মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন শীর্ষ বৈঠককে সামনে রেখে ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে বৃহৎ পরিসরের অস্ত্র ক্রয় ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট (ন্যাটো)।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ‘ন্যাটো সামিট ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি ফোরাম’-এ ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে এ ঘোষণা দেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্প যে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন, তারই প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন পরিকল্পনার আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থরপ গ্রুম্যান থেকে উন্নত নজরদারি ড্রোন এবং সুইডেনের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান সাব (Saab) থেকে অত্যাধুনিক সামরিক উড়োজাহাজ ক্রয় করবে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
মার্ক রুতে জানান, রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকি এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ—এই দুই বাস্তবতায় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্য ও কানাডা সম্মিলিতভাবে প্রতিরক্ষা ব্যয়ে আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বা প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় করেছে। ফলে মোট প্রতিরক্ষা ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৭০ বিলিয়ন ডলারে।
এদিকে, ইউক্রেন ও ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ইউরোপে যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের বিষয়েও জার্মানিসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
সম্মেলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্ককে যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন দেশটিকে পুনরায় সেই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে বিবেচনা করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ইউরোপের প্রতিরক্ষা কৌশলের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর এই নতুন অস্ত্র চুক্তি ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে। সাম্প্রতিক রুশ হামলার পর ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Reporter Name 






















