
হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ:
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: নিউইয়র্কে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক এবং ব্যাবসায়ী আলমগীর ভূইয়ার ৮৫ হাজার ডলার আত্মসাৎ; প্রতারক চক্রের মূলহোতা তাজুলসহ সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে এক চাঞ্চল্যকর ও ন্যাক্কারজনক প্রতারণার ঘটনা ফাঁস হয়েছে। অত্যন্ত বিনয়ী ও সজ্জন হিসেবে পরিচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ওবিশিষ্ট এবং সফল ব্যবসায়ী আলমগীর ভূঁইয়ার সরলতার সুযোগ নিয়ে তার দীর্ঘদিনের তিলে তিলে গড়া সঞ্চয় ও ব্যবসার ৮৫ হাজার ডলার আত্মসাৎ করেছে এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে জ্যামাইকার আলোচিত ‘মাথা নষ্ট ফার্স্টফুড স্টোর’-এর মালিক শেখ এমডি তাজুল ইসলাম এবং তার সহযোগী আব্দুল্লাহ আহাদ ও মেডিস ডিল এলএলসির নাম উঠে এসেছে। এই ঘটনায় বর্তমানে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা ও বাঙালি কমিউনিটির মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।খবর আইবিএননিউজ।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ: বিশ্বাসের সুযোগে বিষবৃক্ষ
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৭০-১৬ হিলসাইড এভিনিউ, জ্যামাইকা ঠিকানায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর ভূঁইয়া ‘প্রিন্স রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইট’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সুনামের সাথে দীর্ঘকাল পরিচালনা করে আসছিলেন। বয়স ও ব্যক্তিগত কারণে তিনি সম্প্রতি ব্যবসাটি বিক্রির চিন্তা করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী শেখ এমডি তাজুল ইসলাম সেটি ক্রয়ের প্রস্তাব দেন। একজন প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক হওয়া সত্ত্বেও আলমগীর ভূঁইয়া তাকে বিশ্বাস করেন। কিন্তু সেই বিশ্বাসই কাল হয়ে দাঁড়ায়।
বিগত ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ব্যবসায়িক হস্তান্তরের প্রাথমিক কিস্তি হিসেবে তাজুল ইসলাম ৪০ হাজার ডলারের একটি চেক (চেক নং ১০২৫) প্রদান করেন। আলমগীর ভূঁইয়া চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে সেটি ডিজঅনার হয়। অর্থাৎ ব্যাংকে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না রেখেই জালিয়াতির উদ্দেশ্যে এই চেক প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বাকি ৪৫ হাজার ডলারসহ মোট ৮৫ হাজার ডলার নিয়ে তাজুল ও তার সহযোগীরা সম্পূর্ণ টালবাহানা শুরু করে এবং আলমগীর ভূঁইয়ার পাওনা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করে।

আইনি লড়াই: সুপ্রিম কোর্ট ও ডিএ অফিসে মামলা প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আলমগীর ভূঁইয়া আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ইতোমধ্যে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (DA) অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়াও, সুপ্রিম কোর্ট অব দ্য স্টেট অব নিউইয়র্ক, কান্ট্রি অব কুইন্স-এ একটি বিশাল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন, যার ইনডেক্স নাম্বার: ৭৩৪২৬৪/২০২৫। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে: ১. শেখ এমডি তাজুল ইসলাম ২. আব্দুল্লাহ আহাদ ৩. পাঁচ মিশালী ইনক ৪. মেডিস ডিল এলএলসি।
শাস্তির বিধান: দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড ও কঠোর ব্যবস্থা
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইন ও পেনাল কোড অনুযায়ী, এটি একটি গ্র্যান্ড লারসেনি (Grand Larceny in the Second Degree)। যেহেতু আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার অতিক্রম করেছে, তাই এটি একটি Class C Felony।
সম্ভাব্য কঠোর শাস্তিসমূহ:
১৫ বছরের জেল: দোষী সাব্যস্ত হলে মূল অভিযুক্ত শেখ এমডি তাজুল ইসলামের সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
সম্পদ বাজেয়াপ্ত: আদালতের নির্দেশে বিবাদীদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি করে পাওনাদারের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।
চেইন রিঅ্যাকশন: যেহেতু বিবাদী একজন ব্যবসায়ী, এই আর্থিক জালিয়াতির কারণে তার সকল ব্যবসায়িক লাইসেন্স বাতিল এবং ফেডারেল ট্যাক্স আইডির আওতায় ব্ল্যাকলিস্টেড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যেভাবে গ্রেপ্তার সম্ভব: পরবর্তী আইনি ধাপ
মামলাটি বর্তমানে চূড়ান্ত তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেভাবে দ্রুত গ্রেফতার নিশ্চিত হতে পারে: ১. ফৌজদারি পরোয়ানা (Arrest Warrant): ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিস যদি তদন্তে পায় যে তাজুল ইসলাম ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংক জালিয়াতি করেছেন, তবে যেকোনো সময় পুলিশ (NYPD) তাকে এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে পারবে। ২. পাসপোর্ট জব্দ: আদালতের মাধ্যমে বিবাদীদের পাসপোর্ট সাময়িক স্থগিত করার আবেদন করা যেতে পারে যাতে তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে। ৩. তদন্তে সহযোগিতা: স্থানীয় ভুক্তভোগীরা যদি ডিএ অফিসে তাজুলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ জমা দেন, তবে মামলার গুরুত্ব বাড়বে এবং পুলিশি অ্যাকশন দ্রুত হবে।

কমিউনিটির আবেগ
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর ভূঁইয়া কেবল একজন ব্যবসায়ী নন, তিনি নিউইয়র্কে প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপনের পথিকৃৎ। ১৯৯০-এর দশকে ম্যানহাটনে তিনি বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরেছিলেন। এমন একজন প্রচারবিমুখ ও সাদা মনের মানুষের ওপর এধরনের কাজ করায় সাংবাদিক সমাজ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ অন্যীন্যরী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন বলেন, “একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে এমন প্রতারণা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। আমরা এই প্রতারক চক্রের কঠোর শাস্তি ও অর্থ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
প্রতারক চক্রের পতন অনিবার্য। আইনের জাল চারদিকে বিস্তৃত হচ্ছে। সমাজ এবং প্রশাসন এখন শেখ তাজুল ইসলামের চূড়ান্ত শাস্তির অপেক্ষায়।
Reporter Name 

























