Dhaka ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন আত্রাই রেললাইনের পাশে পড়ে ছিল কলেজ অধ্যক্ষের মরদেহ!! হোয়াইক্যং আলহাজ্ব আলী আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হলেন জুনায়েদ আলী চৌধুরী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরুপ মেডেল ও সম্মামনা প্রদান ‘লা পুলগা’ থেকে ‘দ্য গোট’ রেকর্ডের অপেক্ষায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো সংসদে বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা’ বললেন এমপি আমির হামজা সকল অপকর্মের সমাপ্তি চাই গফরগাঁওয়ে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘গেম চেঞ্জার’ বললেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

“নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের বাংলাদেশে আজ করুণ পরিণতি” (The Tragic Fate of Bangladesh’s Lower and Middle Classes Today)

  • Reporter Name
  • সময়: ১২:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬৪ Time View

ভূমিকা:

অদৃশ্য এক বেদনার গল্প । বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ আজ এমন এক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যাদের কণ্ঠ নেই, প্রতিবাদ নেই, অথচ সবকিছুর ভার তাঁদের কাঁধে তাঁরা নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত।এই শ্রেণিই রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড, দেশের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নাগরিক জীবনের চালিকাশক্তি। অথচ এই শ্রেণিই আজ সবচেয়ে বেশি সংকটে, সবচেয়ে বেশি চাপে, সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত।

অর্থনৈতিক বাস্তবতা:

আয় বাড়েনি, ব্যয় দ্বিগুণ । ২০২৫ সালের শুরু থেকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রেকর্ড ছুঁয়েছে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ১০.১% — যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

কিন্তু মজুরি?অফিস, দোকান, কলকারখানা কিংবা প্রাইভেট খাতের কর্মীদের বেতন বেড়েছে মাত্র ৩–৫%।
ফলাফল—মাসের মাঝামাঝি আসার আগেই ফুরিয়ে যাচ্ছে আয়।যেখানে আগে ৫০ হাজার টাকায় ৩০ দিন চলে যেত, এখন ৮০ হাজারেও কষ্টে মাস পেরোয়।

 

বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, পরিবহন, চিকিৎসা—সব খাতে ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি মানুষকে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।যারা একসময় সন্তানকে প্রাইভেট টিউশন, ভালো স্কুল, কিংবা একটি সামান্য আনন্দযাত্রা দিতে পারতেন,
তারা এখন হিসাব করছেন—আজ বাজারে যাবেন, নাকি শিশুর স্কুল ফি দেবেন।

বাসস্থানের বোঝা ও নগর জীবনের দুঃসহতা: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বা খুলনার মতো শহরে ভাড়া এখন মধ্যবিত্তদের জন্য দুঃস্বপ্ন।একটি দুই রুমের ফ্ল্যাটের ভাড়া যেখানে ২০২০ সালে ছিল ১২–১৫ হাজার টাকা, এখন তা দাঁড়িয়েছে ২৫–৩০ হাজারে।ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট, যাতায়াত, সন্তানদের স্কুল ফি—সব মিলিয়ে জীবনযাপন ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি।

 

 

ফলে অনেক পরিবার এখন গ্রামে ফিরে যাচ্ছে, কেউ কেউ আবার শেয়ার ফ্ল্যাটে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
এমনকি মধ্যবিত্তরা আজ ভাড়া কমানোর জন্য গোপনে গৃহমালিকের কাছে অনুরোধ করছে—যা আগে কখনো ভাবাও যেত না।

 

সামাজিক মর্যাদা বনাম বাস্তব দারিদ্র্য: মধ্যবিত্ত সমাজের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি—তারা দরিদ্র নয়, কিন্তু স্বাচ্ছন্দ্যও নেই।তারা কাউকে বলতে পারে না “আমাদের কষ্ট হচ্ছে,” কারণ সমাজ তাঁদের কাছে ‘সম্মানজনক শ্রেণি’।

আরও পড়ুনঃ  উদ্বোধনের এক বছরেও চালু হয়নি বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিস

 

ফলে এই শ্রেণি নীরবে ক্ষয়ে যাচ্ছে—
অভ্যন্তরীণ মানসিক চাপ, অবসাদ, আত্মহত্যার প্রবণতা, পারিবারিক কলহ ও হতাশা বাড়ছে দিন দিন।

এক জরিপে (Center for Policy Dialogue – CPD, ২০২৫) বলা হয়েছে,বাংলাদেশের ৪৬% মধ্যবিত্ত পরিবার এখন “আর্থিকভাবে অনিরাপদ” অবস্থায় আছে।অর্থাৎ, মাসিক ব্যয় মেটাতে তারা সঞ্চয় ভাঙছে বা ঋণ নিচ্ছে।

 

চাকরি ও কর্মসংস্থান:

সুযোগ কমছে, প্রতিযোগিতা বাড়ছে ।সরকারি চাকরির সুযোগ সীমিত, প্রাইভেট সেক্টরে চাকরির নিরাপত্তা প্রায় নেই।বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে, যেখানে চাকরির স্থায়িত্ব ও পেনশন সুবিধা নেই।

এছাড়া কর্মক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় কর্মজীবীরা দিশেহারা।অন্যদিকে অনেকে ক্ষুদ্র ব্যবসা বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে নামলেও বাজারের অনিশ্চয়তা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা তাদের টিকিয়ে রাখতে পারছে না।

নারী ও পারিবারিক সংগ্রাম:

দ্বিগুণ চাপের নাম জীবন:- মধ্যবিত্ত নারীরা আজ এক অনন্য সংকটে।অফিসে কর্মক্ষেত্রের চাপ, ঘরে পরিবারের দায়িত্ব—সবই তার কাঁধে।অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নারী এখন শুধু গৃহিণী নয়, অর্থনৈতিক যোদ্ধাও বটে।কিন্তু সন্তান, বৃদ্ধ বাবা-মা ও কর্মজীবনের ভারসাম্য রক্ষা করা ক্রমশ অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

 

 

নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা:

সরকার বাজার মনিটরিং, টিসিবি, ভর্তুকি, এবং মূল্য কমিশন চালু রেখেছে—

কিন্তু এসব ব্যবস্থা মূলত প্রতীকী ও শহরমুখী।প্রান্তিক জনগণ কিংবা নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণি বাস্তবে তেমন কোনো সুফল পাচ্ছে না।ভর্তুকি, বাণিজ্য নীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব—এটাই মূল সমস্যা।
অন্যদিকে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, কালোবাজারি, এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এই শ্রেণিকে আরও বিপন্ন করে তুলছে।

 

উপসংহার:

নীরব শ্রেণির আর্তনাদ আজ বাংলাদেশে নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চিত প্রান্তে।তাদের নেই ভাতার ব্যবস্থা, নেই সামাজিক সুরক্ষা, নেই নীতিগত অগ্রাধিকার।
তারা কর দেয়, পরিশ্রম করে, সমাজ টিকিয়ে রাখে—কিন্তু রাষ্ট্র যখন কল্যাণের হাত বাড়ায়, তখন তারা সবসময় ‘যোগ্যতার সীমার বাইরে’।এই শ্রেণি যদি ভেঙে পড়ে, দেশও টিকবে না।কারণ এই শ্রেণিই জাতির নৈতিক, শিক্ষিত ও শ্রমনিষ্ঠ ভিত্তি।

আরও পড়ুনঃ  নবীগঞ্জে বিদ্যালয়ের দপ্তরির বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, সাংবাদিকের সঙ্গেও খারাপ আচরণের অভিযোগ

অতএব, নীতিনির্ধারকদের এখনই সময়—মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আয় বৃদ্ধির কৌশল, ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার মাধ্যমেএই শ্রেণির প্রতি বাস্তব সহানুভূতি দেখানোর।

শেষ বাক্য: “মধ্যবিত্তের কান্না শোনা যায় না,
তবু তাদের কাঁধেই রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে আছে।”

 

 

 

লেখক: অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
(আইনজীবী, লেখক ও সামাজিক বিশ্লেষক)

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

কলকাতা ইসকনের উদ্যোগে বাবুঘাট গঙ্গা তীর পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালালেন

“নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের বাংলাদেশে আজ করুণ পরিণতি” (The Tragic Fate of Bangladesh’s Lower and Middle Classes Today)

সময়: ১২:১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

ভূমিকা:

অদৃশ্য এক বেদনার গল্প । বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ আজ এমন এক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যাদের কণ্ঠ নেই, প্রতিবাদ নেই, অথচ সবকিছুর ভার তাঁদের কাঁধে তাঁরা নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত।এই শ্রেণিই রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড, দেশের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নাগরিক জীবনের চালিকাশক্তি। অথচ এই শ্রেণিই আজ সবচেয়ে বেশি সংকটে, সবচেয়ে বেশি চাপে, সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত।

অর্থনৈতিক বাস্তবতা:

আয় বাড়েনি, ব্যয় দ্বিগুণ । ২০২৫ সালের শুরু থেকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রেকর্ড ছুঁয়েছে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS)-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ১০.১% — যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

 

কিন্তু মজুরি?অফিস, দোকান, কলকারখানা কিংবা প্রাইভেট খাতের কর্মীদের বেতন বেড়েছে মাত্র ৩–৫%।
ফলাফল—মাসের মাঝামাঝি আসার আগেই ফুরিয়ে যাচ্ছে আয়।যেখানে আগে ৫০ হাজার টাকায় ৩০ দিন চলে যেত, এখন ৮০ হাজারেও কষ্টে মাস পেরোয়।

 

বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, পরিবহন, চিকিৎসা—সব খাতে ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি মানুষকে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।যারা একসময় সন্তানকে প্রাইভেট টিউশন, ভালো স্কুল, কিংবা একটি সামান্য আনন্দযাত্রা দিতে পারতেন,
তারা এখন হিসাব করছেন—আজ বাজারে যাবেন, নাকি শিশুর স্কুল ফি দেবেন।

বাসস্থানের বোঝা ও নগর জীবনের দুঃসহতা: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী বা খুলনার মতো শহরে ভাড়া এখন মধ্যবিত্তদের জন্য দুঃস্বপ্ন।একটি দুই রুমের ফ্ল্যাটের ভাড়া যেখানে ২০২০ সালে ছিল ১২–১৫ হাজার টাকা, এখন তা দাঁড়িয়েছে ২৫–৩০ হাজারে।ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট, যাতায়াত, সন্তানদের স্কুল ফি—সব মিলিয়ে জীবনযাপন ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি।

 

 

ফলে অনেক পরিবার এখন গ্রামে ফিরে যাচ্ছে, কেউ কেউ আবার শেয়ার ফ্ল্যাটে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।
এমনকি মধ্যবিত্তরা আজ ভাড়া কমানোর জন্য গোপনে গৃহমালিকের কাছে অনুরোধ করছে—যা আগে কখনো ভাবাও যেত না।

 

সামাজিক মর্যাদা বনাম বাস্তব দারিদ্র্য: মধ্যবিত্ত সমাজের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি—তারা দরিদ্র নয়, কিন্তু স্বাচ্ছন্দ্যও নেই।তারা কাউকে বলতে পারে না “আমাদের কষ্ট হচ্ছে,” কারণ সমাজ তাঁদের কাছে ‘সম্মানজনক শ্রেণি’।

আরও পড়ুনঃ  রেকর্ডের অপেক্ষায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের মুখোমুখি হবে ডিআর কঙ্গো

 

ফলে এই শ্রেণি নীরবে ক্ষয়ে যাচ্ছে—
অভ্যন্তরীণ মানসিক চাপ, অবসাদ, আত্মহত্যার প্রবণতা, পারিবারিক কলহ ও হতাশা বাড়ছে দিন দিন।

এক জরিপে (Center for Policy Dialogue – CPD, ২০২৫) বলা হয়েছে,বাংলাদেশের ৪৬% মধ্যবিত্ত পরিবার এখন “আর্থিকভাবে অনিরাপদ” অবস্থায় আছে।অর্থাৎ, মাসিক ব্যয় মেটাতে তারা সঞ্চয় ভাঙছে বা ঋণ নিচ্ছে।

 

চাকরি ও কর্মসংস্থান:

সুযোগ কমছে, প্রতিযোগিতা বাড়ছে ।সরকারি চাকরির সুযোগ সীমিত, প্রাইভেট সেক্টরে চাকরির নিরাপত্তা প্রায় নেই।বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এখন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিচ্ছে, যেখানে চাকরির স্থায়িত্ব ও পেনশন সুবিধা নেই।

এছাড়া কর্মক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় কর্মজীবীরা দিশেহারা।অন্যদিকে অনেকে ক্ষুদ্র ব্যবসা বা ফ্রিল্যান্সিংয়ে নামলেও বাজারের অনিশ্চয়তা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা তাদের টিকিয়ে রাখতে পারছে না।

নারী ও পারিবারিক সংগ্রাম:

দ্বিগুণ চাপের নাম জীবন:- মধ্যবিত্ত নারীরা আজ এক অনন্য সংকটে।অফিসে কর্মক্ষেত্রের চাপ, ঘরে পরিবারের দায়িত্ব—সবই তার কাঁধে।অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নারী এখন শুধু গৃহিণী নয়, অর্থনৈতিক যোদ্ধাও বটে।কিন্তু সন্তান, বৃদ্ধ বাবা-মা ও কর্মজীবনের ভারসাম্য রক্ষা করা ক্রমশ অসম্ভব হয়ে পড়ছে।

 

 

নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা:

সরকার বাজার মনিটরিং, টিসিবি, ভর্তুকি, এবং মূল্য কমিশন চালু রেখেছে—

কিন্তু এসব ব্যবস্থা মূলত প্রতীকী ও শহরমুখী।প্রান্তিক জনগণ কিংবা নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণি বাস্তবে তেমন কোনো সুফল পাচ্ছে না।ভর্তুকি, বাণিজ্য নীতি ও উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব—এটাই মূল সমস্যা।
অন্যদিকে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, কালোবাজারি, এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এই শ্রেণিকে আরও বিপন্ন করে তুলছে।

 

উপসংহার:

নীরব শ্রেণির আর্তনাদ আজ বাংলাদেশে নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি দাঁড়িয়ে আছে এক অনিশ্চিত প্রান্তে।তাদের নেই ভাতার ব্যবস্থা, নেই সামাজিক সুরক্ষা, নেই নীতিগত অগ্রাধিকার।
তারা কর দেয়, পরিশ্রম করে, সমাজ টিকিয়ে রাখে—কিন্তু রাষ্ট্র যখন কল্যাণের হাত বাড়ায়, তখন তারা সবসময় ‘যোগ্যতার সীমার বাইরে’।এই শ্রেণি যদি ভেঙে পড়ে, দেশও টিকবে না।কারণ এই শ্রেণিই জাতির নৈতিক, শিক্ষিত ও শ্রমনিষ্ঠ ভিত্তি।

আরও পড়ুনঃ  রিকশা চালক নকির চ/র/ম অসহায়

অতএব, নীতিনির্ধারকদের এখনই সময়—মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আয় বৃদ্ধির কৌশল, ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করার মাধ্যমেএই শ্রেণির প্রতি বাস্তব সহানুভূতি দেখানোর।

শেষ বাক্য: “মধ্যবিত্তের কান্না শোনা যায় না,
তবু তাদের কাঁধেই রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে আছে।”

 

 

 

লেখক: অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া
(আইনজীবী, লেখক ও সামাজিক বিশ্লেষক)