Dhaka ০৯:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
শরিফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসায় অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গ্রীন রোড শো মানুষকে পরিবেশ সচেতন করে তুলবে ভালো বেতনের চাকুরির দেওয়ার প্রলোভন দেকিয়ে নোয়াখালীর যুবক কে কালীগঞ্জে ডেকে এনে অপহরণ করে মুক্তি পনের জন্য নির্যাতন চার যুবক আটক বুড়িচংয়ে ৩ হাজার ৩৩০ কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন মরিচ ক্ষেতে ১০ ফুট লম্বা গাঁজা গাছ উদ্ধার, কৃষকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি জামালপুর বিএনপির উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালি অনুষ্ঠিত- জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে জুলাই যোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন। আদর্শিক ও সাংগঠনিক উন্নয়নে মণিরামপুরে ইসলামী আন্দোলনের তালিম কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ‎সুপার ট্যালেন্টপুল বৃত্তি অর্জন করে পুরাইকলা সবুজ বাংলা একাডেমির মুখ উজ্জ্বল করল সিদরাতুল মুনতাহা লামিয়া আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে কাজের প্রত্যয় কালিগঞ্জ থানায় নতুন ওসি শহিদুল ইসলাম
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

রক্তে রাঙানো ৫ই মার্চ: বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার মহড়া

  • Reporter Name
  • সময়: ০২:২০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ১২৬ Time View

 

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ:


১৯৭১ সালের মার্চ মাস ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অগ্নিঝরা সময়। সেই উত্তাল দিনগুলোর মধ্যে ৫ই মার্চ ছিল আন্দোলনের এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ। এদিন একদিকে যেমন ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বর্বরোচিত দমন-পীড়ন, অন্যদিকে ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আপসহীন নেতৃত্ব এবং শৃঙ্খল ভাঙার অদম্য শপথ।

৫ই মার্চ ছিল বঙ্গবন্ধুর ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের পঞ্চম দিন। ঢাকাসহ সারা দেশ তখন কার্যত অচল। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ হয়ে যায়। এদিন বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাঙালি ঘরে ফিরবে না। তিনি ঘোষণা করেন, “বাংলার মানুষ আর শোষিত হতে চায় না, তারা মুক্তি চায়।” তাঁর এক ডাকে সারা দেশের মানুষ খাজনা ও ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে পাকিস্তান সরকারকে পঙ্গু করে দেয়। ৫ই মার্চের সেই সুদৃঢ় অবস্থানই প্রমাণ করেছিল যে, পূর্ব পাকিস্তানের প্রকৃত শাসনভার তখন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।

এই দিনটি কেবল আন্দোলনের ছিল না, ছিল বিয়োগান্তক ঘটনারও। টঙ্গীতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে বেশ কয়েকজন শাহাদাত বরণ করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতেও জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়। নিজের দেশের মানুষের ওপর এমন নৃশংসতায় ক্ষুব্ধ বঙ্গবন্ধু কঠোর ভাষায় সামরিক জান্তার সমালোচনা করেন এবং দেশজুড়ে শোক পালনের ডাক দেন। রাজপথ তখন বাঙালির রক্তে রঞ্জিত, আর সেই রক্তই স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দিয়েছিল।

৫ই মার্চ ছিল মূলত এক বিশাল মহড়া। রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের প্রস্তুতি এদিন থেকেই তুঙ্গে ওঠে। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, সরাসরি যুদ্ধের ডাক দেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। ছাত্র-জনতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবার দৃষ্টি ছিল বঙ্গবন্ধুর পরবর্তী নির্দেশের দিকে। বিদেশি গণমাধ্যমগুলো বুঝতে পারছিল, একটি নতুন মানচিত্রের জন্ম হতে চলেছে।

আরও পড়ুনঃ  চন্দনাইশে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

৫ই মার্চ ১৯৭১ ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বঙ্গবন্ধুর অদম্য সাহস আর বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ সেদিন প্রমাণ করেছিল যে, বন্দুকের নল দিয়ে একটি জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে দমানো সম্ভব নয়। এটি ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে লাল-সবুজের পতাকার দিকে ধাবিত হওয়ার এক বলিষ্ঠ পদযাত্রা।

তথ্যসূত্র:

  • আইবিএননিউজ

  • হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

শরিফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসায় অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

রক্তে রাঙানো ৫ই মার্চ: বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতার মহড়া

সময়: ০২:২০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

 

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ:


১৯৭১ সালের মার্চ মাস ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অগ্নিঝরা সময়। সেই উত্তাল দিনগুলোর মধ্যে ৫ই মার্চ ছিল আন্দোলনের এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ। এদিন একদিকে যেমন ছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বর্বরোচিত দমন-পীড়ন, অন্যদিকে ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আপসহীন নেতৃত্ব এবং শৃঙ্খল ভাঙার অদম্য শপথ।

৫ই মার্চ ছিল বঙ্গবন্ধুর ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের পঞ্চম দিন। ঢাকাসহ সারা দেশ তখন কার্যত অচল। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সরকারি অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব বন্ধ হয়ে যায়। এদিন বঙ্গবন্ধু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত বাঙালি ঘরে ফিরবে না। তিনি ঘোষণা করেন, “বাংলার মানুষ আর শোষিত হতে চায় না, তারা মুক্তি চায়।” তাঁর এক ডাকে সারা দেশের মানুষ খাজনা ও ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করে দিয়ে পাকিস্তান সরকারকে পঙ্গু করে দেয়। ৫ই মার্চের সেই সুদৃঢ় অবস্থানই প্রমাণ করেছিল যে, পূর্ব পাকিস্তানের প্রকৃত শাসনভার তখন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।

এই দিনটি কেবল আন্দোলনের ছিল না, ছিল বিয়োগান্তক ঘটনারও। টঙ্গীতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র শ্রমিকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে বেশ কয়েকজন শাহাদাত বরণ করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতেও জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়। নিজের দেশের মানুষের ওপর এমন নৃশংসতায় ক্ষুব্ধ বঙ্গবন্ধু কঠোর ভাষায় সামরিক জান্তার সমালোচনা করেন এবং দেশজুড়ে শোক পালনের ডাক দেন। রাজপথ তখন বাঙালির রক্তে রঞ্জিত, আর সেই রক্তই স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দিয়েছিল।

৫ই মার্চ ছিল মূলত এক বিশাল মহড়া। রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের প্রস্তুতি এদিন থেকেই তুঙ্গে ওঠে। বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন, সরাসরি যুদ্ধের ডাক দেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে। ছাত্র-জনতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবার দৃষ্টি ছিল বঙ্গবন্ধুর পরবর্তী নির্দেশের দিকে। বিদেশি গণমাধ্যমগুলো বুঝতে পারছিল, একটি নতুন মানচিত্রের জন্ম হতে চলেছে।

আরও পড়ুনঃ  মধ্যনগরে অসহায় পরিবারের ওপর হামলা, ১ জন গুরুতর আহত; ন্যায়বিচারের দাবি ভুক্তভোগীদের

৫ই মার্চ ১৯৭১ ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বঙ্গবন্ধুর অদম্য সাহস আর বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ সেদিন প্রমাণ করেছিল যে, বন্দুকের নল দিয়ে একটি জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে দমানো সম্ভব নয়। এটি ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে লাল-সবুজের পতাকার দিকে ধাবিত হওয়ার এক বলিষ্ঠ পদযাত্রা।

তথ্যসূত্র:

  • আইবিএননিউজ

  • হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ