Dhaka ০৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরনাম:
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি হ্রাসে প্রয়োজন পূর্ব সতর্কীকরণ ও প্রাথমিক ব্যবস্থার উন্নয়ন পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত না করায় বঞ্চনার অভিযোগ ও ক্ষোভ বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি, বাঁশখালীতে আমীরে জামায়াত নিকলী থানার হাজতে পরোয়ানাভুক্ত আসামির মৃত্যু, আইনগত তদন্ত শুরু সারাদিনের প্রবল বর্ষণে কলকাতার জনজীবন বিপর্যস্ত, পথচলতি মানুষ বিপাকে ঠাকুরগাঁওয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে মায়ের জানাজা আলহামদুলিল্লাহ,  ​মানবতার সেবায় আরেকটি ছোট্ট উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন হলো ভারী বর্ষণে খুলশীর লালখান বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সংসদ সদস্য: সাঈদ আল নোমান নেত্রকোনা পূর্বধলায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষে আহত ১০, থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা; গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ ঠাকুরগাঁওয়ে বুকসমান পানি পেরিয়ে মায়ের জানাজা
বিজ্ঞাপন :
জেলা-উপজেলা ও বিভাগীয় চীফ নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতায় আগ্রহীরা দ্রুত যোগাযোগ করুন। পরীক্ষামূলক সম্প্রচার ও নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন । সম্পদক-ইমদাদুল হক তৈয়ব-01711576603, সিভি পাঠান এই ইমেইলে- editor.manobjibon@gmail.com

নড়াইলের কালিয়ায় বদলির আদেশের পরও কর্মস্থল ছাড়ছেন না পিআইও মোস্তফা কামাল, অভিযোগে ক্ষোভ

  • Reporter Name
  • সময়: ০৮:৫০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ৬১ Time View

 

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:


নড়াইলের কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোস্তফা কামাল সরকারি বদলির নির্দেশ পাওয়ার পরও কর্মস্থল ছাড়ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প সভাপতি ও ঠিকাদারদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সচিবালয়ের উপসচিব (ত্রাণ প্রশাসন) সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. মোস্তফা কামালকে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত এই কর্মকর্তা বদলির আদেশ হওয়ার পরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে জুন মাস পর্যন্ত বর্তমান কর্মস্থলে থাকার চেষ্টা করছেন। এতে বদলির পর স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়া উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে পূর্বের প্রচলিত নিয়ম পরিবর্তন করে নতুন শর্ত আরোপ করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর সভাপতির ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিল প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়। পাশাপাশি প্রতি লাখ টাকায় ১৫ হাজার টাকা ঘুষ ছাড়া বিলের চেকে স্বাক্ষর করতেন না বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, কিছু এলাকায় তিনি নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিয়েছেন। এতে প্রকৃত শ্রমিক ও স্থানীয় অংশগ্রহণকারীরা বঞ্চিত হয়েছেন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের বিল পরিশোধেও গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরও বিল ছাড় না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ১৫ শতাংশ নগদ অর্থ দিতে বাধ্য হন প্রকল্প সভাপতিরা।

এছাড়া, যেসব প্রকল্পে ভ্যাট ও আয়কর প্রযোজ্য নয়, সেসব ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়কর দেখিয়ে মোট ১৫ শতাংশ অর্থ কেটে রেখে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুনঃ  সাঁওতাল শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি না করার অভিযোগ

তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ১০ মে ২০২৬ তারিখে রিলিজ চেয়ে আবেদন করেছি। আমাকে রিলিজ দিলে চলে যাব। এছাড়া ১৫ শতাংশ ঘুষ আদায়সহ অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বদলির আদেশ হওয়ার পরও কেন তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে বর্তমান উপজেলায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :
জনপ্রিয় নিউজ

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি হ্রাসে প্রয়োজন পূর্ব সতর্কীকরণ ও প্রাথমিক ব্যবস্থার উন্নয়ন

নড়াইলের কালিয়ায় বদলির আদেশের পরও কর্মস্থল ছাড়ছেন না পিআইও মোস্তফা কামাল, অভিযোগে ক্ষোভ

সময়: ০৮:৫০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

 

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:


নড়াইলের কালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মোস্তফা কামাল সরকারি বদলির নির্দেশ পাওয়ার পরও কর্মস্থল ছাড়ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রকল্প সভাপতি ও ঠিকাদারদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ সচিবালয়ের উপসচিব (ত্রাণ প্রশাসন) সানজিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. মোস্তফা কামালকে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত এই কর্মকর্তা বদলির আদেশ হওয়ার পরও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে জুন মাস পর্যন্ত বর্তমান কর্মস্থলে থাকার চেষ্টা করছেন। এতে বদলির পর স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালিয়া উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে পূর্বের প্রচলিত নিয়ম পরিবর্তন করে নতুন শর্ত আরোপ করেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর সভাপতির ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিল প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়। পাশাপাশি প্রতি লাখ টাকায় ১৫ হাজার টাকা ঘুষ ছাড়া বিলের চেকে স্বাক্ষর করতেন না বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি জানান, কিছু এলাকায় তিনি নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নিয়েছেন। এতে প্রকৃত শ্রমিক ও স্থানীয় অংশগ্রহণকারীরা বঞ্চিত হয়েছেন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) ও গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-কাবিটা) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের বিল পরিশোধেও গড়িমসির অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরও বিল ছাড় না দিয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে ১৫ শতাংশ নগদ অর্থ দিতে বাধ্য হন প্রকল্প সভাপতিরা।

এছাড়া, যেসব প্রকল্পে ভ্যাট ও আয়কর প্রযোজ্য নয়, সেসব ক্ষেত্রেও ১০ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়কর দেখিয়ে মোট ১৫ শতাংশ অর্থ কেটে রেখে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুনঃ  হালদা নদীর মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানে সেলাই মেশিন বিতরণ

তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ১০ মে ২০২৬ তারিখে রিলিজ চেয়ে আবেদন করেছি। আমাকে রিলিজ দিলে চলে যাব। এছাড়া ১৫ শতাংশ ঘুষ আদায়সহ অন্যান্য অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বদলির আদেশ হওয়ার পরও কেন তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে বর্তমান উপজেলায় অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।