস সালামের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আব্দুস সালাম ও তার পরিবারের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল হাই ও তার লোকজন এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মধু মিয়া, আবুল কাশেম, শের আলী, বিপ্লব, সাফিয়া বেগম এবং আব্দুল ছালামসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত করে।

পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মধু মিয়া, কাশেম মিয়া ও সাফিয়া বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বাকিদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সেখানে মধু মিয়া ও আবুল কাশেম আইসিইউতে ১২ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়া মারা যান।

তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ মধু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের ধরতে র‍্যাবকে সঙ্গে নিয়ে সারারাত অভিযোগে উল্লেখিত আসামিদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা বিশ্বম্ভরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। খুব দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

তাহিরপুরে জমি বিরোধে নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে আহত, চিকিৎসাধীন ১২ দিন পর মধু মিয়ার মৃত্যু

তাহিরপুরে জমি বিরোধে নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে আহত, চিকিৎসাধীন ১২ দিন পর মধু মিয়ার মৃত্যু

সময়: ০১:২৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

আমির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার


সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে মধু মিয়াসহ ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়া (৫৫) মারা গেছেন।

গত ২৬ জুলাই জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মামলা করার কারণে উপজেলার সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল হাই ও তার লোকজন প্রতিবেশী মধু মিয়ার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মধু মিয়াসহ ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মধু মিয়া মারা যান। এ ঘটনায় মধু মিয়ার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এ ঘটনায় সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে মধু মিয়া (৪৮), আবুল কাশেম (৪২), আব্দুস ছালাম (৩৭), মধু মিয়ার স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৪০), মেয়ে শের আলী (২৮), কাশেম মিয়ার স্ত্রী জেসমিন বেগম (৩৫) ও ছেলে বিপ্লব (২০) আহত হন।

পরদিন রাতেই নিহত মধু মিয়ার ছোট ভাই আহত আব্দুল ছালাম বাদী হয়ে একই গ্রামের তরমুজ আলীর ছেলে আব্দুল হাই (৬৫), আব্দুল হাইয়ের ছেলে উজ্জল মিয়া (২৫), মাসুক মিয়া (২৯), রহিম মিয়া (৩৩), নয়ন মিয়া (২৭), জাকির মিয়া (২০), ফরিদ মিয়া (৩১) ও মেয়ে শেফালী বেগম (২২)-এর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের আব্দুল ছালামের পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের পরিবারের জমিজমা সংক্রান্ত ও মামলা নিয়ে বিরোধ চলছিল। জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিয়ে আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে চাঁদপুরে ম্যারাথন, অংশ নিলেন পাঁচ শতাধিক প্রতিযোগী

এই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২৬ জুলাই রোববার ভোর সকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষ আব্দুল হাই ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ বাদী আব্দুস সালামের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় আব্দুস সালাম ও তার পরিবারের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল হাই ও তার লোকজন এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মধু মিয়া, আবুল কাশেম, শের আলী, বিপ্লব, সাফিয়া বেগম এবং আব্দুল ছালামসহ ছয়জনকে গুরুতর আহত করে।

পরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মধু মিয়া, কাশেম মিয়া ও সাফিয়া বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বাকিদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সেখানে মধু মিয়া ও আবুল কাশেম আইসিইউতে ১২ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধু মিয়া মারা যান।

তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ মধু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের ধরতে র‍্যাবকে সঙ্গে নিয়ে সারারাত অভিযোগে উল্লেখিত আসামিদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা বিশ্বম্ভরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। খুব দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।