Dhaka ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি বেড়ে ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ ডুমুরিয়ার খর্নিয়ায় নদী খননের বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত: পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসনীয় উপজেলা প্রশাসন ঝিনাইদহের মহেশপুরে র‍্যাবের অভিযান, ৬৬৪ বোতল মাদকসহ যুবক গ্রেফতার হামলার ক্ষতিপূরণ চায় ইরান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল রাঙ্গামাটির ফারুয়া বাজার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ পপি ও বিষ্ণুপুর থানার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, ন্যায়বিচারের দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ নাজিমগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী বৃন্দের সাথে মতবিনিময় করলেন নবাগত অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম চরভদ্রাসনে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে গ্রেফতার তিন যুবকের তিন মাসের কারাদণ্ড ময়মনসিংহ নান্দাইলের আবু তাহের এর দায়েল কৃত মামলা হাত থেকে রেহাই পেতে চায় দুলাল পরিবার বর্গ বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

ফজরের পর ঘুমালে যে ক্ষতি হতে পারে

 

ঘুম আল্লাহর একটি মহান নেয়ামত। মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম অত্যন্ত জরুরি। জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো প্রয়োজন।

 

ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান উভয়ই ঘুমের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। ইসলাম মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল রাখতে কাজ, ইবাদত ও বিশ্রামের মধ্যে সমন্বয়ের কথাই বলে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম এবং রাতকে করেছি আবরণ।’ (সুরা নাবা ৯-১০)

এই আয়াত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সঠিক ঘুমের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে। তবে সকালে, বিশেষ করে ফজরের নামাজের পর ঘুমানোতে ইসলাম বিরোধিতা করেছে। কারণ এ সময়টিকে কাজ এবং বরকতের সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য সকালে বরকত দান করুন।’ (তিরমিজি ১২১২) এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝা যায়, ফজরের নামাজের পর কাজ বা ইবাদতের দিকে মনোযোগী হলে জীবনে বরকতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে, অতিরিক্ত ঘুম বা অলসতা বরকতের সুযোগ নষ্ট করে। বর্তমান জীবনে অনেকেই রাত জেগে বিনোদন বা অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় কাটায়, যা ফজরের নামাজ পালনকে বাধাগ্রস্ত করে এবং এতে বরকত হ্রাস পায়।

 

রাতে ঘুমানোর বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাতের প্রথম ভাগে ঘুমাও এবং শেষ ভাগে ইবাদতের জন্য জেগে ওঠো। কারণ রাতের শেষভাগের ইবাদত বেশি ফজিলতপূর্ণ।’ (সহিহ বুখারি ১১২০) অতএব, রাতের প্রথম ভাগে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। পৃথিবীর ইতিহাস সাক্ষী, সফল ব্যক্তিরা রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে ভোরবেলা উঠে নতুন উদ্যমে কাজ করেন। এ সম্পর্কে আবু উমামা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ঘুমানোর উদ্দেশ্যে পবিত্র অবস্থায় বিছানায় যায় এবং ঘুম না আসা পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করে, সে যখন পার্শ্ব পরিবর্তন করবে, তার জন্য আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ প্রার্থনা করার সুযোগ দান করবেন।’ (তিরমিজি ৩৫২৬) ফজরের নামাজের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ কিছু আমলের তাগিদ করেছেন। ওই সময় দোয়া-দরুদ, তসবিহ, তাহলিল, জিকির ও আল্লাহর স্মরণে কাটানোর জন্য উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, সূর্যোদয় পর্যন্ত নামাজের স্থানে বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে, এরপর দুই রাকাত (ইশরাক) নামাজ আদায় করে, তার জন্য রয়েছে একটি হজ ও ওমরাহর পূর্ণ সওয়াব।’ (তিরমিজি ৫৮৬)

আরও পড়ুনঃ  টানা বর্ষণে মুক্তাগাছা শহরে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে জনজীবন

রাতে ঘুমানোর আগে আল্লাহর নাম স্মরণ করা এবং ইসতেগফার করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে আল্লাহর নাম স্মরণ না করে ঘুমায় এবং ফজরের সময় না জাগে, তার কানে শয়তান গিঁট বেঁধে দেয়।’ (সহিহ বুখারি ১১৪২) অতিরিক্ত ঘুম ও অলসতা উদ্বেগ, হতাশা এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে। তাই ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী সময়ের সঠিক ব্যবহার ও বরকত লাভের জন্য ফজরের পর ঘুমানো নয়, বরং কাজে মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

লেখক : বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, সাবেক ইমাম ও খতীব কদমতলী মাজার জামে মসজিদ সিলেট।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি বেড়ে ৪৪, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ

ফজরের পর ঘুমালে যে ক্ষতি হতে পারে

সময়: ০৫:৫১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

 

ঘুম আল্লাহর একটি মহান নেয়ামত। মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম অত্যন্ত জরুরি। জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো প্রয়োজন।

 

ইসলাম ও আধুনিক বিজ্ঞান উভয়ই ঘুমের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম অপরিহার্য। ইসলাম মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল রাখতে কাজ, ইবাদত ও বিশ্রামের মধ্যে সমন্বয়ের কথাই বলে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম এবং রাতকে করেছি আবরণ।’ (সুরা নাবা ৯-১০)

এই আয়াত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সঠিক ঘুমের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে। তবে সকালে, বিশেষ করে ফজরের নামাজের পর ঘুমানোতে ইসলাম বিরোধিতা করেছে। কারণ এ সময়টিকে কাজ এবং বরকতের সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য সকালে বরকত দান করুন।’ (তিরমিজি ১২১২) এই হাদিসের মাধ্যমে বোঝা যায়, ফজরের নামাজের পর কাজ বা ইবাদতের দিকে মনোযোগী হলে জীবনে বরকতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে, অতিরিক্ত ঘুম বা অলসতা বরকতের সুযোগ নষ্ট করে। বর্তমান জীবনে অনেকেই রাত জেগে বিনোদন বা অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় কাটায়, যা ফজরের নামাজ পালনকে বাধাগ্রস্ত করে এবং এতে বরকত হ্রাস পায়।

 

রাতে ঘুমানোর বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাতের প্রথম ভাগে ঘুমাও এবং শেষ ভাগে ইবাদতের জন্য জেগে ওঠো। কারণ রাতের শেষভাগের ইবাদত বেশি ফজিলতপূর্ণ।’ (সহিহ বুখারি ১১২০) অতএব, রাতের প্রথম ভাগে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। পৃথিবীর ইতিহাস সাক্ষী, সফল ব্যক্তিরা রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে ভোরবেলা উঠে নতুন উদ্যমে কাজ করেন। এ সম্পর্কে আবু উমামা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ঘুমানোর উদ্দেশ্যে পবিত্র অবস্থায় বিছানায় যায় এবং ঘুম না আসা পর্যন্ত আল্লাহর জিকির করে, সে যখন পার্শ্ব পরিবর্তন করবে, তার জন্য আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ প্রার্থনা করার সুযোগ দান করবেন।’ (তিরমিজি ৩৫২৬) ফজরের নামাজের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশেষ কিছু আমলের তাগিদ করেছেন। ওই সময় দোয়া-দরুদ, তসবিহ, তাহলিল, জিকির ও আল্লাহর স্মরণে কাটানোর জন্য উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, সূর্যোদয় পর্যন্ত নামাজের স্থানে বসে আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে, এরপর দুই রাকাত (ইশরাক) নামাজ আদায় করে, তার জন্য রয়েছে একটি হজ ও ওমরাহর পূর্ণ সওয়াব।’ (তিরমিজি ৫৮৬)

আরও পড়ুনঃ  ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগের জেরে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪

রাতে ঘুমানোর আগে আল্লাহর নাম স্মরণ করা এবং ইসতেগফার করা সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে আল্লাহর নাম স্মরণ না করে ঘুমায় এবং ফজরের সময় না জাগে, তার কানে শয়তান গিঁট বেঁধে দেয়।’ (সহিহ বুখারি ১১৪২) অতিরিক্ত ঘুম ও অলসতা উদ্বেগ, হতাশা এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে। তাই ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী সময়ের সঠিক ব্যবহার ও বরকত লাভের জন্য ফজরের পর ঘুমানো নয়, বরং কাজে মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

লেখক : বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, সাবেক ইমাম ও খতীব কদমতলী মাজার জামে মসজিদ সিলেট।