Dhaka ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
রংপুরে স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে টেনে নামাবেন, আর রাজনীতি করব না” ‎— কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান কালিয়াকৈরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল শাহজীবাজার–গ্যাসফিল্ড সড়কে স্বস্তি, বাদশা কোম্পানির উদ্যোগে ভাঙা সড়কের গর্ত ভরাট, নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা উচ্ছেদের পরও থামেনি জুয়ার কারবার, আমবাগানে ওসমানের নতুন আস্তানা—গ্রেপ্তার ৬ রামুতে ট্রাকের চেসিসের গোপন গাদামে মিলল ১ লাখ ৩৮ হাজার ইয়াবা, আটক ১ টেকনাফে কোস্ট গার্ডের পৃথক ৩ অভিযানে ১৪ কেজি আইস, বিদেশি মদ ও ৫ হাজার ইয়াবা জব্দ কালিয়াকৈরে কুকুরের কামড়ে অতিষ্ঠ পথচারী ও শিক্ষার্থীরা কালীগঞ্জের মথুরেশপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বিটিভির লোগো পরিবর্তন নয়; দরকার দায়িত্বশীল গণমাধ্যমে রূপান্তর
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

স্কুল প্রাঙ্গণে রাজনীতির রক্তচক্ষু : পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা শিকেয়!

  • সাকিব আহসান
  • সময়: ০৭:০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ২১৭ Time View

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন একসময় ছিল জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চার স্থান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির অঙ্গন সেই শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করেছে ভয়ানকভাবে। বিশেষ করে বিগত সরকার যখন স্কুল পর্যায়ে ছাত্রপরিষদ বা নির্বাচনের আয়োজন করে, তখনই শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে জড়ানোর এক নতুন দিগন্ত খুলে যায় — যা পরিণত হয় বিভাজন, হিংসা ও দলীয় আনুগত্যের প্রতিযোগিতায়।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার এ যাবৎ ঘটে যাওয়া বেশিরভাগ সংঘাতে স্কুলপড়ুয়ারাই জড়িয়ে ছিল। গতরাতে একটি রাজনৈতিক দলের দফায় দফায় সংঘর্ষ ‘স্কুল প্রাঙ্গণে রাজনীতি প্রবেশের প্রতিবর্তী ক্রিয়া বা রিফ্লেক্স অ্যাকশন বৈ কিছুই নয়।

বিদ্যালয় হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও নাগরিক চেতনা গঠনের প্রথম ধাপ। সেখানে রাজনৈতিক বিভাজন ঢুকে পড়লে শিক্ষা হারায় তার মূল লক্ষ্য মানুষ তৈরি করা। বরং ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীরা শেখে কে “আমাদের দল”, কে “ওদের দল”; বিরোধী মতকে সহ্য না করার সংস্কৃতি জন্ম নেয় অজান্তেই। ফলাফল—বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার জায়গায় দেখা যায় রক্তচক্ষু, দলবাজি আর শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের অবনতি।

এই প্রক্রিয়ার ভয়াবহ দিক হলো বিদ্যালয়ে যে পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার পাঠ শেখানো উচিত, তা উল্টোভাবে বিকৃত হচ্ছে। শিশু-কিশোররা রাজনীতির নামে শিখছে ক্ষমতার কৌশল, দলীয় ভাষ্য আর প্রতিপক্ষ দমন। শিক্ষকদেরও অনেকে পড়ছেন চাপের মুখে কাকে সমর্থন করবেন, কাকে বিরোধিতা করবেন। ফলে শিক্ষার পরিবেশ হয়ে উঠছে ভয় ও বিভেদের কেন্দ্র।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতি থেকে সচেতনভাবে দূরে রাখা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ও বিশ্লেষণী মস্তিষ্ক গড়ে তুলতে পারে। অথচ আমাদের দেশে সেই স্বাধীন চিন্তার জায়গাটিই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

এখন সময় এসেছে এই দুষ্টচক্র ভাঙার। স্কুলে রাজনৈতিক নির্বাচনের নামে বিভাজন সৃষ্টির এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষা হতে হবে মানবিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সহমর্মিতার পাঠশালা। শিশুরা যেন প্রথমে মানুষ হতে শেখে—দলীয় সৈনিক নয়।

আরও পড়ুনঃ  শাহজালাল বিমানবন্দরে ৪০ ভরি স্বর্ণালংকারসহ আটক ২

শিক্ষাঙ্গন যদি আবারও মুক্ত চিন্তা, নৈতিকতা ও সহনশীলতার আলয় হয়ে উঠতে পারে, তবেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে আলোকিত ও ঐক্যবদ্ধ। অন্যথায়, স্কুল প্রাঙ্গণের রাজনীতি একদিন আমাদের জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক শিকড়কে ম্লান করে দেবে যার মূল্য দিতে হবে পুরো সমাজকেই।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

রংপুরে স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

স্কুল প্রাঙ্গণে রাজনীতির রক্তচক্ষু : পরমতসহিষ্ণুতা, সহনশীলতা শিকেয়!

সময়: ০৭:০৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

 

সাকিব আহসান প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গন একসময় ছিল জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চার স্থান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির অঙ্গন সেই শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করেছে ভয়ানকভাবে। বিশেষ করে বিগত সরকার যখন স্কুল পর্যায়ে ছাত্রপরিষদ বা নির্বাচনের আয়োজন করে, তখনই শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে জড়ানোর এক নতুন দিগন্ত খুলে যায় — যা পরিণত হয় বিভাজন, হিংসা ও দলীয় আনুগত্যের প্রতিযোগিতায়।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার এ যাবৎ ঘটে যাওয়া বেশিরভাগ সংঘাতে স্কুলপড়ুয়ারাই জড়িয়ে ছিল। গতরাতে একটি রাজনৈতিক দলের দফায় দফায় সংঘর্ষ ‘স্কুল প্রাঙ্গণে রাজনীতি প্রবেশের প্রতিবর্তী ক্রিয়া বা রিফ্লেক্স অ্যাকশন বৈ কিছুই নয়।

বিদ্যালয় হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও নাগরিক চেতনা গঠনের প্রথম ধাপ। সেখানে রাজনৈতিক বিভাজন ঢুকে পড়লে শিক্ষা হারায় তার মূল লক্ষ্য মানুষ তৈরি করা। বরং ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীরা শেখে কে “আমাদের দল”, কে “ওদের দল”; বিরোধী মতকে সহ্য না করার সংস্কৃতি জন্ম নেয় অজান্তেই। ফলাফল—বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার জায়গায় দেখা যায় রক্তচক্ষু, দলবাজি আর শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের অবনতি।

এই প্রক্রিয়ার ভয়াবহ দিক হলো বিদ্যালয়ে যে পরমতসহিষ্ণুতা ও সহনশীলতার পাঠ শেখানো উচিত, তা উল্টোভাবে বিকৃত হচ্ছে। শিশু-কিশোররা রাজনীতির নামে শিখছে ক্ষমতার কৌশল, দলীয় ভাষ্য আর প্রতিপক্ষ দমন। শিক্ষকদেরও অনেকে পড়ছেন চাপের মুখে কাকে সমর্থন করবেন, কাকে বিরোধিতা করবেন। ফলে শিক্ষার পরিবেশ হয়ে উঠছে ভয় ও বিভেদের কেন্দ্র।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনীতি থেকে সচেতনভাবে দূরে রাখা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ও বিশ্লেষণী মস্তিষ্ক গড়ে তুলতে পারে। অথচ আমাদের দেশে সেই স্বাধীন চিন্তার জায়গাটিই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

এখন সময় এসেছে এই দুষ্টচক্র ভাঙার। স্কুলে রাজনৈতিক নির্বাচনের নামে বিভাজন সৃষ্টির এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। শিক্ষা হতে হবে মানবিকতা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সহমর্মিতার পাঠশালা। শিশুরা যেন প্রথমে মানুষ হতে শেখে—দলীয় সৈনিক নয়।

আরও পড়ুনঃ  শহীদদের স্বপ্ন পূরণে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষাঙ্গন যদি আবারও মুক্ত চিন্তা, নৈতিকতা ও সহনশীলতার আলয় হয়ে উঠতে পারে, তবেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে আলোকিত ও ঐক্যবদ্ধ। অন্যথায়, স্কুল প্রাঙ্গণের রাজনীতি একদিন আমাদের জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক শিকড়কে ম্লান করে দেবে যার মূল্য দিতে হবে পুরো সমাজকেই।