
সাভার প্রতিনিধি
ঢাকার সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের চুনারচর এলাকায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ী ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা, মারধর এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় বসতবাড়িতে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর প্রাণনাশের আশঙ্কায় এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকায় থানায় অভিযোগ করতে বিলম্ব হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী মো. রাজীব (৩৬) অভিযোগে জানান, গত ২৮ নভেম্বর ২০২৫ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সৌরভ (২০) নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এ সময় তাঁরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। কারণ জানতে চাইলে রাজীব ও তাঁর স্ত্রী আছিয়া বিবিকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা চলে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরদিন ২৯ নভেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বাড়ির পেছনে রাজীবকে একা পেয়ে আবারও চাঁদার টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাঠের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর কয়েকজন অভিযুক্ত ইট দিয়ে তাঁর বাম চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। চিৎকার শুনে তাঁর স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। হামলার সময় রাজীবের কাছে থাকা ২২ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আহত রাজীবকে উদ্ধার করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার ডক্টরস ডায়াগনেস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে অভিযুক্তরা তাঁর বসতবাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক লুটপাট চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, লুট হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি ৩২ ইঞ্চি সনি এলইডি টেলিভিশন, আইপিএস ও ব্যাটারি, মোবাইল সার্ভিসিংয়ের যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৬০টি পুরোনো মোবাইল ফোন, এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি বাইসাইকেল, একটি ব্লেন্ডার মেশিন এবং নগদ ৩৭ হাজার টাকা। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
রাজীব অভিযোগ করেন, চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে লুটপাটের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে এলাকা থেকে বিতাড়িত করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় আত্মগোপনে থাকায় অভিযোগ দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্বাসউদ্দীন বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাদীপক্ষ জমিটি বিক্রি করেছে। তবে তারা দাবি করছেন, বিক্রি করা জমির মধ্যে থাকা বাড়িটির মালিকানা তাদেরই। তদন্তে এ পর্যন্ত চাঁদাবাজির কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Reporter Name 





















