
অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া,
একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির চেতনার অনন্য প্রতীক। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পালন করা হয়। ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির সকালে ঢাকাস্থ মানিকগঞ্জ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ রফিক উদ্দিন আহমেদ-এর বাড়ির আঙিনায়, বলধড়া পারিল, সিংগাইর, মানিকগঞ্জে অনুষ্ঠিত প্রভাতফেরী ও আলোচনা সভা ছিল ইতিহাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা প্রভাতফেরীতে অংশগ্রহণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আলমাছ উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম খান এবং সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন। উদ্বোধনী বক্তব্যে সভাপতি ভাষা আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি। শুভেচ্ছা বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মফতেজুর রহমান খান বিবেক ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে একই সূত্রে গাঁথা সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কার্যকরী পরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম, সাবেক অধ্যক্ষ, সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ, মানিকগঞ্জ। তিনি ৭১ টেলিভিশন-এ সাক্ষাৎকারে শহীদ রফিক উদ্দিন আহমেদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ ও যথাযথ পরিচর্যার জন্য সরকার ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম খান তাঁর বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বক্তারা সামগ্রিকভাবে মানিকগঞ্জবাসীর ঐক্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, মোঃ সায়েদুর বাসার খান মিলন, মোঃ জিসানুর রহমান রনি, আবু মোহাম্মদ জামান লিটন, আব্দুল মালেক ভেন্ডার, মোঃ জাকির হোসেন, মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
এই প্রভাতফেরী ও আলোচনা সভা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ছিল ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার পুনর্নবীকরণ। শহীদ রফিকের স্মৃতিবিজড়িত আঙিনায় দাঁড়িয়ে অংশগ্রহণকারীরা উপলব্ধি করেন—ভাষা আন্দোলনের চেতনা কেবল অতীতের গৌরব নয়, এটি আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক।

আজকের প্রজন্মের কাছে এই আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেয়—নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ভালোবাসা এবং সংরক্ষণ করা জাতীয় দায়িত্ব। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আমাদের সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ধারণ করে এমন স্থানগুলো কেবল ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, এগুলো জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তাই এসব স্থানের সংরক্ষণ, গবেষণা এবং যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের সকলের দায়িত্ব। একুশের এই চেতনাই আমাদের ঐক্য, মানবিকতা ও দেশপ্রেমকে আরও সুদৃঢ় করবে।
লেখক: অ্যাডভোকেট মোঃ কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ।
Reporter Name 


























