শফিকুল ইসলাম শফিক, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালপুরের বকশীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের (৮৫) দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অব অনার) ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশেদ আলীসহ কয়েকজনের আপত্তির কারণে গার্ড অব অনার দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের মদনেরচর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দেলোয়ার হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা। পথে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশেদ আলীসহ কয়েকজন তাঁদের গাড়ি আটকে গার্ড অব অনার না দেওয়ার জন্য আপত্তি জানান। পরে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন গার্ড অব অনার কার্যক্রম স্থগিত করে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নওশেদ আলী ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দেলোয়ার হোসেনকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে গার্ড অব অনারে আপত্তি জানান। নওশেদ আলীর বক্তব্যও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে যে, তাঁরা দেলোয়ার হোসেনকে ভুয়া মনে করেই বাধা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, দেলোয়ার হোসেনের পরিবারের পক্ষের দাবি, তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের MIS ও বেসামরিক গেজেটে তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর MIS নম্বর ০১৩৯০০০১৬৯৭ এবং বেসামরিক গেজেট নম্বর ১৪২৩১, ক্রমিক নম্বর ২৮০১।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান মিয়া নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি বলেন, গেজেট ও MIS-এ তালিকাভুক্ত একজন মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, সরকারি নথিপত্রে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিষ্কার করা উচিত।
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিকভাবে আরও যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 




















