
মিরু হাসান, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ায় সিলগালা করে দেওয়া অবকাশ নামের একটি অনিবন্ধিত আবাসিক হোটেলে অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শহরের তিনমাথা রেলগেট এলাকার ওই হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে ২০ জন নারী-পুরুষকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হোটেল পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি ১৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।
জানা গেছে, তিনমাথা রেলগেট সংলগ্ন আদর্শ কলেজ গেট এলাকার ‘হোটেল অবকাশ’ নামের ওই আবাসিক হোটেলটির কোনো বৈধ নিবন্ধন নেই। অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এর আগেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হোটেলটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের সেই সিলগালা পাশ কাটিয়ে অন্য পাশে নতুন একটি পকেট গেট তৈরি করে। এরপর বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে ভেতরে গোপনে অনৈতিক ব্যবসা ও মাদক সেবনের আসর চালিয়ে আসছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সদস্যরা হোটেলটি ঘেরাও করেন। পরে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় হোটেলের নতুন গেটের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন অভিযান পরিচালনাকারীরা। দীর্ঘ সময় ধরে হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ ও ছাদে তল্লাশি চালিয়ে পাশে অন্য একটি ভবনের ছাদ থেকে ১৪ জন নারী ও ৬ জন পুরুষসহ মোট ২০ জনকে আটক করা হয়। এ সময় সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী জব্দ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই হোটেলটিতে নানা রকম অনৈতিক কাজ চলছিল। প্রশাসন সিলগালা করার পরও তারা গোপনে এই ব্যবসা সচল রাখে। আমরা কেবল সাময়িক অভিযান নয়, বরং এই অনৈতিক আখড়াটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।
অভিযান শেষে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বগুড়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন অবৈধভাবে হোটেল পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নিবন্ধনহীন হোটেল সিলগালা করার পরও তা ভেঙে পুনরায় অবৈধভাবে চালু করায় ওই চারজনকে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জন নারী ও ২ জন পুরুষ। অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক রাখার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
Reporter Name 





















