মোঃ সারোয়ার হোসেন অপু,
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মোয়াজ্জেম মো. মাহফুজ রহমানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক থেকে সরকারি টাকা উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সুধী সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলা মডেল মসজিদের হিসাব পরিচালনার জন্য একটি নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ওই হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে পদাধিকারবলে উপজেলা মডেল মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মোয়াজ্জেম মো. মাহফুজ রহমান কোনো প্রকার অনুমোদন বা পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই জালিয়াতির আশ্রয় নেন। তিনি ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের একটি চেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) ভুয়া স্বাক্ষর বসিয়ে সেটি ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন।
তবে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্দেহ হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে চেকটির স্বাক্ষর যাচাই করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ইউএনও’র স্বাক্ষরটি ভুয়া ও জাল বলে প্রমাণিত হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা প্রদান না করে বিষয়টি স্থগিত রাখে এবং উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করে।
ঘটনাটি প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মসজিদের মতো একটি পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থেকে একজন মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে এমন নৈতিক স্খলন ও জালিয়াতির অভিযোগে স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝেও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, চেকের স্বাক্ষরে বড় ধরনের অসঙ্গতি ও জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ায় টাকা উত্তোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন,
“স্বাক্ষর জালের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। সরকারি টাকা ও চেকে স্বাক্ষর জালিয়াতি একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। মডেল মসজিদের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে এ ধরনের জালিয়াতির চেষ্টার প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
অভিযুক্ত মোয়াজ্জেম মো. মাহফুজ রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকে তিনি নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
Reporter Name 





















