আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহ নগরের একটি ভাড়াবাসায় যুবক রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল (৪০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মাদকের আড্ডা, বাসা ছাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ এবং বাড়িওয়ালার সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ঘটনায় বাড়িওয়ালার চার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তাররা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)।
পিবিআই জানায়, প্রায় এক মাস আগে রুবেল নগরের ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকার একটি বাসায় ভাড়া ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে আড্ডা দিতেন এবং মাদক সেবন করতেন। এ কারণে বাড়ির মালিক পারুল তাকে পরবর্তী মাস থেকে বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি তা মানতে অস্বীকৃতি জানান।
তদন্তে জানা যায়, রোববার সকালে রুবেল বাড়িওয়ালা ও তার ছেলের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে ঘুম থেকে তোলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি বাড়িওয়ালাকে মারধর করেন এবং তার শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। পরে বাড়িওয়ালার চার ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে রুবেলের গলায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর তারা পালিয়ে যান।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চার ভাই জানিয়েছেন, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শ্লীলতাহানির অভিযোগের ক্ষোভ থেকেই তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এ তথ্য তদন্তের অংশ এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় এর সত্যতা নির্ধারিত হবে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে বাড়ির মালিক, তার তিন ছেলেসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
উল্লেখ্য, রোববার সকালে ময়মনসিংহ নগরের ছত্রিশবাড়ি কলোনির একটি ভাড়াবাসা থেকে রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নগরের রামকৃষ্ণ মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।
আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি 





















